ইন্দোনেশিয়ার বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়াল, ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ লাখ মানুষ: খাবার সঙ্কট তীব্র হচ্ছে
ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৫০০–র বেশি হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ৫০০ মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে এখনো হিমশিম খাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। গত সপ্তাহে মালাক্কা প্রণালীতে সৃষ্ট এক অস্বাভাবিক ঘূর্ণিঝড় আচেহ, উত্তর সুমাত্রা ও পশ্চিম সুমাত্রা—এই তিন প্রদেশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

অসংখ্য এলাকা এখনো যোগাযোগবিচ্ছিন্ন। কাঁদা, ভাঙা সড়ক ও আবর্জনায় পথ পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। অনেক জায়গায় মোটরসাইকেল ও পায়ে হাঁটাই একমাত্র ভরসা। আচেহ প্রদেশের অধিবাসীরা বলছেন, বন্যার পানি ছিল সুনামির মতো প্রবল। স্থানীয় নারী আমালিয়া জানান, তাঁর দাদির জীবনে এমন ভয়াবহ দুর্যোগ কেউ দেখেননি।
ক্ষতিগ্রস্ত পশ্চিম সুমাত্রায় টুইন ব্রিজ এলাকায় রাস্তা পরিষ্কারের কাজ দেখছিলেন মারিয়ানা নামের এক নারী। তিনি তাঁর পনেরো বছরের ছেলে ও অন্যান্য নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানের আশায় সেখানে অবস্থান করছিলেন। একই পরিস্থিতি উত্তর সুমাত্রার মধ্য তাপানুলিতেও। সেখানকার বাসিন্দাদের মতে, খাদ্যসহায়তার সংকট চরমে, নিত্যপণ্য নিয়ে মারামারি পর্যন্ত হচ্ছে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে বিশুদ্ধ পানি, ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্ক সুবিধার জন্য লোকজনকে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে যেতে হচ্ছে। আচেহ অঞ্চলে জরুরি যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে স্টারলিংক ডিভাইস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যেখানে মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
সরকারি ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষও বাড়ছে। সমালোচকরা বলছেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি দুর্বল ছিল এবং সহায়তা বণ্টনে জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে আশ্বাস দিয়েছেন যে, পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
![]()
দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে একই সময়ের বন্যা ও ভূমিধসে এ পর্যন্ত ১১০০–র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাব, অস্বাভাবিক ঘূর্ণিঝড় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবেই এবারের দুর্যোগ এত ব্যাপক হয়েছে।













