১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ
▪️ কেউ রাস্তায় কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তারের নির্দেশ। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন করা হবে।
ঢাকায় কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঘোষিত ১৩ নভেম্বরের ‘লকডাউন’ কর্মসূচি প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিন কেউ রাস্তায় নেমে এ কর্মসূচি পালন করতে চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক কোর কমিটির বৈঠক থেকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলীসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকটি মূলত হওয়ার কথা ছিল মঙ্গলবার, তবে আওয়ামী লীগের ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করেই আজ সভাটি আহ্বান করা হয়। বৈঠকে বিদেশে অবস্থানরত দলের মধ্যম সারির কয়েকজন নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং ঢাকায় বিভিন্ন জেলা থেকে নেতা-কর্মীদের আগমন নিয়েও আলোচনা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন প্রতিনিধি বৈঠকে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপনের প্রস্তাব দেন, যা পরে গৃহীত হয়। বৈঠকে বরিশাল অঞ্চলের দুই নেতার নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করে তাঁদের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়েও আলোচনা হয়। ধারণা করা হয়, তাঁরা বিদেশ থেকে আগের মতোই সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, সেনাবাহিনীর মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের আপাতত সরিয়ে নেওয়া হবে না। যদিও আগের মঙ্গলবারের বৈঠকে মাঠে থাকা সেনা সদস্যদের অর্ধেক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কিন্তু আওয়ামী লীগের ঘোষিত কর্মসূচির প্রেক্ষিতে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “ঢাকায় ১৩ নভেম্বরের লকডাউন নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় তাদের কোনো কর্মসূচি পালন করা আইনসিদ্ধ নয়।”
তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনীর সদস্যরা আগের মতোই মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের প্রত্যাহার করার কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই।













