‘নির্বাচন বানচালের বড় শক্তি সক্রিয় হতে পারে, সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকুন’ — ড. ইউনূস
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে “চ্যালেঞ্জিং” আখ্যা দিয়ে সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, “নির্বাচন বানচালের জন্য দেশের ভেতর থেকে এবং বাইরে থেকে বড় শক্তি কাজ করবে। হঠাৎ করেই আক্রমণ আসতে পারে, তাই সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।”
আজ বুধবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ড. ইউনূস। পরে বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য তুলে ধরেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা মোকাবিলার জন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ড. ইউনূস বলেছেন, “নির্বাচন বানচালের জন্য দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মিথ্যা ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এসব প্রতিহত করতে হবে—একটা অপপ্রচার রচনা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেটা ঠেকাতে হবে, যেন তা ছড়িয়ে না পড়ে।”
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “এই নির্বাচন কঠিন হবে, তবে আমাদের তা অতিক্রম করতে হবে। যত ঝড়ই আসুক না কেন, দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে।”
নির্বাচনকে সুন্দর ও উৎসবমুখর করতে জনগণের অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি। নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে নির্বাচন কমিশন ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন ড. ইউনূস।
তিনি বলেন, “মানুষকে জানাতে হবে—কীভাবে ভোট দিতে হয়, কোথায় গেলে ভোট দেওয়া যাবে, কোনো বিশৃঙ্খলা হলে কী করতে হবে। এজন্য টিভিসি বা তথ্যচিত্র তৈরি করে দ্রুত ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করতে হবে, যেন ভোটাররা নিজেরাই প্রস্তুত থাকতে পারেন।”
প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, সব বাধা অতিক্রম করে আসন্ন নির্বাচনকে একটি অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।












