শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ছাত্রদের জন্য প্রো-বোনো লিগাল সার্ভিস দেবে এসবিবিএস

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সোসাইটি অব ব্রিটিশ বাংলাদেশি সলিসিটরসের বার্ষিক সাধারণ সভা

আজিজুল আম্বিয়া, লন্ডন প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:১৯ পিএম
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সোসাইটি অব ব্রিটিশ বাংলাদেশি সলিসিটরসের বার্ষিক সাধারণ সভা

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে কর্মরত ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সলিসিটরদের পেশাগত প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন দ্য সোসাইটি অব ব্রিটিশ বাংলাদেশি সলিসিটরস (এসবিবিএস) এর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও গালা ডিনার ২০২৬ গত  শুক্রবার সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ঐতিহাসিক হাউস অব কমন্সে অনুষ্ঠিত হয়েছে।সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ নূরুল গাফ্ফার এর সভাপতিত্বে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে আগত বিপুল সংখ্যক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সলিসিটরের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি একদিকে যেমন ছিল পেশাগত আলোচনা ও মূল্যায়নের ক্ষেত্র, অন্যদিকে তেমনি পরিণত হয় সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর মিলনমেলায়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও প্রিভি কাউন্সিলের জুডিশিয়াল কমিটির সদস্য লর্ড নিকোলাস হ্যাম্বল অব কের্সি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দ্য ল’ সোসাইটি অব ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রেট ডিক্সন, ব্রিটেনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিস আবিদা ইসলাম, দ্য ল’ সোসাইটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিস লুবনা শুজা ও ড. আই. স্টেফানি বয়েস, সলিসিটরস রেগুলেশন অথরিটির ডাইভারসিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন বিভাগের প্রধান মিস সিয়ান হিউজেস, ডিস্ট্রিক্ট জজ অনিতরা হোসেন, মানজিত গিল কেসি, জেইন মালিক কেসি, বাই-ল্যাটারাল অ্যান্ড মাল্টি-ল্যাটারাল অ্যাসোসিয়েশনস নেটওয়ার্কের প্রতিনিধি মিস সেয়ে আইনাহসহ আইন ও কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এসবিবিএস প্যাট্রন জজ বেলায়েত হোসেন, মোজাম্মেল হোসেন কেসি, বিসিসিআই সভাপতি রফিক হায়দার, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তাইসির মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক একরাম হোসাইন, সাবেক প্রেসিডেন্ট শফিকুর রহমান, দেওয়ান মেহেদী, ফরিদা হাকিম, ব্যারিস্টার শাহাদত করিমসহ আরও অনেকে।

অতিথিরা তাদের বক্তব্যে যুক্তরাজ্যের বিচার ব্যবস্থায় ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সলিসিটরদের ক্রমবর্ধমান অবদান ও পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে এসবিবিএসের গঠনমূলক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ সময় ছাত্রদের জন্য প্রো-বোনো লিগাল সার্ভিস চালুর ঘোষণা বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। ব্রিটেনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিস আবিদা ইসলাম এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি শিক্ষার্থী ও কমিউনিটির জন্য একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ।সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সভাপতি মুহাম্মদ নূরুল গাফ্ফার সংগঠনের গত বছরের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সংক্ষেপে তুলে ধরেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল অতিথি, সদস্য ও স্পনসরদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বার্ষিক সাধারণ সভায় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইমরুল শেখ ইমু বার্ষিক কার্যক্রম প্রতিবেদন এবং কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ সেলিম আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। সভার সমাপনী বক্তব্য দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কাহার চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত সবাই সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকবাল হোসাইনের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সোসাইটির উপদেষ্টা সুবের আখতার, যার সাবলীল ও প্রাঞ্জল উপস্থাপনায় পুরো আয়োজন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।সভায় সংগঠনের কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভাইস প্রেসিডেন্ট তাহমিনা কবীর ও আব্দুল হালিম সরকার, কালচারাল সেক্রেটারি কাজী আশিকুর রহমান এবং নির্বাহী সদস্য সুহেল আহমেদ–কে প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি অনুষ্ঠানের সফল বাস্তবায়নে সাংগঠনিক সম্পাদক সালাহউদ্দিন সুমন, আবু নোমান, আব্দুর রউফসহ গভর্নিং বডির সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানান সভাপতি।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত সোসাইটি অব ব্রিটিশ বাংলাদেশি সলিসিটরস নিয়মিতভাবে কন্টিনিউয়িং প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট (সিপিডি), সেমিনার, কমপ্লায়েন্স ওয়ার্কশপ এবং স্টেকহোল্ডার সংলাপ আয়োজন করে আসছে। পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি সংগঠনটি বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি উৎসাহিত করা এবং কমিউনিটির জন্য প্রো-বোনো আইনি সেবা প্রদানের মাধ্যমে জনসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক