শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বিদেশে যাওয়ার আগে একবার পড়ুন

ইতালির স্বপ্নে মিশরে বন্দি ৪ বাংলাদেশি: রুদ্ধশ্বাস উদ্ধারকাহিনীর নেপথ্যে

আফছার হোসাইন, মিশর প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৬ এম
ইতালির স্বপ্নে মিশরে বন্দি ৪ বাংলাদেশি: রুদ্ধশ্বাস উদ্ধারকাহিনীর নেপথ্যে

ঠিক দুই বছর আগের কথা। হঠাৎ একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন এলো। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে এক ব্যক্তির হাউমাউ করে কান্নার আওয়াজ।
​আমি কিছুটা থতমত খেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “আপনি কে? কাঁদছেন কেন? উত্তরে ওপাশ থেকে ভাঙা গলায় ভেসে এলো, “আমার নাম আবুল কাসেম। বাড়ি কিশোরগঞ্জ, এখন মিশরের আশরা রামাদান থেকে বলছি। অনেক চেষ্টা করে আপনার নম্বরটা পেয়েছি ভাই। আল্লাহর দোহাই লাগে, আমাদের বাঁচান!”
​উদ্বিগ্ন হয়ে জানতে চাইলাম, আসলে কী হয়েছে?

তিনি যা জানালেন, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। আবুল কাসেম কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার সরারচর ইউনিয়ন পরিষদে চাকরি করতেন। একই জেলার নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত ছিলেন মোহাম্মদ শরীফ মিয়া। এই শরীফ মিয়া ও তার স্ত্রী ফুলনাহার বেগম, বাজিতপুরের আবুল কাসেম এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা মোঃ জামান মিয়া—এই চারজনকে ইতালি পাঠানোর টোপ দেয় এক দালাল চক্র।
​মিশরে বসবাসরত কারপাশা জালালপুর গ্রামের জহির মিয়া ও মিনা বেগম নামের এক দালাল দম্পতি তাদের ইতালি পাঠানোর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মিশরে নিয়ে আসে। কিন্তু মিশরে নামার পর থেকেই বদলে যায় দৃশ্যপট। দীর্ঘ তিন মাস ধরে একটি অন্ধকার ঘরে তাদের বন্দি করে রাখা হয়।

সবচেয়ে জঘন্য বিষয় হলো, শরীফ মিয়ার স্ত্রী ফুলনাহার বেগমকে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে আনা হলেও, তাকে দিয়ে ওই দালালের বাসায় জোরপূর্বক গৃহকর্মীর কাজ করানো হচ্ছিল।
​ফোনে কাসেম আকুতি জানালেন, “আমরা ৪ জন এখানে নরকযন্ত্রণা ভোগ করছি। আমাদের দেশে ফিরতে সাহায্য করুন।
​আমি তাদের বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিলে কাসেম জানান, তাদের কাছে দূতাবাসের কোনো নম্বর নেই। এমনকি নিজেদের মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অত্যন্ত গোপনে অন্য একজনের ফোন থেকে সুযোগ পেয়ে তিনি আমাকে এই কলটি করেছেন। এরপর দালালের নাম ও ফোন নম্বরটি দিয়ে তিনি দ্রুত লাইন কেটে দেন।
​

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

কিছুক্ষণ পর আমার হোয়াটসঅ্যাপে বাংলাদেশ থেকে ওই দালালের পাসপোর্টের কপি, ছবি, ফেসবুক আইডি এবং ভুক্তভোগীদের পাঠানো দুটি ভিডিও আসে। ভিডিওগুলোতে তাদের অমানবিক ও অসহায় জীবনের করুণ চিত্র দেখে চোখ ভিজে আসছিল।
​দালালের মুখোমুখি: সেদিনই রাতে আমি সরাসরি ওই দালালকে ফোন করি। তিনজনের নাম উল্লেখ করে জানতে চাই, “এদের চেনেন? প্রথমে সম্পূর্ণ অস্বীকার করলেও জেরার মুখে একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, “হ্যাঁ, আমি এনেছি। ওদের গার্মেন্টসে চাকরি দিয়েছি। এরপর আর কথা না বাড়িয়ে উল্টো আমাকে ধমক দিয়ে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে বহুবার চেষ্টা করেও তাকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে আমি বিষয়টি মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের তৎকালীন শ্রম কাউন্সিলর জনাব ইসমাইল হোসেনকে জানাই এবং প্রমাণসহ দালালের নম্বর দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করি।

দূতাবাস থেকে কাসেমের সাথে যোগাযোগ করে তাদের অফিসে আসতে বলা হয়। কিন্তু কাসেম জানান, কড়া নজরদারির কারণে তিনি আসতে পারছেন না, তবে তার স্ত্রীকে পাঠাবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, দালালের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে তার স্ত্রী শ্রম কাউন্সিলরের সামনে গিয়ে ঘটনার সমস্ত কিছু অস্বীকার করেন।

​হুমকি ও সামাজিক মাধ্যমে লড়াই- পরিস্থিতি জটিল দেখে আমি কিশোরগঞ্জের স্থানীয় কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপে দালালের ছবি ও ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে একটি পোস্ট করি। মুহূর্তেই পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং পক্ষে-বিপক্ষে নানা মন্তব্য আসতে শুরু করে। একপর্যায়ে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা আমাকে ফোন করে পোস্টটি মুছে ফেলার জন্য হুমকিও দেন। কিন্তু সত্যের পক্ষে থাকায় আমি পোস্টটি সরাইনি।

এর পরদিনই নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনাটি। দালালের ফোন থেকেই কাসেম আমাকে কল করে হাপাচ্ছেন। বললেন, “স্যার, দালাল আমাদের আগামীকালই দেশে পাঠিয়ে দেবে বলেছে। আপনি দয়া করে ফেসবুকের পোস্টটি ডিলিট করে দিন।”
​বুঝতে পারলাম, সামাজিক মাধ্যমের চাপ এবং দূতাবাসের তৎপরতায় দালাল চক্র ভয় পেয়ে গেছে।

পরদিন বিমানবন্দর থেকে কাসেম আবার ফোন করলেন। আবেগপ্লুত গলায় বললেন, “স্যার, আমরা বিমানে উঠছি। দেশে ফিরে যাচ্ছি। আপনার উসিলায় আমরা নতুন জীবন পেলাম। আপনি দেশে আসলে শুধু একবার দেখা করে সালাম করতে চাই।
​ইতি কথা: কয়েক মাস পর আমি যখন বাংলাদেশে যাই, কাসেম মেসেঞ্জারে বারবার দেখা করার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সময়ের তীব্র স্বল্পতায় আমার আর তার সাথে দেখা করা হয়ে ওঠেনি।।আজ হঠাৎ ফেসবুকে কাসেম ও তার পরিবারের হাসিমুখের একটি ছবি চোখের সামনে ভেসে উঠল। আর তাতেই মনে পড়ে গেল দুই বছর আগের সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা। মনে হলো, এই গল্পটি আবারও সবাইকে জানানো উচিত।।বিদেশে সুন্দর ভবিষ্যতের রঙিন স্বপ্ন দেখিয়ে এই মানব পাচারকারীরা আজও অসংখ্য নিরীহ মানুষকে প্রতারণার জালে ফেলছে। অনেকেই হারাচ্ছেন তাদের সারাজীবনের সঞ্চয়, সম্মান, স্বাধীনতা-এমনকি নিজের মূল্যবান জীবনও।
​সতর্কবার্তা: প্রবাসে যাওয়ার আগে কোনো দালালের খপ্পরে না পড়ে, সবসময় সরকারিভাবে অনুমোদিত ও বৈধ পথ বেছে নিন। মনে রাখবেন, আপনার একটি অসচেতন সিদ্ধান্ত শুধু আপনার নয়, একটি পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ চিরতরে অন্ধকারে ঠেলে দিতে পারে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক