বিতর্কিত ও মানহানিকর বক্তব্যের জের
বিসিবির সব দায়িত্ব থেকে নাজমুল ইসলামকে অব্যাহতি
সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালসহ জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে একের পর এক বিতর্কিত ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে বোর্ড পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে। এর অংশ হিসেবে তাঁকে বিসিবির অর্থ কমিটির প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিসিবির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, জরুরি বোর্ড সভায় নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে বোর্ডের অন্যান্য কার্যক্রম থেকেও দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নাজমুল ইসলাম নিজ থেকে পদত্যাগ না করলে তাঁকে বোর্ড পরিচালকের পদ থেকে সরানো সম্ভব নয়। বিসিবির নিয়ম অনুযায়ী কোনো পরিচালক কেবল মৃত্যু, মানসিক ভারসাম্যহীনতা, শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত শাস্তি, দেউলিয়া ঘোষণা, পরপর তিনটি বোর্ড সভায় অনুপস্থিত থাকা অথবা স্বেচ্ছা পদত্যাগের ক্ষেত্রেই পরিচালক পদ হারান। নাজমুল ইসলামের ক্ষেত্রে এসব শর্তের কোনোটি প্রযোজ্য না হওয়ায় তিনি আপাতত পরিচালক হিসেবেই থাকছেন।
বর্তমানে অর্থ কমিটির দায়িত্ব ছাড়া নাজমুল ইসলামের আর কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব ছিল না। ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট একাডেমি থেকে উঠে এসে এবছরই প্রথম বিসিবির পরিচালক হন তিনি।
নাজমুল ইসলামকে ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে সম্প্রতি জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে অসৌজন্যমূলক মন্তব্য করার পর। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতের দালাল’ বলে আখ্যা দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
এই ঘটনার প্রতিবাদে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) কঠোর অবস্থান নেয়। কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন মঙ্গলবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন, নাজমুল ইসলাম বিসিবির পরিচালক পদে থাকলে ক্রিকেটাররা কোনো ধরনের ম্যাচে অংশ নেবেন না।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার মিরপুরে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়নি। দ্বিতীয় ম্যাচ নিয়েও তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।
বুধবার দুপুরে বনানীর একটি হোটেলে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কোয়াব সভাপতি মিঠুন বলেন, “বিসিবি যদি লিখিতভাবে কমিটমেন্ট দেয় যে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই ব্যক্তি বিসিবিতে থাকবেন না, তাহলেই আমরা মাঠে নামব। অন্যথায় খেলা বন্ধ থাকলে তার দায় ক্রিকেটাররা নেবে না।”
এই অবস্থান ও চাপের মুখেই বিসিবি নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির প্রধানের পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়, যা ক্রিকেটারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বোর্ডের পক্ষে সম্ভব সর্বোচ্চ ব্যবস্থা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন দেখার বিষয়, এই সিদ্ধান্তের পর সন্ধ্যায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও সিলেট টাইটানসের মধ্যকার বিপিএলের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় কি না—বল এখন ক্রিকেটারদের কোর্টে।










