প্লট বরাদ্দে জালিয়াতি মামলায় হাসিনার ৫, রেহানার ৭, টিউলিপের ২ বছর কারাদণ্ড
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে রাজউকের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানা এবং ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকসহ মোট ১৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত–৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি দায়ের করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রায়ে শেখ হাসিনাকে পাঁচ বছর, শেখ রেহানাকে সাত বছর এবং টিউলিপ সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। টিউলিপ ও রেহানার দুজনের ক্ষেত্রেই এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, জরিমানা অনাদায়ে টিউলিপকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। মামলার বাকি ১৪ জন আসামিকেও পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার ছিল। যুক্তরাজ্যের বিবিসি ও স্কাই নিউজসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানও ঘটনাস্থলে ছিলেন।
দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের এমপি হিসেবে প্রভাব ব্যবহার করে পরিবার–পরিজনের নামে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দ নেন। অভিযোগে শেখ রেহানার নামে ১০ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দের তথ্য যুক্ত করা হয়। তবে রেহানার দুই সন্তান আজমিনা সিদ্দিক ও রাদওয়ান মুজিব এ মামলার আসামি নন; তাঁদের অন্য দুটি মামলায় অভিযুক্ত করেছে দুদক।
এই মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউকের কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা, সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রাজউকের সাবেক সদস্য খুরশীদ আলম আগে থেকেই কারাগারে ছিলেন।
গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। এসব তদন্ত শুরু হওয়ার পর যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয়ে ইকোনমিক সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বে থাকা টিউলিপ সিদ্দিক গত ১৪ জানুয়ারি পদত্যাগ করেন।
মামলাটি গত ১৩ জানুয়ারি দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ১০ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা আফনান জান্নাত কেয়া আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ওই বছরের ৩১ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলায় ৩২ জন সাক্ষ্য দেন। এর আগে ২৭ নভেম্বর আরেকটি মামলায় শেখ হাসিনাকে ২১ বছর, সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পৃথক মামলায় পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।













