ইসিতে ৯ দিনের শুনানি শেষে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৪১৬ প্রার্থী
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মোট ৪১৬ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। টানা ৯ দিনের শুনানি শেষে রোববার শেষ দিনে আরও ২০ জন প্রার্থী বৈধতা পান। তবে একই দিনে বিএনপির দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন ভবনে শুনানি শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, আপিল শুনানিতে কোনো ধরনের পক্ষপাত করা হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা চাই একটি অংশগ্রহণমূলক ও সুন্দর নির্বাচন হোক। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের বিষয়েও আমরা নমনীয়তা দেখিয়েছি।”
সিইসি আরও বলেন, “আপনারা আমাদের সমালোচনা করতে পারেন, কিন্তু সহযোগিতা না করলে কাজটা কঠিন হয়ে যায়। আমরা কারও প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে কোনো রায় দেইনি।”
এ সময় নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, “আইনের কারণে কিছু ঋণখেলাপি প্রার্থীকে বৈধতা দিতে হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে কষ্ট হলেও আইন আমাদের সে সুযোগ দিয়েছে।”
শেষদিনের শুনানিতে
- চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র ঋণখেলাপির অভিযোগে বাতিল করা হয়।
- কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে। আপিল শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় ইসি তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত দেয়।
তবে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখা হয়েছে।
ফেনী-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতা বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন। দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগের বিরুদ্ধে তিনি সময়মতো নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদন ও ফি জমা দেওয়ায় আপিলটি খারিজ করে ইসি। ফলে আসন্ন নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আর কোনো বাধা থাকল না।
নির্বাচনে অংশ নিতে—
- ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল থেকে জমা পড়ে ২,০৯১টি মনোনয়নপত্র
- স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জমা পড়ে ৪৭৮টি মনোনয়নপত্র
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাইয়ে ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয় এবং বৈধ হয় ১,৮৪২টি। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে—
- বিএনপি: ২৭ জন
- জামায়াতে ইসলামী: ৯ জন
- জাতীয় পার্টি: ৫৭ জন
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: ৪১ জন
নির্বাচনের সময়সূচি
- প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়: ২০ জানুয়ারি
- চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ: ২১ জানুয়ারি
- প্রচারণা শুরু: ২২ জানুয়ারি
- প্রচারণা শেষ: ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট
- ভোটগ্রহণ: ১২ ফেব্রুয়ারি, সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত










