দক্ষ জনশক্তি দেবে দেশ ও জাতিকে মুক্তি
দক্ষ জনশক্তিই দিতে পারে দেশ ও জাতিকে মুক্তি। একটি দেশের উন্নয়ন বহুলাংশে নির্ভর করে ঐ দেশের শিক্ষিত জনসংখ্যা তথা জনশক্তির দক্ষতা ও পারদর্শিতার ওপর। কারণ দেশের আগামীর নেতৃত্বকে যথাযথ ও যুগোপযোগী শিক্ষায় শিক্ষিত করা না গেলে সেই দেশের জনসংখ্যা দেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, পরিবর্তন আসছে শিক্ষা ব্যবস্থায়, কারণ শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি ছাড়া দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব হয় না।
বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরে আমাদের দক্ষ জনশক্তিকে বৃদ্ধি করতে হবে, দেশের সুইপার সহ প্রতি পদেই নিজ নিজ কাজের পারদর্শী জনশক্তি গড়তে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ নতুবা দেশে বেকার সম্যাসা, দূর্নীতি, চাদাঁবাজি ও অন্যান্য অপরাদ রোধ করা সম্ভব নয়। দক্ষ জনশক্তি বৃদ্ধিতে শুধুমাত্র সরকার এককভাবে দ্বায়বদ্ধ নয়, আমরা স্ব-স্ব নিজ কর্মের সাথে জড়িত সকল ব্যক্তিকে সচেতন অথবা ট্রেনিং এর মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি বৃদ্ধি করতে পারি। বিগত ১৭বছর যেভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালিত হয়েছে তাতে মনে হয় দেশের সকল মানুষ ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবে কিন্তু আমাদের সমাজে একজন দক্ষ নার্স ও একজন দক্ষ ফোরম্যানও প্রয়োজন আছে।
জাতিসংঘের হিসাব বলছে, ২০২১ সালে আমাদের মোট জনসংখ্যার ৫৫ শতাংশ ছিল ‘ওয়ার্কিং এইজ পপুলেশন’ বা কর্মক্ষম জনশক্তি, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে। ২০৩০ নাগাদ এই হার বেড়ে দাঁড়াবে ৫৭ শতাংশে, সুতরাং আমাদের কর্মক্ষম জনশক্তিকে প্রয়োজনীয় সঠিক গাইড দিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে রুপান্তর করতে হবে নতুবা দেশ ও জাতি অন্যের কাছে পরাধিন হয়ে থাকবে।
২০২৫ সালে, ১১ লক্ষেরও বেশি বাংলাদেশীকে বিদেশে চাকরির জন্য নিযুক্ত করা হয়েছিল – যা জনশক্তি রপ্তানির একটি ঐতিহাসিক উচ্চ স্তরের চিহ্ন। সৌদি আরব শীর্ষস্থানীয় গন্তব্য হিসেবে রয়ে গেছে, যেখানে প্রায় ৭,৫০,০০০ কর্মী শুধুমাত্র সেখানেই নিযুক্ত ছিলেন – যা এক বছরে বাংলাদেশের জন্য সর্বোচ্চ, এটি খুবই ভাল কিন্তু আমরা ৫৪বছর শুধু জনশক্তি বলতে লেবারকেই বুঝেছি। আমাদের দেশের ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার ও আইটি বিশেষজ্ঞ রপ্তানিতে পার্শবর্তী ভারতের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। এমনকি দেশের যেকোন বড় প্রকল্প নির্মানের জন্য বাহিরের দেশের উপর নিভর করতে হয়, এমন বৈষম দূর করার সময় এখনই।
তাই শিক্ষার উপর জোরপ্রদান, কর্মমূখী শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন, দেশে বিদেশে বিভিন্ন ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা, উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেশ ও জাতিকে স্বনির্ভর করতে হবে।












