সন্ধ্যা ৬টায় তফসিল ঘোষণা, নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি ও নিরাপত্তায় কড়া নজরদারি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন তফসিল ঘোষণা করবেন। এর আগে নির্বাচন ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে পুলিশ মোতায়েন, বসানো হয়েছে ব্যারিকেড এবং চলছে তল্লাশি।
ইতোমধ্যেই নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে সারা দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের চিঠি পাঠিয়েছে ইসি। নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে জানানো হয়েছে—তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকে ভোটগ্রহণের দুই দিন পর পর্যন্ত প্রতি উপজেলা বা থানায় অন্তত দুজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯ অনুযায়ী তারা আচরণবিধি বাস্তবায়নে কাজ করবেন।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, পুলিশ হেডকোয়ার্টারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।
ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে প্রশাসনে রদবদল চলমান থাকবে। তার ভাষ্যে, নির্বাচনে স্বচ্ছতা আনতে যেখানে প্রয়োজন, ইসির অনুমতি ও পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হবে। একইসঙ্গে তিনি মনে করেন, এসব রায় মাঝে মাঝে কমিশনের ক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।
প্রবাসী ভোটারদের বিষয়ে আখতার আহমেদ জানান, আনুমানিক ১ কোটি থেকে ১ কোটি ৫ লাখ প্রবাসী ভোটার থাকলেও পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন ৩ লাখ ১০ হাজারের বেশি। সংশ্লিষ্ট অ্যাপ গুগল প্লে স্টোরে উন্মুক্ত রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা এবং নির্দিষ্ট সময়ে কয়েদি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিবন্ধন করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রশীদ জানান, তফসিল ঘোষণার পরই নির্বাচনকে ঘিরে প্রায় ২০টি পরিপত্র জারি করা হবে। এর প্রথমটিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলিতে কমিশনের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, পোস্টার-ব্যানার অপসারণসহ নির্বাচনী আচরণবিধি জোরদারের নির্দেশনাও থাকবে।
তফসিল ঘোষণার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে। এরপর নির্বাচনী কার্যক্রমের জন্য আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল, ভিজিল্যান্স টিম, জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিটি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ সেল গঠন করা হবে।
তফসিল ঘোষণার দিনের সকালে নির্বাচন ভবনে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য, সীমিত করা হয়েছে প্রবেশ ও চলাচল। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহলও বাড়ানো হয়েছে।
তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে ভোটগ্রহণের তারিখ, মনোনয়ন উত্তোলন ও জমা, প্রত্যাহারের সময়সীমা, আচরণবিধি এবং বিভিন্ন নির্দেশনা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে।










