শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

দূতাবাসের ফোন আছে, সাড়া নেই

আফাজ জনি প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৬:২২ পিএম
দূতাবাসের ফোন আছে, সাড়া নেই

বিদেশের মাটিতে একটি দেশের দূতাবাস রাষ্ট্রের মুখ। একজন প্রবাসী যখন বিপদে পড়েন, পাসপোর্ট হারান, আইনি জটিলতায় পড়েন কিংবা কোনো তথ্য জানতে চান, তখন তাঁর প্রথম আশ্রয় হওয়ার কথা নিজের দেশের দূতাবাস। কিন্তু স্পেনে বসবাসরত হাজারো বাংলাদেশির কাছে সেই আশ্রয়স্থল যেন দিন দিন একটি নীরব ভবনে পরিণত হয়েছে—যেখানে ফোন আছে, কিন্তু সাড়া নেই।

মাদ্রিদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের অফিসিয়াল টেলিফোন নম্বরে দিনের পর দিন ফোন করেও কোনো সাড়া না পাওয়ার অভিযোগ এখন আর নতুন নয়। প্রবাসীদের ভাষ্য, ফোন বাজে, কল সংযুক্ত হয়, কিন্তু ওপাশে কেউ সাড়া দেন না। অনেকে টানা কয়েক দিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহ ধরে অফিস চলাকালে ফোন করেও ব্যর্থ হয়েছেন। ডিজিটাল যুগে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করতে না পারা শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতার পরিচয় নয়; এটি নাগরিক সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
একসময় অন্তত দূতাবাসের ফোনে সাড়া মিলত। ২০১৬ সালে একই বিষয়ে লেখার সময় একজন স্প্যানিশ কর্মচারী ফোন রিসিভ করে জানিয়েছিলেন, বাংলা ভাষাভাষী কর্মকর্তা নাস্তার জন্য বাইরে আছেন। অর্থাৎ তখন অন্তত ফোনটি কেউ ধরতেন। কিন্তু আজ পরিস্থিতি আরও হতাশাজনক। এখন অনেকের অভিযোগ, ফোন ধরার মতো কাউকেই পাওয়া যায় না। এমন বাস্তবতায় প্রবাসীদের প্রশ্ন, দূতাবাসের টেলিফোন নম্বরটি কি কেবল প্রদর্শনের জন্য?

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এই ভোগান্তির একটি বাস্তব উদাহরণ বার্সেলোনায় বসবাসরত জসিম উদ্দিনের ঘটনা। তিনি জানান, পাসপোর্টে একটি সংযুক্তি করতে কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন, তা জানার জন্য প্রায় এক মাস ধরে মাদ্রিদে বাংলাদেশ দূতাবাসের অফিসিয়াল নম্বরে অসংখ্যবার ফোন করেছেন। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে শেষ পর্যন্ত শুধু তথ্য সংগ্রহের জন্যই তাঁকে মাদ্রিদে যেতে হয়। এখন প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে একই কাজ সম্পন্ন করতে তাঁকে আবারও মাদ্রিদে যেতে হবে।

জসিম উদ্দিনের ঘটনাটি ব্যতিক্রম নয়; বরং স্পেনে বসবাসরত বহু বাংলাদেশির নিত্যদিনের বাস্তবতা। দূতাবাসে একটি ফোনকলের উত্তর না পাওয়ায় অনেক প্রবাসীকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতেই শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এর আর্থিক প্রভাবও কম নয়। বার্সেলোনা, ভ্যালেন্সিয়া, মালাগা, সেভিয়া কিংবা স্পেনের অন্যান্য শহর থেকে মাদ্রিদে যাতায়াত, খাবার এবং কর্মঘণ্টার ক্ষতি মিলিয়ে একজন সেবাগ্রহীতার গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ ইউরো পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হয়।

রক্ষণশীল হিসাবেও ধরা হলে, মাদ্রিদের বাইরের শহরগুলো থেকে যদি প্রতি মাসে মাত্র ৩০ জন প্রবাসী শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য এমন অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত করতে বাধ্য হন, তাহলে বছরে অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৯৯ হাজার ইউরো। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

প্রশ্ন হলো, একটি ফোনকল রিসিভ করে প্রয়োজনীয় তথ্য জানিয়ে দেওয়া গেলে যে অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো সম্ভব, সেই ব্যয়ের বোঝা কেন সাধারণ নাগরিককেই বহন করতে হবে? এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমানের কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সব সময় ফোন রিসিভ করা সম্ভব হয় না।

তবে এই ব্যাখ্যা অনেক প্রবাসীর কাছে সন্তোষজনক নয়।

গত ২২ জুন স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া একটি স্মারকলিপিতে রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, আজিজ, জুয়েল ও মামুন নামের তিন ব্যক্তিকে দূতাবাসের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেখিয়ে জনবল খাতে বরাদ্দ সরকারি অর্থ থেকে বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

যদি এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি না থাকে, তবে রাষ্ট্রদূতের উচিত দ্রুত বিষয়টি স্পষ্ট করা। আর যদি অভিযোগের সত্যতা থাকে, তাহলে জনবল সংকটের ব্যাখ্যা স্বাভাবিকভাবেই নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব অভিযোগের বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য জানার সুযোগও সীমিত। কারণ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ‘দূতাবাসের টেলিফোন’ কার্যত অকার্যকর বলে অভিযোগ রয়েছে। একাধিকবার ফোন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য সংগ্রহ করাও সম্ভব হয়নি।

প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স পাঠান। রাষ্ট্র তাঁদের অবদানের কথা গর্বের সঙ্গে তুলে ধরে। কিন্তু সেই প্রবাসীরাই যখন নিজের দেশের দূতাবাসে একটি ফোনকলেরও উত্তর পান না, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—প্রবাসীবান্ধব সেবার যে অঙ্গীকার রাষ্ট্র করে, বাস্তবে তা কতটা কার্যকর?

এটি শুধু প্রবাসীদের ক্ষোভই বাড়ায় না, সরকারের জনসেবার প্রতিশ্রুতিকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। কারণ বিদেশে একটি দূতাবাসের সেবাগত ব্যর্থতা শেষ পর্যন্ত সরকারের ভাবমূর্তির ওপরও প্রভাব ফেলে।

ফোনকল রিসিভ করা কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি দূতাবাসের দায়িত্ব। অফিস চলাকালে দিনের পর দিন ফোনের উত্তর না দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যদি জনবল সংকটই প্রকৃত কারণ হয়, তাহলে সেটির সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় জনবল চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আর যদি জনবল থাকা সত্ত্বেও ফোনের উত্তর না দেওয়া হয়, তাহলে সেটি দায়িত্বে অবহেলার শামিল। দুই ক্ষেত্রেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রবাসীরা, আর প্রশ্নের মুখে পড়ছে সরকারের জনসেবা নিশ্চিত করার সক্ষমতা।

▪️আফাজ জনি লেখক ও সাংবাদিক
ইমেইল- [email protected]

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক