শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

লন্ডনে তৃতীয় বাংলা: সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতার এক জীবন্ত পরিসর

ড.আজিজুল আম্বিয়া,, প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
লন্ডনে তৃতীয় বাংলা: সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতার এক জীবন্ত পরিসর

লন্ডন শহরটি আজ শুধু প্রবাসীদের বসবাসের জায়গা নয়; এটি বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রও বটে। বিশেষ করে পূর্ব লন্ডনের অলিগলি, কমিউনিটি হল কিংবা উন্মুক্ত পার্কগুলোতে যখন কবিতা পাঠ, বইমেলা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়, তখন মনে হয় যেন বাংলারই এক সম্প্রসারিত ভূখণ্ড এখানে গড়ে উঠেছে। এই ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক চর্চাকে অনেকেই বলেন “তৃতীয় বাংলা সাহিত্য আন্দোলন”—বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাইরে প্রবাসে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশের এক নতুন অধ্যায়।

লন্ডনে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা নতুন নয়। ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি বহন করে অনেক ভাষা সৈনিক এখানে বসবাস করেছেন এবং এখনো তাদের প্রভাব প্রবাসী সমাজে অনুভূত হয়। ভাষা সৈনিক তাসাদ্দুক আহমদ, আব্দুল মতিন, আমীর আলী, এবং প্রখ্যাত লেখক-সাংবাদিক আব্দুল গাফ্‌ফার চৌধুরী প্রবাসে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের পথ ধরেই নতুন প্রজন্মের লেখক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা আজ লন্ডনে বাংলা ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখার কাজ করে যাচ্ছেন।

এই ধারাবাহিকতায় প্রবাসে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান সংগঠন হলো সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ। প্রায় এক যুগ ধরে সংগঠনটি সুনামের সাথে বইমেলা, কবিতা পাঠ, আবৃত্তি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছে। প্রবাসে বাংলা সাহিত্যকে সংগঠিতভাবে এগিয়ে নিতে এই সংগঠনের অবদান অনেক। আমি নিজেও এই সংগঠনের কার্যকরী কমিটির একজন সদস্য হিসেবে কাছ থেকে দেখেছি কীভাবে প্রবাসী মানুষের ভালোবাসা ও উদ্যোগে এসব আয়োজন সফল হয়ে ওঠে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

শুধু একটি সংগঠন নয়, লন্ডনে এখন অসংখ্য সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সক্রিয়। যেমন—কাব্যকথা পরিষদ, কবিতা স্বজন, কবিকণ্ঠ, বিশ্বকবিমঞ্চ, দর্পণ বুক ক্লাব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে, হরিজন ইউকে, উদিচি শিল্পী গোষ্ঠী , বুক ওয়ার্ম ক‍্যাফে লাভিস্টা, Souldance Film Club। এসব সংগঠন নিয়মিত সাহিত্য আড্ডা, বই আলোচনা, কবিতা উৎসব, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকে। ফলে প্রবাসে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির একটি সমৃদ্ধ পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

লন্ডনে বাংলা সাহিত্যচর্চার পেছনে অনেক ব্যক্তির অবদানও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। লেখক হিরন্ময় ভট্টাচার্য, গবেষক অধ্যাপক গোলাম মুর্শিদ, ডাক্তার মাসুদ আহমদ, লেখক-সাংবাদিক কাদের মাহমুদ, সালেহা চৌধুরী , শামীম আজাদ, রেনু লুৎফা, কবি হামিদ মোহাম্মদ, নূরুজ্জামান মনি, ময়নূর রহমান বাবুল, কবি আতাউর রহমান মিলাদ, আহমদ ময়েজ, দিলু নাসের, ফারুক আহমদ রনি, মুজিব ইরম, ইকবাল হোসেন বুলবুল, আবু তাহের, আনোয়ার শাহজাহান, আবু মকসুদ, কাজল রশীদ, মুজিবুল হক মনি, ফারুক যোশী, মোহাম্মদ ইকবাল, এ কে এম আবদুল্লাহ, উদয় শংকর দুর্জয় , ইমদাদুন খান, আসমা মতিনসহ আরও অনেকে সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।

বর্তমান সময়ে প্রবাসে বাংলা ভাষার লেখালেখির জগতে উল্লেখযোগ্য নাম ড. আজিজুল আম্বিয়া। তিনি বাংলাদেশ, ভারত, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখে পাঠকমহলে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছেন। একইভাবে সৈয়দ হিলাল সাইফ,  আনোয়ারুল হক অভি এবং আরও অনেক লেখক-সাংবাদিক প্রবাসে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করছেন।

প্রবাসে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও লন্ডনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এখানে অনেক সাংবাদিক দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন।  সৈয়দ নাহাস পাশা, নজরুল ইসলাম বাসন, মহিব চৌধুরী, মতিয়ার চৌধুরী,  দেওয়ান ফয়সল , প্রয়াত ইসহাক কাজল, মোহাম্মদ বেলাল আহমদ, এমদাদুল হক চৌধুরী, নবাব উদ্দিন,সুজাত মনসুর,সৈয়দ  বদরুল আহসান, আবু মুসা হাসান, নিলুফা হাসান, মহি উদ্দিন সরকার, রেজা ফয়সল আহমদ চৌধুরী,শাহ মনসুর আলী নোমান,মাসুদা ভাট্টি, ব‍্যারিস্টার তানিয়া আমীর, সৈয়দ বেলাল আহমদ, মিসবা জামাল, সৈয়দ আনাস পাশা, কে এম আবু তাহের চৌধুরী, সাঈদ চৌধুরী, তাইসির মাহমুদ, রহমত আলী,  আনসার আহমদ উল্লাহ্, উর্মি মজহার,মকিস মনসুর,মুহিব চৌধুরী , শাহ ইউসুফ, মোহাম্মদ জুবায়ের,  ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী, আকরামুল হোসাইন, সাকির হোসাইন , তৌহিদুল করিম মোজাহিদ, সাঈম চৌধুরী ,আজিজুল আম্বিয়া,  আফজাল হোসেন , আহাদ চৌধুরী বাবু, আসম মাসুম ,জাকির হোসেন কয়েস,সোয়েব কবির, মোহাম্মদ শাহেদ রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌছ সুলতান,কামরুল আই রাসেল,সুয়েজ মিয়া , এ রহমান অলি প্রমুখ সাংবাদিকতা পেশায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। প্রবাসী বাংলা মিডিয়া আজ শুধু কমিউনিটির খবরই নয়, বরং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বিষয়গুলো তুলে ধরছে।

সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও লন্ডনে এক উজ্জ্বল উপস্থিতি রয়েছে। হিমাংশু গোস্বামী, এমদাদ তালুকদার এমবিই, মাহমুদুর রহমান বেনু,  কাউসার হাবিব, রিপা রকিব, গৌরী চৌধুরী, মিতা তাহের, সাইফুল ইসলাম, রুকসান সাফা, কায়া, সেতু চৌধুরী . মাহফুজা রহমান, স্মৃতি আজাদ, নজরুল ইসলাম অকিব , আলাউর রহমান,শেখ নুরুল ইসলাম,  হেনা বেগম সহ অনেক শিল্পী নিয়মিত গান, নৃত্য ও নাটকের মাধ্যমে প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতিকে জীবন্ত রাখছেন। পাশাপাশি ইতিহাসবিদ ও গবেষক ফারুক আহমদও প্রবাসে ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

প্রতি বছর বৈশাখী মেলাও লন্ডনে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দের সাথে উদযাপিত হয়। এই মেলা শুধু একটি উৎসব নয়; এটি প্রবাসী বাঙালির সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। খাবার, গান, নৃত্য, বই এবং নানা আয়োজনের মাধ্যমে বাংলা সংস্কৃতির একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র সেখানে দেখা যায়।

পূর্ব লন্ডনের Altab Ali Park–এর শহীদ মিনার এসব সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের এক নীরব সাক্ষী হয়ে আছে। ভাষা শহীদদের স্মরণে এখানে নিয়মিত অনুষ্ঠান হয়, পাশাপাশি একুশে ফেব্রুয়ারি, বইমেলা কিংবা কবিতা উৎসবের অনেক আয়োজনও এই স্থানকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়। বইমেলা উপলক্ষে বিভিন্ন প্রকাশনীর স্টল বসে এবং আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বিশিষ্ট শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লন্ডনে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের সংখ্যা আরও বেড়েছে। নতুন নতুন সংগঠন, ব্যক্তিগত উদ্যোগ কিংবা যৌথ উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠান হচ্ছে। কিছুদিন আগে একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী শুভ্র দেব লন্ডনে এসে গান পরিবেশন করেছেন। আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পুরস্কার ও ভারতের পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা লন্ডনের মে ফেয়ার এভিনিউতে গান গাইবেন বলে জানা গেছে। এর আগে এখানে গান পরিবেশন করেছেন কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা এবং সাবিনা ইয়াসমিন।

লন্ডনে বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলোও যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস কিংবা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠান হয়। পাশাপাশি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং কবি জীবনানন্দ দাশ–এর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতেও গভীর শ্রদ্ধার সাথে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

প্রবাসের এই সাহিত্য-সংস্কৃতির জগতে অনেকেই আজ আর আমাদের মাঝে নেই। তাদের স্মৃতি, অবদান এবং পরিশ্রমের ওপর দাঁড়িয়েই আজকের এই পরিসর গড়ে উঠেছে। আবার নতুন প্রজন্মের লেখক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরাও নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের সৃজনশীলতা ও উদ্যোগই আগামী দিনে লন্ডনের বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

সবশেষে বলা যায়, লন্ডনে বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতির যে ধারাবাহিক চর্চা চলছে, তা কেবল প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বিশ্বব্যাপী বাংলা সংস্কৃতির বিস্তারের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই তৃতীয় বাংলার সাহিত্যচর্চা আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে এবং প্রমাণ করছে—বাংলা ভাষা শুধু একটি দেশের নয়, এটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মানুষের হৃদয়ের ভাষা।

লেখকঃ ড. আজিজুল আম্বিয়া, কলাম লেখক ও গবেষক । [email protected]

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক