জোট ছাড়ার ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের, ২৬৮ আসনে একক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোট থেকে সরে এসে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি জানিয়েছে, তারা দেশের ২৬৮টি আসনে নিজেদের প্রার্থী নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং কোনো প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করবে না।
শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা শুরুতে ২৭০টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে দুটি আসনের মনোনয়ন বাতিল হলেও বাকি ২৬৮টি আসনে দলের প্রার্থীরা সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
গাজী আতাউর রহমান জানান, ইসলামী আন্দোলন কোনো ধরনের আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। দলের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, প্রতিটি আসনেই প্রার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তবে ৩০০ আসনের মধ্যে অবশিষ্ট ৩২টি আসনে যেসব প্রার্থী ইসলামী আন্দোলনের আদর্শ ও রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তাদের প্রতি সমর্থন জানানো হবে।
এর আগে ইসলামী আন্দোলন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’-এর শরিক ছিল। ইসলামপন্থি দলগুলোর ভোট এক জায়গায় আনার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত ওই জোটে শুরু থেকেই আসন সমঝোতা নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। দলটির নেতারা জানান, তারা শুরুতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে সমঝোতার প্রস্তাব দিলেও আলোচনার শেষ পর্যন্ত তা চূড়ান্ত হয়নি।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট ২৫৩টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। সেখানে ইসলামী আন্দোলনের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন ফাঁকা রাখার কথা বলা হলেও ইসলামী আন্দোলন সেই সমঝোতায় সন্তুষ্ট হয়নি। এর পরদিনই দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামপন্থি শক্তিগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা কার্যকর হবে কি না—এ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি তিনি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন নিয়েও শঙ্কার কথা তুলে ধরেন।
ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের মতে, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আদর্শিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়েই তারা এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলটির দাবি, প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার বাইরে থেকে তারা নিজেদের নীতি ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য জনগণের কাছে সরাসরি ভোট চাইবে।













