দক্ষিণ ইতালির ‘ল্যান্ড অফ ফায়ার্স’এ বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে ক্যান্সার মৃত্যু অব্যাহত
ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের ‘টেরা ডেই ফুওকি’ বা ‘আগুনের ভূমি’-এ অবৈধ বিষাক্ত বর্জ্য পোড়ানো ও ফেলে রাখার কারণে ক্যান্সারে মৃত্যুর সংকট অব্যাহত রয়েছে। এই নেপলস ও কাসের্তার মধ্যবর্তী ৩০ লক্ষ জনসংখ্যার এলাকায় ৪০ বছর ধরে শিল্প, রাসায়নিক ও তেজস্ক্রিয় বর্জ্য গোপনে পুঁতে ফেলা হয়েছে, যা মাটি, জল ও বাতাস দূষিত করেছে। ক্যামোরা মাফিয়ার নেতৃত্বে এই পাচার চলত, কিন্তু জড়িত ছিল সমগ্র ইতালির কোম্পানি ও কর্মকর্তা।
শুক্রবার ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের গত বছরের রায়ের এক বছর পূরণ হবে, যেখানে ইতালিকে নাগরিকদের জীবনরক্ষায় ব্যর্থতার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত বলেছে, রাষ্ট্র ১৯৯৭ সাল থেকে সমস্যা জেনেও দ্রুত ব্যবস্থা নেয়নি। এসিরায় বাসিন্দা অ্যাঞ্জেলো ভেনচুরাতো কবরস্থান দেখিয়ে বলেন, তার কন্যা মারিয়া (২৫)সহ অসংখ্য যুবক-যুবতী ক্যান্সারে মারা গেছে। নেপলস অঞ্চল ইতালির সবচেয়ে যুবক-সমৃদ্ধ কিন্তু ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার, লিউকেমিয়া ও নিউরোলজিক্যাল রোগে শীর্ষে।
ক্যাম্পানিয়ার সাংবাদিক মারিলেনা নাতালে বলেন, রাষ্ট্র মাফিয়া, দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলে এই বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। ২০১৩ সালে ক্যামোরা নেতা কারমাইন শিয়াভোনের স্বীকারোক্তির পর তথ্য প্রকাশিত হয়। মার্জিয়া ক্যাচিওপোলির ছেলে অ্যান্তোনিও (৯.৫ বছর) ২০১৪ সালে মস্তিষ্কের টিউমারে মারা যায়, যা পরিবেশ দূষণের ফল। তিনি ‘নয়ি জেনিতরি ডি টুটি’ সংগঠন গঠন করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সাহায্যে।
ইতালি ডিক্রি-ল ১১৬/২০২৫ চালু করে বর্জ্য পাচার রোধে ব্যবস্থা নিয়েছে এবং কারাবিনিয়েরি জেনারেল জোসেপ ভাদালা বিশেষ কমিশনার নিযুক্ত করেছে। তিনি বলেন, ৩৩ হাজার টন পৃষ্ঠতলের বর্জ্য সাফ করতে ২ বছর এবং ২৯৩ সাইটের জন্য ১০ বছর ও ২ বিলিয়ন ইউরো লাগবে। তবু স্থানীয়রা অসন্তুষ্ট, ‘লা মাম্মে ডি মিরিয়াম’ গ্রুপ বলছে অবৈধ বর্জ্য ফেলা চলছে এবং রাষ্ট্র ব্যর্থ। ক্যাসাল ডি প্রিন্সিপে কারাবিনিয়েরির অভিযানে সিমেন্ট কারখানায় অবৈধ কাজ ধরা পড়ে।
আইনজীবী ভ্যালেন্টিনা চেন্তোঞ্জে বলেন, দমনমূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়, শিল্প চেইনের দায়বদ্ধতা দরকার। অক্সিওলজিস্ট অ্যান্তোনিও মারফেলা বলেন, ইউরোপীয় সংসদের বর্জ্য ট্রেসেবিলিটি আইন জরুরি। সাংবাদিক নাতালে সতর্ক করেন, অপরাধীরা পরিষ্কার কার্যক্রমে অনুপ্রবেশ করতে পারে এবং ইউরোপে আরও ‘আগুনের ভূমি’ দেখা দেবে।













