শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আইবেরীয় অঞ্চলের পরিবেশ বিপর্যয়

উদ্বেগজনক সঙ্কট বদলে দিচ্ছে স্পেন ও পর্তুগালের জীবনযাত্রা

মিরন নাজমুল, স্পেন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩১ পিএম
উদ্বেগজনক সঙ্কট বদলে দিচ্ছে স্পেন ও পর্তুগালের জীবনযাত্রা

ইউরোপিয়ান এনভায়রনমেন্ট এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, স্পেনের প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং পর্তুগালের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা মরুকরণের ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক।

এতে করে স্পেন ও পর্তুগালে ধীরে ধীরে এমন একটি পরিবেশগত সংকট তৈরি হচ্ছে যা ভবিষ্যতে পুরো অঞ্চলটির প্রকৃতি, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রাকে বদলে দিতে পারে।

উর্বর জমি ধীরে ধীরে শুকিয়ে গিয়ে অনুর্বর ও মরুভূমির মতো হয়ে উঠছে। এটি হঠাৎ করে ঘটে না; বরং দীর্ঘ সময় ধরে অদৃশ্যভাবে শুরু হয়। প্রথমে দেখা যায় জমি শুকিয়ে যাচ্ছে, গাছের সংখ্যা কমছে, বুনো ফুল হারিয়ে যাচ্ছে। এর পেছনে প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত পশুচারণ, বন উজাড় এবং পানির অযৌক্তিক ব্যবহার।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মুরসিয়া, আলমেরিয়া ও আলিকান্তে অঞ্চলে ইতোমধ্যে আধা-শুষ্ক পরিবেশের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। একইভাবে, পর্তুগালের আলেন্তেজো অঞ্চলেও তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বৃষ্টিপাতের পরিবর্তনের কারণে কৃষি ব্যবস্থা চাপে পড়েছে।

এই সংকটের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো জলবায়ু পরিবর্তন। আইবেরিয়ান উপদ্বীপ ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে। গ্রীষ্মকাল দীর্ঘ ও তীব্র গরম হয়ে উঠছে, আর শীতকাল ছোট ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। বৃষ্টিপাত কমে গেছে এবং যখন বৃষ্টি হয়, তখন তা হঠাৎ ভারী বর্ষণ আকারে হয়, যা মাটিতে পানি সঞ্চয় করার বদলে দ্রুত বন্যা সৃষ্টি করে এবং মাটি ক্ষয় বাড়ায়। গত পঞ্চাশ বছরে স্পেনের কিছু অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে, এবং পর্তুগালের দক্ষিণাঞ্চলেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। টেগাস (তেজো) ও গুয়াডিয়ানা নদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলাধারগুলোর পানির পরিমাণ কমে যাচ্ছে, এবং মানুষের বাড়তি চাহিদা ও বাঁধ নির্মাণের কারণে নদীর প্রবাহ সীমিত হয়ে পড়ছে।

কৃষি খাত, যা এই অঞ্চলের ঐতিহ্য ও অর্থনীতির ভিত্তি, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। অতিরিক্ত চাষাবাদ এবং পশুচারণের ফলে মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সেচের জন্য অতিরিক্ত পানি ব্যবহার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নামিয়ে দিচ্ছে। স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক গ্রিনহাউস কৃষির মাধ্যমে সারা বছর ইউরোপে সবজি সরবরাহ করা হলেও, এর জন্য বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহার করা হয়। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাচ্ছে এবং সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ঢুকে জমিকে অনুর্বর করে তুলছে। পর্তুগালের আলেন্তেজো অঞ্চলেও একই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে অনেক কৃষক তাদের জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ঐতিহ্যবাহী টেকসই কৃষির পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি লাভের জন্য একফসলি চাষ বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আরও ক্ষতিকর।

মরুকরণের প্রভাব শুধু কৃষিতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। গাছপালা ও ঘাসভূমি কমে যাওয়ায় বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। আইবেরিয়ান লিংক্স, ঈগলসহ অনেক প্রজাতি হুমকির মুখে পড়ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে দাবানলও বাড়ছে। ২০১৭ সালে পর্তুগালে ভয়াবহ দাবানলে ১০০ জনের বেশি মানুষ মারা যায়, যা এই সংকটের ভয়াবহতা স্পষ্ট করে। স্পেনেও প্রতি বছর গ্রীষ্মকালে দাবানল দেখা যায়। গাছপালা ধ্বংস হয়ে গেলে মাটি পানি শোষণ করতে পারে না, ফলে বন্যা ও খরার একটি চক্র তৈরি হয় যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে।

এই সংকট মানুষের জীবন ও সংস্কৃতিতেও গভীর প্রভাব ফেলছে। বহু প্রাচীন কৃষি পদ্ধতি ও গ্রামীণ জীবনধারা বিলুপ্তির পথে। গ্রামগুলোতে কাজের অভাব দেখা দেওয়ায় তরুণরা শহরমুখী হচ্ছে, ফলে গ্রামগুলো জনশূন্য হয়ে পড়ছে। একসময় সবুজে ভরা ক্ষেত এখন অনাবাদি পড়ে আছে, আর পুরোনো বাড়িঘর ভেঙে পড়ছে। জমির সঙ্গে মানুষের যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ছিল, তা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

তবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। স্পেন ও পর্তুগালে বিজ্ঞানী, কৃষক ও নীতিনির্ধারকরা একসঙ্গে কাজ করছেন। আলমেরিয়ায় পুনর্ব্যবহৃত পানি ও আধুনিক সেচব্যবস্থা ব্যবহার করে পানির অপচয় কমানোর চেষ্টা চলছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গাছ লাগানো ও উদ্ভিদ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। পর্তুগালে মন্টাডো নামে একটি ঐতিহ্যবাহী কৃষি পদ্ধতি পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে, যেখানে গাছ, পশুপালন ও চাষাবাদ একসঙ্গে করা হয়, যা পরিবেশের জন্য টেকসই। আধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহৃত হচ্ছে, যেমন স্যাটেলাইট দিয়ে মাটির অবস্থা পর্যবেক্ষণ, ড্রিপ সেচ, সৌরশক্তিচালিত পানি বিশুদ্ধকরণ এবং খরা সহনশীল ফসল।

এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলা যায়, স্পেন ও পর্তুগাল এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব এবং একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা যেতে পারে। অন্যথায়, এই অঞ্চলগুলো ধীরে ধীরে মরুভূমিতে পরিণত হতে পারে। মরুকরণ শুধু আফ্রিকা বা এশিয়ার সমস্যা নয়; এটি এখন ইউরোপের বাস্তবতা। তাই এখনই পানি ব্যবস্থাপনা, মাটি সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে টিকিয়ে রাখার জন্য কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আজকের পদক্ষেপের ওপর।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই সামরিক মোতায়েন কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ম্যাক্রোঁ জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমাতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগের অংশ।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুথি মিলিশিয়া সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ পিএম
এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে কার্গো জাহাজ থেকে ভাসমান টার্মিনালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি খালাস আবার শুরু হয়েছে। এতে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে শিগগিরই দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহেশখালীতে এলএনজি খালাসের কাজ পুনরায় চালু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরবরাহে এর প্রভাব দেখা যায়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা নাগাদ এলএনজি থেকে প্রায় ৭৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। একই সময়ে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যায় প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। সব মিলিয়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় প্রায় ২৩৪ কোটি ঘনফুট।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে হঠাৎ বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। ইন্দোনেশিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে আসা ‘প্যাসিফিক সাকসেস’ নামের একটি কার্গো জাহাজ বৃহস্পতিবার মহেশখালীতে পৌঁছালেও উত্তাল সাগরের কারণে সেটি থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ফলে একটি টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছিল। একপর্যায়ে এলএনজি সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুটে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

চাহিদার তুলনায় এখনো ঘাটতি

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার সেই সরবরাহ কমে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়।

দেশের মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসে। মহেশখালীর সমুদ্র এলাকায় থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় পাইপলাইনে পাঠানো হয়। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি সামিট গ্রুপের।

দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সর্বোচ্চ সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হলে কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো ব্যবস্থায় দ্রুত প্রভাব পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি টার্মিনালে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো মহেশখালীতে পৌঁছে গেলেও সাগরের পরিস্থিতির কারণে সেটি থেকে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে যে পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাওয়ার কথা, তার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার উন্নতি হলে আবার কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বাড়তে থাকে।

এর আগে জুলাইয়ে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পরও দেশে বড় ধরনের গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছিল। প্রায় এক মাস পর আগস্টে টার্মিনালটি পুনরায় চালু হয়। এরপর এলএনজি আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিও কিছুটা উন্নত হচ্ছিল।

এর মধ্যেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন করে এলএনজি খালাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে আবার চাপ তৈরি হয়। শুক্রবার সকালে খালাস পুনরায় শুরু হওয়ায় সেই পরিস্থিতি আপাতত কাটতে শুরু করেছে। তবে দেশের মোট চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো কম থাকায় গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে আমদানি ও এলএনজি খালাস নিয়মিতভাবে চালু থাকার ওপর।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৫ পিএম
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, করলা, পটল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা ও ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে কাঁচামরিচ ও টমেটোর দামও ঊর্ধ্বমুখী।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে লম্বা বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও একই ধরনের বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল।

করলা এখন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে উঠেছে। ঝিঙা ও ধুন্দলের ক্ষেত্রেও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা পেপের দাম অবশ্য আগের মতোই প্রায় ৩০ টাকা কেজি রয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাজারে সবজির পাশাপাশি মাছের দামেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। আকারভেদে রুই মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২২০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। ফার্মের ডিম, ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির দাম মোটামুটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি প্রায় ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম সামান্য বাড়লেও বাজারে তা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ডজনের মধ্যে রয়েছে। চালের দামেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বড় কোনো প্রভাব এখনো দেখা যায়নি।

পরিবহন খরচের প্রভাব, নাকি বাড়তি মুনাফা?

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। যশোর থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সবজি পরিবহনের উদাহরণ দিয়ে এক ব্যবসায়ী জানান, আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া প্রায় ১৮ হাজার টাকা থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তা বেড়ে ২১ হাজার টাকার কাছাকাছি হয়েছে। এতে বেগুনসহ অন্যান্য সবজির পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দর কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। এর আগে চলতি বছর এপ্রিল ও জুনেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের যুক্তি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজার পর্যন্ত পণ্য আনতে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। সেই ব্যয়ের একটি অংশ খুচরা মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় যতটা বেড়েছে, তার তুলনায় অনেক পণ্যের দাম খুচরা বাজারে বেশি হারে বাড়ানো হচ্ছে। তাদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব থাকলেও একবারে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর যৌক্তিকতা সব ক্ষেত্রে নেই। বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে দুধ, আটা ও ময়দার দামেও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও একই পরিমাণ দাম বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহকারী কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আটা ও ময়দার দামও বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটারে প্রায় চার টাকা বাড়ার পর দুই লিটারের একটি বোতল এখন ৪০৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের নতুন দরের প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ব্যবসায়ীরা পরিবহন ব্যয়কে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বললেও ক্রেতারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে খুচরা পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক