রোমে দুই দিনব্যাপী “ডিজিটাল বিজনেস সাকসেস কনফারেন্স"
ইতালিতে প্রবাসীদের হাত ধরে গ্লোবাল সাফল্যের নতুন অধ্যায়
ইতালির রোমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী “ডিজিটাল বিজনেস সাকসেস কনফারেন্স ২০২৫ ডিজিটাল অর্থনীতির এই নতুন ধারাকে সামনে রেখে ইউরোপের প্রবাসী উদ্যোক্তারা গ্লোবাল বিজনেসে নিজেদের সাফল্য ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
২৫ অক্টোবর, রাজধানী রোমের অভিজাত হোটেল বিল্লা পাম্পিলিতে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম দিনের অনুষ্ঠান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সফল ডিজিটাল উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী এবং নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে বক্তারা বলেন,ডিজিটাল বিজনেস এখন শুধু একটি কাজ নয়, এটি বিশ্ব অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনশীল বাস্তবতা। প্রবাসীরা এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য গড়ছেন এবং বাংলাদেশকেও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করছেন।
দ্বিতীয় দিনের মূল অনুষ্ঠান হয় ভিয়া কাসিলিনা দুমুস রেস্টুরেন্টের সম্মেলন কক্ষে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সফল ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও বাংলাদেশের গর্ব তানভীর আহমেদ। তিনি বলেন, “ডিজিটাল বিজনেস এখন একটি গ্লোবাল মুভমেন্ট। প্রবাসীরা চাইলে প্রযুক্তির সাহায্যে নিজেদের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারেন। বিশ্ব আজ ডিজিটালভাবে এগিয়ে যাচ্ছে,পিছিয়ে থাকলে হারাতে হবে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন রোমের সফল নারী উদ্যোক্তা ফারিয়া আখি,আয়োজনে ছিলেন জান্নাতুল ফেরদাউস, মাছুমা মামুন ও জিন্নাত আরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মামুন খান, এছাড়াও ছিলেন নারী উদ্যোক্তা তানজিলা হোসাইন ও রিনা খোকন, সাথে কয়েকশ প্রবাসী নারী-পুরুষ উদ্যোক্তা ও বিজনেস লিডারদের উপস্থিতি কনফারেন্সকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন,“ডিজিটাল বিজনেস কোনো ভুয়া স্কিম নয়, এটি আন্তর্জাতিকভাবে নিবন্ধিত, স্বচ্ছ ও বৈধ প্ল্যাটফর্ম। এখানে বিনিয়োগ নয়- দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও টিমওয়ার্কই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। বর্তমানে এই আন্তর্জাতিক ব্যবসা ২৬টি দেশে সরকার অনুমোদিত। ৪৪টি অফিসিয়াল ব্রাঞ্চে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।বিশ্বজুড়ে ২ লাখ ৬৫ হাজারেরও বেশি সদস্য এই নেটওয়ার্কে যুক্ত। এর মধ্যে দুই হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি, যাদের ৭০ শতাংশই নারী উদ্যোক্তা। ইউরোপে ইতালির নারী উদ্যোক্তারাই সবচেয়ে বেশি সাফল্য অর্জন করেছেন।
বক্তারা বলেন,“বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিজিটাল বিজনেস নিয়ে অনেক ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কিছু ব্যক্তি ব্যবসাটির মূল উদ্দেশ্য ও কাঠামো না বুঝেই নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছেন। বাস্তবে, এই ব্যবসা কোনো ‘স্ক্যাম’ বা ‘দ্রুত ধনী হওয়ার স্কিম’ নয়, বরং এটি একটি আন্তর্জাতিকভাবে রেজিস্টার্ড ই-কমার্স ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রত্যেক সদস্যকে প্রশিক্ষণ, গাইডলাইন ও টিম সাপোর্টের মাধ্যমে সফল হতে সহায়তা করা হয়।
তারা আরও বলেন,“সোশ্যাল মিডিয়ার মিথ্যা প্রচারণা মানুষকে নিরুৎসাহিত করে, অথচ এখানে হাজারো নারী-পুরুষ বাস্তবে আয় করছেন, পরিবারকে সহযোগিতা করছেন, এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করছেন। তাই সমালোচনা নয়- যাচাই, শিক্ষা ও পরিশ্রমের মাধ্যমেই বোঝা উচিত কীভাবে এই সেক্টর কাজ করে। ডিজিটাল বিজনেসের মূল ভিত্তি: অনলাইন ব্র্যান্ডিং ও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, ই-লার্নিং ও টিম ডেভেলপমেন্ট, গ্লোবাল নেটওয়ার্ক কানেকশন, ফাইনান্সিয়াল ফ্রিডম ও সেলফ ইম্প্রুভমেন্ট প্রোগ্রাম।
বক্তারা আহ্বান জানান, “সমালোচনা নয়, ইতিবাচক চিন্তা, পরিশ্রম ও প্রযুক্তিই পারে বদলে দিতে জীবনের গতি। ডিজিটাল বিজনেস আজ প্রবাসীদের সাফল্যের নতুন অধ্যায়। এটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং আত্মনির্ভরতা ও নারী নেতৃত্বের এক অনুপ্রেরণামূলক আন্দোলন। অনুষ্ঠান শেষে সফল উদ্যোক্তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন অতিথিরা এবং সবাই মিলে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ আকারে আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।













