‘স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক ড. অলি আহমদ’ -চট্টগ্রামে জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণা চট্টগ্রাম থেকে দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম,। তার দাবি, পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘উই রিভল্ট’ বলে প্রথম বিদ্রোহের আহ্বান জানান অলি আহমদ, এরপর তা স্বাধীনতার ঘোষণায় রূপ নেয়।
জামায়াত আমিরের এই মন্তব্যে স্বাধীনতার ঘোষককে ঘিরে পুরোনো বিতর্ক আবারও নতুনভাবে সামনে এসেছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে অবস্থানরত বাঙালি সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে যে বিদ্রোহের সূচনা হয়, তার নেতৃত্বে ছিলেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, আর সেই ধারাবাহিকতা থেকেই মেজর জিয়াউর রহমান পরে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার ঘোষক ইস্যুতে বিভিন্নভাবে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা হয়েছে এবং একেক সময়ে একেক ব্যক্তিকে সামনে আনা হয়েছে। তার ভাষ্য, কিন্তু সত্যিকার অর্থে চট্টগ্রাম থেকেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র বিদ্রোহের ঘোষণা এসেছিল অলি আহমদের কণ্ঠে।’
তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য স্বাধীনতার ঘোষক প্রসঙ্গটি বারবার ইচ্ছাকৃতভাবে সামনে আনা হয় এবং প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের অপরিপক্ব ও দলীয় বক্তব্যকে দায়ী করেন তিনি।
স্বাধীনতার ঘোষক বিতর্কে এর আগে বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছে। আওয়ামী লীগের সার্বিক অবস্থান, স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ঘোষণা দুটোই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের ধারাবাহিক ফল, অন্যদিকে বিএনপি লংকা গড়া করেছে মেজর জিয়াউর রহমানকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ হিসেবে সামনে রেখে।
এবার জামায়াত আমিরের বক্তব্যে কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদকে স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক দাবি করায় আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মার্চের চট্টগ্রামকেন্দ্রিক সামরিক বিদ্রোহের ঘটনার পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।
ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা অবশ্য বরাবরই সতর্ক করে আসছেন, স্বাধীনতার ঘোষক ইস্যুতে কোনো একক ব্যক্তিকে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করার আগে প্রাথমিক উৎস, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ এবং সরকারি নথিপত্রের সমন্বিত বিশ্লেষণ জরুরি। তাদের মতে, স্বাধীনতার সশস্ত্র সংগ্রাম ছিল সম্মিলিত প্রচেষ্টা, যেখানে বহু সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা মিলে ঘটনাপ্রবাহকে এগিয়ে নিয়েছেন।
জামায়াত আমিরের নতুন এই দাবি নিয়ে ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তুমুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে ইতিহাস পুনর্লিখনের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, চট্টগ্রামের সামরিক বিদ্রোহ এবং অলি আহমদের ভূমিকাকে নতুন করে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হলো।













