শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বিবিসির অনুসন্ধান

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদন করতে সমকামী সাজছেন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৩ এম
যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদন করতে সমকামী সাজছেন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা

ছবি- বিবিসির প্রতিবেদনের ভিডিও থেকে নেয়া।

বিবিসির গোপন অনুসন্ধানে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যে কিছু আইন পরামর্শদাতা ও কথিত আইনি সহায়তাকারী অভিবাসীদের মিথ্যা সমকামী পরিচয় দিয়ে আশ্রয় আবেদন করতে সাহায্য করছে। তারা হাজার হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে মানুষকে শেখাচ্ছে কীভাবে নিজেকে সমকামী দাবি করতে হবে, কীভাবে বানানো গল্প মুখস্থ করতে হবে, এবং কীভাবে ভুয়া প্রমাণ তৈরি করতে হবে—যেমন সমর্থনপত্র, ছবি, এমনকি চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিও।

এই পদ্ধতিতে অনেক অভিবাসী, বিশেষ করে যাদের ছাত্র, কাজ বা ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, তারা দাবি করছে যে তারা সমকামী এবং নিজ দেশে ফিরে গেলে প্রাণহানির ঝুঁকিতে পড়বে। বিশেষ করে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে সমকামিতা সামাজিক ও আইনি সমস্যার কারণ হওয়ায় এই যুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে আশ্রয়ের আবেদন করার জন্য।

বিবিসির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একজন আইন ফার্মের সঙ্গে যুক্ত উপদেষ্টা ৭,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত ফি নিয়ে ভুয়া আশ্রয় আবেদন তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে এবং বলেছে, হোম অফিস আবেদন বাতিল করার সম্ভাবনা খুবই কম। কেউ কেউ জিপির কাছে গিয়ে মিথ্যা বিষণ্নতার অভিনয় করছে, আবার কেউ এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার মিথ্যা দাবি করছে যাতে অতিরিক্ত মেডিকেল প্রমাণ দেখানো যায়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এক নারী উপদেষ্টা, যিনি ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে এ ধরনের কাজ করছেন বলে দাবি করেছেন, বলেছেন তিনি এমন ব্যক্তির ব্যবস্থা করতে পারেন যে আবেদনকারীর সঙ্গে সমকামী সম্পর্কের ভান করবে এবং লিখিতভাবে জানাবে যে তাদের শারীরিক সম্পর্ক ছিল। তিনি আরও বলেছেন, যদি কেউ আশ্রয় পেয়ে যায়, পরে নিজের স্ত্রীকে যুক্তরাজ্যে এনে তাকেও “লেসবিয়ান” পরিচয়ে আশ্রয়ের আবেদন করানো সম্ভব।

এই নারী পরামর্শদাতা ২,৫০০ পাউন্ডের বিনিময়ে পুরো “প্যাকেজ” দেওয়ার কথা বলেন—যার মধ্যে থাকবে এলজিবিটি ক্লাবের ছবি, সমর্থনপত্র, সংগঠনের রেফারেন্স, এবং সাক্ষাৎকারের জন্য গল্প তৈরি করে দেওয়া।

বিবিসির গোপন প্রতিবেদক পূর্ব লন্ডনের এক কমিউনিটি সেন্টারে এমন একটি অনুষ্ঠানে যান যেখানে ১৭৫ জনেরও বেশি মানুষ উপস্থিত ছিল। অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়েছিল “Worcester LGBT” নামে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে, যারা নিজেদের সমকামী ও লেসবিয়ান আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়ক দল হিসেবে পরিচয় দেয়। কিন্তু সেখানে উপস্থিত অনেকেই স্বীকার করেছে যে তারা আসলে সমকামী নয়। একজন বলেন, “এখানে বেশিরভাগ মানুষ সমকামী না।” আরেকজন বলেন, “এখানে একজনও আসল সমকামী নেই।”

এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একজন উপদেষ্টা বলেন, “এখন দেশে থাকার একটাই উপায়—সমকামী কেস করে আশ্রয় চাওয়া। সবাই এটাই করছে।” তিনি আরও বলেন, “তুমি একা নও, অনেকেই সমকামী না হয়েও এইভাবে আবেদন করছে।”

একজন বিশেষজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবী বিবিসিকে বলেন, এটি সরাসরি প্রতারণা এবং আইন ভঙ্গের শামিল। তিনি বলেন, এমন কাজ প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে, কারণ এতে সত্যিকারের নির্যাতিত মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিবিসি আরও জানতে পেরেছে, পাকিস্তানি নাগরিকরা যৌন পরিচয়ের ভিত্তিতে আশ্রয় দাবির ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকভাবে বেশি সংখ্যায় আবেদন করছে। ২০২৩ সালে এ ধরনের নতুন আশ্রয় আবেদনের ৪২ শতাংশই ছিল পাকিস্তানিদের পক্ষ থেকে। অথচ সামগ্রিক আশ্রয় আবেদনের মধ্যে পাকিস্তানিদের অংশ মাত্র ৬ শতাংশ।

এক ব্যক্তি, যিনি নিজের নাম গোপন রেখে “আলি” নামে পরিচয় দিয়েছেন, জানান তিনি ২০১১ সালে ছাত্র হিসেবে যুক্তরাজ্যে যান। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এক আইনজীবী তাকে পরামর্শ দেন মিথ্যা সমকামী পরিচয়ে আশ্রয় চাইতে। তাকে বলা হয় ডাক্তারের কাছে গিয়ে বিষণ্নতার অভিনয় করতে, ওষুধ নিতে, এবং প্রাইড মিছিল ও গে ক্লাবে গিয়ে ছবি তুলতে। শেষ পর্যন্ত বহু টাকা খরচের পরও তার আবেদন ব্যর্থ হয় এবং তিনি দেশে ফিরে যান।

ব্রিটিশ সরকার বলেছে, প্রতারণা করে আশ্রয় আবেদন করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার কারাদণ্ড হতে পারে এবং পরে তাকে দেশ থেকেও বহিষ্কার করা হতে পারে। হোম অফিস জানিয়েছে, যারা আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহার করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনায় ব্রিটেনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনও উদ্বেগ জানিয়েছে। কেউ বলছে জড়িত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত, কেউ বলছে পুরো আশ্রয় ব্যবস্থা সংস্কার করা দরকার। তবে শরণার্থী সহায়তা সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে—কিছু প্রতারণার ঘটনা যেন প্রকৃত নির্যাতিত আশ্রয়প্রার্থীদের প্রতি অবিশ্বাস তৈরির কারণ না হয়।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই সামরিক মোতায়েন কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ম্যাক্রোঁ জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমাতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগের অংশ।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুথি মিলিশিয়া সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ পিএম
এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে কার্গো জাহাজ থেকে ভাসমান টার্মিনালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি খালাস আবার শুরু হয়েছে। এতে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে শিগগিরই দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহেশখালীতে এলএনজি খালাসের কাজ পুনরায় চালু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরবরাহে এর প্রভাব দেখা যায়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা নাগাদ এলএনজি থেকে প্রায় ৭৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। একই সময়ে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যায় প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। সব মিলিয়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় প্রায় ২৩৪ কোটি ঘনফুট।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে হঠাৎ বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। ইন্দোনেশিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে আসা ‘প্যাসিফিক সাকসেস’ নামের একটি কার্গো জাহাজ বৃহস্পতিবার মহেশখালীতে পৌঁছালেও উত্তাল সাগরের কারণে সেটি থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ফলে একটি টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছিল। একপর্যায়ে এলএনজি সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুটে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

চাহিদার তুলনায় এখনো ঘাটতি

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার সেই সরবরাহ কমে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়।

দেশের মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসে। মহেশখালীর সমুদ্র এলাকায় থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় পাইপলাইনে পাঠানো হয়। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি সামিট গ্রুপের।

দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সর্বোচ্চ সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হলে কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো ব্যবস্থায় দ্রুত প্রভাব পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি টার্মিনালে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো মহেশখালীতে পৌঁছে গেলেও সাগরের পরিস্থিতির কারণে সেটি থেকে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে যে পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাওয়ার কথা, তার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার উন্নতি হলে আবার কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বাড়তে থাকে।

এর আগে জুলাইয়ে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পরও দেশে বড় ধরনের গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছিল। প্রায় এক মাস পর আগস্টে টার্মিনালটি পুনরায় চালু হয়। এরপর এলএনজি আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিও কিছুটা উন্নত হচ্ছিল।

এর মধ্যেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন করে এলএনজি খালাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে আবার চাপ তৈরি হয়। শুক্রবার সকালে খালাস পুনরায় শুরু হওয়ায় সেই পরিস্থিতি আপাতত কাটতে শুরু করেছে। তবে দেশের মোট চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো কম থাকায় গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে আমদানি ও এলএনজি খালাস নিয়মিতভাবে চালু থাকার ওপর।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৫ পিএম
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, করলা, পটল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা ও ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে কাঁচামরিচ ও টমেটোর দামও ঊর্ধ্বমুখী।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে লম্বা বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও একই ধরনের বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল।

করলা এখন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে উঠেছে। ঝিঙা ও ধুন্দলের ক্ষেত্রেও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা পেপের দাম অবশ্য আগের মতোই প্রায় ৩০ টাকা কেজি রয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাজারে সবজির পাশাপাশি মাছের দামেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। আকারভেদে রুই মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২২০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। ফার্মের ডিম, ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির দাম মোটামুটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি প্রায় ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম সামান্য বাড়লেও বাজারে তা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ডজনের মধ্যে রয়েছে। চালের দামেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বড় কোনো প্রভাব এখনো দেখা যায়নি।

পরিবহন খরচের প্রভাব, নাকি বাড়তি মুনাফা?

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। যশোর থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সবজি পরিবহনের উদাহরণ দিয়ে এক ব্যবসায়ী জানান, আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া প্রায় ১৮ হাজার টাকা থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তা বেড়ে ২১ হাজার টাকার কাছাকাছি হয়েছে। এতে বেগুনসহ অন্যান্য সবজির পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দর কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। এর আগে চলতি বছর এপ্রিল ও জুনেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের যুক্তি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজার পর্যন্ত পণ্য আনতে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। সেই ব্যয়ের একটি অংশ খুচরা মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় যতটা বেড়েছে, তার তুলনায় অনেক পণ্যের দাম খুচরা বাজারে বেশি হারে বাড়ানো হচ্ছে। তাদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব থাকলেও একবারে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর যৌক্তিকতা সব ক্ষেত্রে নেই। বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে দুধ, আটা ও ময়দার দামেও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও একই পরিমাণ দাম বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহকারী কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আটা ও ময়দার দামও বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটারে প্রায় চার টাকা বাড়ার পর দুই লিটারের একটি বোতল এখন ৪০৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের নতুন দরের প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ব্যবসায়ীরা পরিবহন ব্যয়কে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বললেও ক্রেতারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে খুচরা পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক