শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় চেতনানাশক ব্যবহারে এক শিশুর মৃত্যু, আরও দুই শিশু সংকটাপন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:১২ পিএম
স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় চেতনানাশক ব্যবহারে এক শিশুর মৃত্যু, আরও দুই শিশু সংকটাপন্ন

স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া প্রদেশে শিশুদের এনেসথেসিয়া (চেতনানাশক) প্রয়োগের সময় একাধিক জটিলতা ও একটি মৃত্যুর ঘটনার পর একই অ্যানেসথেসিস্টকে কেন্দ্র করে পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ১৯ নভেম্বর পাটেরনার একটি বেসরকারি দন্ত ক্লিনিকে পাঁচ বছরের একটি শিশুকে এনেসথেসিয়া (চেতনানাশক) দেওয়ার পর হঠাৎ গুরুতর শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শিশুটি প্রচণ্ড অবসাদ, বমি ভাব এবং শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ অনুভব করে। পরিবার দ্রুত তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে জানা যায়, এনেসথেসিয়ার (চেতনানাশক) সময় ব্যবহৃত ওষুধের ধরণ ও ডোজ ছিল সন্দেহজনক। এই ঘটনার তথ্য তদন্তকারী সংস্থাগুলোর কাছে পৌঁছানোর পরই আলজিরায় ঘটে যাওয়া দুই শিশুর ঘটনার সঙ্গে এর যোগসূত্র স্পষ্ট হতে থাকে এবং তদন্তের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়।

এর ঠিক পরদিন, ২০ নভেম্বর, আলজিরার একটি দন্ত ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসে দুই শিশু। প্রথমজন—৬ বছর বয়সী এক মেয়ে—এনেসথেসিয়া (চেতনানাশক) নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই হৃদ্‌যন্ত্র বন্ধ হয়ে পড়ে এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। একইদিন আরেক ৪ বছর বয়সী শিশু অস্বাভাবিক তন্দ্রা, বমি ও উচ্চ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ভ্যালেন্সিয়ার ক্লিনিকো হাসপাতালের শিশু আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে দুই ঘটনাতেই এনেসথেসিয়া (চেতনানাশক) প্রদান করেছিলেন একই ৪৩ বছর বয়সী অ্যানেসথেসিস্ট, যিনি তিন ধরনের শিরায় প্রয়োগযোগ্য ওষুধ ব্যবহার করেছিলেন, যার মধ্যে ছিল শক্তিশালী সেডেটিভ মিডাজোলাম।

পুলিশ তদন্তে বেরিয়ে আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—এনেসথেসিয়ায় (চেতনানাশক) ব্যবহৃত মিডাজোলাম ও প্রপোফলসহ বেশ কয়েকটি ওষুধ হাসপাতাল দে মানিসেস থেকে চুরি করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ওষুধের স্টক ও ব্যাচ নাম্বার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অ্যানেসথেসিস্ট ওই হাসপাতালটিতে চাকরি করার সময়ই ওষুধগুলো নেওয়া হয়। এতে ধারণা জোরদার হয় যে অনুমোদনহীন ও অনুপযুক্ত পরিবেশে, সঠিক সংরক্ষণ ছাড়াই এসব শক্তিশালী অ্যানেসথেটিক ব্যবহার করা হয়—যা শিশুদের ক্ষেত্রে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। স্বাস্থ্য निरीক্ষকরাও এখন পরীক্ষা করছেন ওষুধগুলো কোনোভাবে দূষিত বা মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল কি না, কিংবা ভুলভাবে সংরক্ষণ বা পরিবহনের কারণে কার্যকারিতা নষ্ট হয়েছিল কি না।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এদিকে অ্যানেসথেসিস্টকে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হলে পাঁচ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিচারক তাকে শর্তসাপেক্ষ জামিনে মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত দেন। বিচারকের মতে, যদিও ঘটনাগুলো অত্যন্ত গুরুতর, তবু মৃত্যুর একমাত্র কারণ হিসেবে অ্যানেসথেসিস্টের অবহেলা এই পর্যায়ে পুরোপুরি প্রমাণিত হয়নি। তবু তার বিরুদ্ধে পেশাগত অবহেলায় হত্যাকাণ্ড, গুরুতর শারীরিক ক্ষতি, ওষুধ চুরি এবং রোগীকে যথাযথভাবে সহায়তা না করার মতো মারাত্মক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। জামিনের শর্ত হিসেবে তার পাসপোর্ট জমা নেওয়া হয়েছে, তাকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিতে হবে।

তদন্ত এখন শুধুমাত্র আলজিরা ও পাটেরনার ঘটনায় সীমাবদ্ধ নেই। স্বাস্থ্য বিভাগ ইতোমধ্যে কাতাররোহা, সাগুন্তো, ভ্যালেন্সিয়া শহরসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিকে অনুসন্ধান শুরু করেছে—যেসব স্থানে অভিযুক্ত অ্যানেসথেসিস্ট চুক্তিভিত্তিক বা খণ্ডকালীন কাজ করতেন। এসব ক্লিনিকের অনুমোদনপত্র, এনেসথেসিয়ায় (চেতনানাশক) ব্যবহৃত ওষুধের রেকর্ড, চিকিৎসা প্রক্রিয়ার নথি, এমনকি গত কয়েক মাসে এনেসথেসিয়া (চেতনানাশক) নেওয়া রোগীদের অবস্থার ইতিহাসও যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের ধারণা, আরও এমন ঘটনা থাকতে পারে যা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

আলজিরার ক্লিনিক, যেখানে একটি শিশুর মৃত্যু হয়, সেটিও তদন্তে অসংখ্য অনিয়মের প্রমাণ দিচ্ছে। ক্লিনিকটির বয়স্ক মালিককে গ্রেপ্তার করে পরে জামিনে ছাড়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি—ক্লিনিকটির ইনট্রাভেনাস এনেসথেসিয়া (চেতনানাশক) দেওয়ার কোনো অনুমতি ছিল না, অর্থাৎ শক্তিশালী অ্যানেসথেটিক ব্যবহারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি পরিচালনা করার লাইসেন্স তাদের ছিল না। তবুও সেখানে এমন সেবা দেওয়া হচ্ছিল, যা সরাসরি রোগীর জীবনের জন্য বিপজ্জনক।

পাটেরনার নতুন ঘটনাটি যদি চিকিৎসাগত অবহেলা হিসেবে প্রমাণিত হয়, তাহলে অভিযুক্ত অ্যানেসথেসিস্টের বিরুদ্ধে আরও একটি নতুন মামলা যুক্ত হতে পারে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ, পুলিশ এবং ফরেনসিক বিভাগ মিলে এখন টক্সিকোলজি রিপোর্ট, ওষুধের লট নম্বর, ক্লিনিকগুলোর ভিডিও ফুটেজ, কর্মীদের জবানবন্দি এবং শিশুদের চিকিৎসা নথি বিশ্লেষণ করছে। সবকিছু স্পষ্ট হলে এ মামলার পরিধি আরও বড় হতে পারে এবং অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনাও জোরদার হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক