রাজশাহীতে ৩৫ ফুট গভীর গর্তে পড়ে গেছে দুই বছরের শিশু: ১০ ঘণ্টায়ও উদ্ধার হয়নি
▪️পেছনে ফিরে দেখেন ছেলে নেই, গর্তের ভেতর থেকে ডাকছে ‘মা, মা’ বলে
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় প্রায় ৩৫ ফুট গভীর একটি গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়েও উদ্ধার করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। বুধবার বেলা একটার দিকে এই দুর্ঘটনার পর থেকে রাত গভীর পর্যন্ত চলছে টানা উদ্ধার অভিযান। সময়ের সঙ্গে বাড়ছে উৎকণ্ঠা, শঙ্কা আর শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় পাওয়ার অপেক্ষা।
ঘটনাটি ঘটেছে তানোরের পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট এলাকায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিশু সাজিদ তার মায়ের সঙ্গে মাঠে গিয়েছিল খড় সংগ্রহ করতে। ছোট শিশুটি হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎই খড়ের নিচে লুকিয়ে থাকা সরু ও গভীর গর্তে পড়ে যায়। ‘মা’ বলে ডাক শোনার সঙ্গে সঙ্গেই মা রুনা খাতুন পেছনে তাকিয়ে দেখেন, ছেলে আর পাশে নেই—গর্তের ভেতর থেকে ক্ষীণ কণ্ঠে ডাক আসছে।
গর্তটি খনন করা হয়েছিল প্রায় এক বছর আগে। জমির মালিক সেচের জন্য সেমিডিপ নলকূপ বসানোর চেষ্টা করেছিলেন। খননের পর পানি না পাওয়ায় কাজটি অসম্পূর্ণ রয়ে যায়। বর্ষায় মাটি বসে গর্ত আগের চেয়ে আরও গভীর হয়, কিন্তু সেটি ভরাট করা হয়নি। খড় দিয়ে ঢেকে রাখা থাকায় মা–ছেলে কেউই বিপদটি বুঝতে পারেনি।
ঘটনার পর স্থানীয়রা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েও শিশুটিকে তুলতে ব্যর্থ হন। খবর পেয়ে তানোর, রাজশাহী সদর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। গর্তের ভেতরে পাইপ দিয়ে অক্সিজেন পাঠানো হচ্ছে, যাতে শিশুটি শ্বাস নিতে পারে। পাশাপাশি এক্সকাভেটর দিয়ে গর্তের পাশেই সমান্তরাল একটি বড় গর্ত খোঁড়া হচ্ছে শিশুটির অবস্থানে পৌঁছানোর জন্য।
তবে উদ্ধারকাজের অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আগের ব্যর্থ উদ্ধারচেষ্টা। স্থানীয়রা প্রথমে নিজেরা চেষ্টা করতে গিয়ে গর্তে কিছু মাটি ফেলে ফেলেন, ফলে শিশুর অবস্থান স্পষ্টভাবে জানা কঠিন হয়ে গেছে। ক্যামেরা নামানোর পরও শিশুর সাড়া নিশ্চিতভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, মানুষের অতিরিক্ত ভিড় ও হট্টগোলেও পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এ কারণে প্রশাসন ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে।
ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের জন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। সন্ধ্যার পর থেকে এক্সকাভেটর দিয়ে খোঁড়াখুঁড়ির গতি বাড়ানো হয়েছে। রাত আটটার দিকে ১০–১২ ফুট মাটি সরানো যায়, তবে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
শিশুটির বাবা রাকিব ঢাকায় একটি জুট মিলে চাকরি করেন। খবর পেয়ে তিনি বাড়ির পথে রওনা দেন, তবে রাত পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি। মা রুনা খাতুন অসহায়ভাবে অপেক্ষা করছেন সন্তানের খোঁজের জন্য, আর গ্রামের শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে আছে উদ্বেগ নিয়ে।
ঘটনাটি এলাকায় গভীর নলকূপ খননে অনিয়ম ও নজরদারির অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ছোট্ট সাজিদকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সবাই দুশ্চিন্তায়। উদ্ধারকর্মীরা আশ্বাস দিয়েছেন—শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।













