ভোলার বোরহানউদ্দিনে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২৫
ছবি- সংগৃহীত।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার টগবী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে জামায়াতের একটি প্রচারদল এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও স্লোগান দিতে শুরু করলে সেখানে অবস্থানরত বিএনপির সমর্থকদের সঙ্গে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। সংঘর্ষে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে উত্তেজনা চলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
জামায়াতের দাবি, তাদের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে গুরুতর কয়েকজনকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি জানিয়েছে, তাদের অন্তত ১৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন এবং কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার বিষয়ে দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। বিএনপির অভিযোগ, তাদের এক সমর্থকের বাড়িতে অনুমতি ছাড়া প্রবেশের চেষ্টা এবং উসকানিমূলক আচরণ থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত। জামায়াতের পাল্টা বক্তব্য, তারা নিয়মিত প্রচারণার অংশ হিসেবে লিফলেট বিতরণ করছিলেন, তখন পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
সংঘর্ষের পর উভয় দল পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানায়। খবর পেয়ে থানা–পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়েছে।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসনও জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।












