ভেনেজুয়েলায় বড় অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র
ভেনেজুয়েলায় শনিবার ভোরে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিলেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী। তবে মাদুরোকে কীভাবে আটক করা হয়েছে বা তাঁকে কোথায় নেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেননি তিনি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সরকার মাদুরোকে গ্রেপ্তারে সহায়তাকারীদের জন্য পাঁচ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণার কথা জানিয়েছিল। যদিও ভেনেজুয়েলার সরকার তাৎক্ষণিকভাবে মাদুরো আটক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার কোনোটিই করেনি।
ভোররাতে হামলার পর রাজধানী কারাকাসে অন্তত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এর একটি শহরের কেন্দ্রস্থলের লা কারলোটা সামরিক বিমানঘাঁটি। অপরটি ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক ঘাঁটি, যেখানে প্রেসিডেন্ট মাদুরো দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় কারাকাসে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং যুদ্ধবিমানের গর্জনে আকাশ কেঁপে ওঠে। বিভিন্ন এলাকায় কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। শহরের দক্ষিণাংশে একটি বড় সামরিক ঘাঁটির আশপাশে বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও এসব ভিডিওর সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলা সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, কারাকাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলছে বলে তাঁর কাছে তথ্য রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি জানান।
স্থানীয় সময় শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় দুইটার দিকে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। আতঙ্কে অনেক মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। ২১ বছর বয়সী এক বাসিন্দা জানান, পুরো শহর কেঁপে উঠেছিল এবং দূর থেকে একের পর এক বিস্ফোরণ ও যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
এই পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরি, যুদ্ধজাহাজ ও আধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল খাতের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করে। পাশাপাশি মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে ক্যারিবীয় সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক নৌযানে অভিযান চালানোর কথাও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন অভিযোগ, ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার হচ্ছে। তবে মাদুরো সরকার এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে একে আন্তর্জাতিক আইনবহির্ভূত পদক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছে।










