২৪ ঘন্টার মধ্যে হাদির হত্যাকারীকে গ্রেফতারের আলটিমেটাম দিয়ে শাহবাগ ছাড়ল ইনকিলাব মঞ্চ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদিকে দাফনের পর রাজধানীর শাহবাগে জড়ো হন ইনকিলাব মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ ও হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার আগে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা। তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকেল সোয়া ৫টায় পুনরায় শাহবাগ অবরোধ করা হবে।
এর আগে শরিফ ওসমান হাদির জানাজার আগমুহূর্তে পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদাবক্স চৌধুরীকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। তিনি বলেন, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পেছনে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না হওয়া হতাশাজনক।
আবদুল্লাহ আল জাবের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কোনো ধরনের সহিংসতায় জড়িত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইনকিলাব মঞ্চ থেকেই পরবর্তী কর্মসূচি ও সিদ্ধান্ত জানানো হবে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে আগামী এক সপ্তাহে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জনগণকে জানাতে আহ্বান জানান তিনি।
শাহবাগে অবস্থানকালে নেতাকর্মীরা ‘ইনকিলাব, ইনকিলাব—জিন্দাবাদ’, ‘দিল্লি না ঢাকা—ঢাকা, ঢাকা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা শাহবাগ মোড়ের নাম পরিবর্তন করে ‘হাদি চত্বর’ রাখার দাবিও তোলেন। বিকেল সাড়ে ৩টার পর থেকে সেখানে লোকজন জড়ো হতে থাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। অনেককে সেখানেই আসরের নামাজ আদায় করতে দেখা যায়।
এর আগে দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শহিদ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক জানাজায় ইমামতি করেন। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।
জানাজা শেষে বিকেল ৩টা ৪৮ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে শরিফ ওসমান হাদিকে দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানেই বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।













