শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বিবিসির অনুসন্ধান

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদন করতে সমকামী সাজছেন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৩ এম
যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদন করতে সমকামী সাজছেন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা

ছবি- বিবিসির প্রতিবেদনের ভিডিও থেকে নেয়া।

বিবিসির গোপন অনুসন্ধানে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যে কিছু আইন পরামর্শদাতা ও কথিত আইনি সহায়তাকারী অভিবাসীদের মিথ্যা সমকামী পরিচয় দিয়ে আশ্রয় আবেদন করতে সাহায্য করছে। তারা হাজার হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে মানুষকে শেখাচ্ছে কীভাবে নিজেকে সমকামী দাবি করতে হবে, কীভাবে বানানো গল্প মুখস্থ করতে হবে, এবং কীভাবে ভুয়া প্রমাণ তৈরি করতে হবে—যেমন সমর্থনপত্র, ছবি, এমনকি চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিও।

এই পদ্ধতিতে অনেক অভিবাসী, বিশেষ করে যাদের ছাত্র, কাজ বা ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, তারা দাবি করছে যে তারা সমকামী এবং নিজ দেশে ফিরে গেলে প্রাণহানির ঝুঁকিতে পড়বে। বিশেষ করে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে সমকামিতা সামাজিক ও আইনি সমস্যার কারণ হওয়ায় এই যুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে আশ্রয়ের আবেদন করার জন্য।

বিবিসির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একজন আইন ফার্মের সঙ্গে যুক্ত উপদেষ্টা ৭,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত ফি নিয়ে ভুয়া আশ্রয় আবেদন তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে এবং বলেছে, হোম অফিস আবেদন বাতিল করার সম্ভাবনা খুবই কম। কেউ কেউ জিপির কাছে গিয়ে মিথ্যা বিষণ্নতার অভিনয় করছে, আবার কেউ এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার মিথ্যা দাবি করছে যাতে অতিরিক্ত মেডিকেল প্রমাণ দেখানো যায়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এক নারী উপদেষ্টা, যিনি ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে এ ধরনের কাজ করছেন বলে দাবি করেছেন, বলেছেন তিনি এমন ব্যক্তির ব্যবস্থা করতে পারেন যে আবেদনকারীর সঙ্গে সমকামী সম্পর্কের ভান করবে এবং লিখিতভাবে জানাবে যে তাদের শারীরিক সম্পর্ক ছিল। তিনি আরও বলেছেন, যদি কেউ আশ্রয় পেয়ে যায়, পরে নিজের স্ত্রীকে যুক্তরাজ্যে এনে তাকেও “লেসবিয়ান” পরিচয়ে আশ্রয়ের আবেদন করানো সম্ভব।

এই নারী পরামর্শদাতা ২,৫০০ পাউন্ডের বিনিময়ে পুরো “প্যাকেজ” দেওয়ার কথা বলেন—যার মধ্যে থাকবে এলজিবিটি ক্লাবের ছবি, সমর্থনপত্র, সংগঠনের রেফারেন্স, এবং সাক্ষাৎকারের জন্য গল্প তৈরি করে দেওয়া।

বিবিসির গোপন প্রতিবেদক পূর্ব লন্ডনের এক কমিউনিটি সেন্টারে এমন একটি অনুষ্ঠানে যান যেখানে ১৭৫ জনেরও বেশি মানুষ উপস্থিত ছিল। অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়েছিল “Worcester LGBT” নামে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে, যারা নিজেদের সমকামী ও লেসবিয়ান আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়ক দল হিসেবে পরিচয় দেয়। কিন্তু সেখানে উপস্থিত অনেকেই স্বীকার করেছে যে তারা আসলে সমকামী নয়। একজন বলেন, “এখানে বেশিরভাগ মানুষ সমকামী না।” আরেকজন বলেন, “এখানে একজনও আসল সমকামী নেই।”

এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একজন উপদেষ্টা বলেন, “এখন দেশে থাকার একটাই উপায়—সমকামী কেস করে আশ্রয় চাওয়া। সবাই এটাই করছে।” তিনি আরও বলেন, “তুমি একা নও, অনেকেই সমকামী না হয়েও এইভাবে আবেদন করছে।”

একজন বিশেষজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবী বিবিসিকে বলেন, এটি সরাসরি প্রতারণা এবং আইন ভঙ্গের শামিল। তিনি বলেন, এমন কাজ প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে, কারণ এতে সত্যিকারের নির্যাতিত মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিবিসি আরও জানতে পেরেছে, পাকিস্তানি নাগরিকরা যৌন পরিচয়ের ভিত্তিতে আশ্রয় দাবির ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকভাবে বেশি সংখ্যায় আবেদন করছে। ২০২৩ সালে এ ধরনের নতুন আশ্রয় আবেদনের ৪২ শতাংশই ছিল পাকিস্তানিদের পক্ষ থেকে। অথচ সামগ্রিক আশ্রয় আবেদনের মধ্যে পাকিস্তানিদের অংশ মাত্র ৬ শতাংশ।

এক ব্যক্তি, যিনি নিজের নাম গোপন রেখে “আলি” নামে পরিচয় দিয়েছেন, জানান তিনি ২০১১ সালে ছাত্র হিসেবে যুক্তরাজ্যে যান। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এক আইনজীবী তাকে পরামর্শ দেন মিথ্যা সমকামী পরিচয়ে আশ্রয় চাইতে। তাকে বলা হয় ডাক্তারের কাছে গিয়ে বিষণ্নতার অভিনয় করতে, ওষুধ নিতে, এবং প্রাইড মিছিল ও গে ক্লাবে গিয়ে ছবি তুলতে। শেষ পর্যন্ত বহু টাকা খরচের পরও তার আবেদন ব্যর্থ হয় এবং তিনি দেশে ফিরে যান।

ব্রিটিশ সরকার বলেছে, প্রতারণা করে আশ্রয় আবেদন করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার কারাদণ্ড হতে পারে এবং পরে তাকে দেশ থেকেও বহিষ্কার করা হতে পারে। হোম অফিস জানিয়েছে, যারা আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহার করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনায় ব্রিটেনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনও উদ্বেগ জানিয়েছে। কেউ বলছে জড়িত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত, কেউ বলছে পুরো আশ্রয় ব্যবস্থা সংস্কার করা দরকার। তবে শরণার্থী সহায়তা সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে—কিছু প্রতারণার ঘটনা যেন প্রকৃত নির্যাতিত আশ্রয়প্রার্থীদের প্রতি অবিশ্বাস তৈরির কারণ না হয়।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক