কোরআন হাতে শপথ, নিউইয়র্ক পেল প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি
নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহরটির প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা জোহরান মামদানি। ব্যতিক্রমী এই শপথ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ম্যানহাটনের একটি পরিত্যক্ত ঐতিহাসিক সাবওয়ে স্টেশনে, যেখানে পবিত্র কোরআন হাতে শপথ গ্রহণ করেন তিনি।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত পেরিয়ে ভোরের দিকে নিউইয়র্কের পুরোনো সিটি হল সাবওয়ে স্টেশনে এ শপথ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মামদানি পবিত্র কোরআনের একাধিক ঐতিহাসিক কপি ব্যবহার করেন। এর মধ্যে একটি ছিল তার দাদার ব্যক্তিগত কোরআন, আরেকটি আঠারো শতকের শেষভাগ কিংবা উনিশ শতকের শুরুর দিকের ক্ষুদ্রাকৃতির পকেট কোরআন, যা নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির শমবার্গ সেন্টার ফর রিসার্চ ইন ব্ল্যাক কালচার থেকে সংগ্রহ করা হয়।
শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ও মামদানির ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র লেটিশিয়া জেমস। খিলানযুক্ত নান্দনিক ছাদের জন্য বিখ্যাত পুরোনো সিটি হল স্টেশনেই আয়োজন করা হয় এই প্রতীকী অনুষ্ঠান।
শপথ গ্রহণের পর মামদানি বলেন, “এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও সৌভাগ্যের মুহূর্ত।”
নিউইয়র্কের ইতিহাসে মামদানি একাধিক কারণে ব্যতিক্রমী। তিনি শহরটির প্রথম মুসলিম মেয়র, প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া প্রথম ব্যক্তি যিনি এই দায়িত্বে এলেন। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি বহু প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী মেয়রও হলেন।
পরে আরও আনুষ্ঠানিক আয়োজনে স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় সিটি হলে দ্বিতীয় দফা শপথ নেবেন তিনি। এ সময় শপথ পাঠ করাবেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, যাকে মামদানি নিজের রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন। শপথ শেষে ব্রডওয়ের ‘ক্যানিয়ন অব হিরোজ’ এলাকায় জনসাধারণের জন্য উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
নির্বাচনি প্রচারে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়কে মূল ইস্যুতে পরিণত করেছিলেন ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট মামদানি। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নিউইয়র্কের মতো ব্যয়বহুল শহরে সাধারণ মানুষের চাপ কমাতে যুগান্তকারী নীতি গ্রহণ করবেন। তার ঘোষিত পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে— বিনামূল্যে শিশু পরিচর্যা, ফ্রি বাস সার্ভিস, প্রায় ১০ লাখ পরিবারের জন্য ভাড়া স্থগিত রাখা এবং সিটি পরিচালিত পরীক্ষামূলক মুদি দোকান চালু।
তবে এসব প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি শহরের দৈনন্দিন নানা সংকট— আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, বরফ পরিষ্কার, ইঁদুরের উপদ্রব, সাবওয়ে বিলম্ব ও ভাঙাচোরা রাস্তার মতো সমস্যাগুলোর দায়িত্বও এখন তার কাঁধে।
উগান্ডার কাম্পালায় জন্ম নেওয়া জোহরান মামদানি প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার ও খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ-লেখক মাহমুদ মামদানির সন্তান। সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে নিউইয়র্কে পাড়ি জমান তিনি। ৯/১১–পরবর্তী সময়ে মুসলমানদের জন্য কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই বেড়ে ওঠেন মামদানি। ২০১৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন।










