শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বিক্ষোভে উত্তাল ইরান: খামেনির শাসন কি চ্যালেঞ্জের মুখে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
বিক্ষোভে উত্তাল ইরান: খামেনির শাসন কি চ্যালেঞ্জের মুখে?

ইরানে নতুন বছরের বিক্ষোভ এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে, যখন দেশটি যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় ভরা একটি বছর শেষ করেছে।

২০২৫ সালে ইসরায়েল ইরানের ওপর টানা ১২ দিনের হামলা চালায়। এতে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হন এবং সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ফোরদো, ইসফাহান ও নাতানজে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।

বছরের শেষ দিকে রাজধানী তেহরানসহ মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। ২০২৫ সালের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের প্রথম দিক পর্যন্ত এই আন্দোলন চলতে থাকে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ইরানে বিক্ষোভ নতুন কিছু নয়। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশটিতে হাজার হাজার আন্দোলন হয়েছে। কখনো রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা, কখনো আবার অর্থনৈতিক সংকট এসব আন্দোলনের মূল কারণ হয়েছে।

ইরানে আন্দোলন বারবার ফিরে আসে মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, শাসনব্যবস্থা, পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার পারস্পরিক প্রভাবের কারণে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়াকেও প্রভাবিত করে।

২০২৫ সালের শেষের দিকের বিক্ষোভ শুরু হয় ব্যবসায়ী ও বাজার মালিকদের ধর্মঘটের পর। ক্রয়ক্ষমতা দ্রুত কমে যাওয়ায় তারা রাস্তায় নামেন। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ইরানি রিয়ালের প্রায় ৫০ শতাংশ মূল্যপতন এবং বেকারত্ব বেড়ে ৭.৫ শতাংশে পৌঁছানো এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এর আগেও অর্থনৈতিক কারণে ইরানে অস্থিরতা দেখা গেছে। ২০০৮ সালে মূল্য সংযোজন কর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বাজারে আন্দোলন শুরু হলে তৎকালীন সরকার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। ২০১০ সালেও আয়কর ৭০ শতাংশে উন্নীত করার চেষ্টা ব্যর্থ হয় জনরোষের মুখে।

ইরানের প্রায় সব আন্দোলনেই অর্থনৈতিক দাবির পাশাপাশি সামাজিক স্বাধীনতার প্রশ্ন উঠে এসেছে। বাধ্যতামূলক হিজাব আইন এর বড় উদাহরণ। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর এই ইস্যুতে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়, যা সরকারের ব্যাখ্যায় জনগণের ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।

তবে এসব আন্দোলনের পরও কাঠামোগত কোনো বড় সংস্কার হয়নি। সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প খাত গড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু পারমাণবিক সংকট ঘনীভূত হওয়ায় তা সফল হয়নি।

২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মাহমুদ আহমাদিনেজাদের সরকার তেলের আয় সরাসরি জনগণের মধ্যে বিতরণের নীতি নেয়। কিন্তু অভ্যন্তরীণ শক্তিশালী গোষ্ঠীর বিরোধিতা ও জাতিসংঘের একের পর এক নিষেধাজ্ঞার কারণে এই নীতিও ব্যর্থ হয়। এসব নিষেধাজ্ঞা বাণিজ্য, আর্থিক লেনদেন ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ কঠিন করে তোলে।

এখন প্রশ্ন উঠছে—ইরানের অর্থনৈতিক সংকটের জন্য কতটা দায়ী নিষেধাজ্ঞা, আর কতটা দায়ী দুর্বল শাসনব্যবস্থা?

ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে কাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে, যা ১৯৮০ সালের পর থেকে আর সমাধান করা হয়নি। আদর্শিক অগ্রাধিকার অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে বাধা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাল না মেলায় দেশটি আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং নিষেধাজ্ঞার প্রভাব তীব্র হয়।

চীনের সঙ্গে ২৫ বছরের কৌশলগত চুক্তি কিংবা রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বও ইরানের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে পারেনি। এসব সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে ইরানের জনগণ মনে করে আসছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাই অর্থনৈতিক দুরবস্থার অন্যতম কারণ। লেবানন, ইরাক, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনে ইরানের ভূমিকা নিয়ে “গাজা নয়, লেবানন নয়—ইরানের জন্য আমার জীবন” স্লোগান বহুবার শোনা গেছে।

তবে ২০২৫ সালের পর থেকে এই যুক্তি কিছুটা দুর্বল হয়েছে। ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব কমে গেছে এবং কিছু সামরিক কর্মকর্তাই এখন সিরিয়ার কাছে বিপুল অর্থ ফেরত চাচ্ছেন। এমনকি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ও প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, শুধু নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করা যাবে না—শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতাও বড় কারণ।

বর্তমানে ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে দুটি ভিন্ন ব্যাখ্যা দেখা যাচ্ছে। একদিকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব অর্থনৈতিক দুর্বলতার দায় স্বীকার করছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনী বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথা বলছে। এই দ্বন্দ্ব রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতর বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং সরকার ও সমাজের দূরত্ব বাড়াচ্ছে।

ইসরায়েলের সামরিক আত্মবিশ্বাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংসের চিন্তাও আলোচনায় এসেছে। এমন সংঘাত ইরানকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগতভাবে আরও দুর্বল করে দিতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ চাপ একসময় শাসনব্যবস্থার বড় পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যেতে পারে—যা ধীরে হলেও পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে ফেলছে।


(তথ্যসূত্র- আলজাজিরায় প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্য–বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহজুব জুইরির (Mahjoob Zweiri) লেখা নিবন্ধ অবলম্বনে।)

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক