ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
পাঁচ ধাপে প্রার্থী বাছাই করছে বিএনপি
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এবার পাঁচ ধাপের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চালু করেছে বিএনপি। প্রতিটি আসনের প্রার্থী নির্ধারণে শুধুমাত্র দলীয় নয়, নিরপেক্ষ ও অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের মতামতও নিচ্ছে দলটি। পুরো প্রক্রিয়াটি সরাসরি তদারকি করছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার কার্যক্রম।
দীর্ঘ দুই দশক ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন উদ্যমে রাজনৈতিক কার্যক্রমে ফিরেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন চলছে মনোনয়ন চূড়ান্ত করার কাজ। সূত্র বলছে, দলের দীর্ঘদিনের সহযোগী দলগুলোকে ৫০টি আসন ছেড়ে বাকি প্রায় আড়াই শ আসনে প্রার্থী দেবে বিএনপি।
মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় যুক্ত নেতাদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেক আসনে আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপস্থিত কিছু ব্যক্তি নানা প্রভাব ও যোগাযোগ ব্যবহার করে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে ত্যাগী ও মাঠের নেতারা কিছুটা উপেক্ষিত হচ্ছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসব বিষয় বিবেচনা করবে দল বলে জানিয়েছেন তারা।
ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল বলেন, “অনেকেই আন্দোলনের সময় পাশে ছিল না, এখন সুবিধা নিতে সামনে এসেছে। এদের প্রার্থী করা হলে মাঠে নেতাকর্মীদের মাঝে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। দল নিশ্চয়ই এমন ভুল করবে না।”
আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনার পর থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়মিতভাবে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। প্রতিটি বৈঠকেই যোগ্য প্রার্থী নির্ধারণ বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদ জানান, “ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এখন পর্যন্ত পাঁচ দফা সার্ভে সম্পন্ন করেছেন। রাজনৈতিক কর্মী, সাধারণ মানুষ এবং অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে তথ্য নিয়ে এই সার্ভেগুলো করা হয়েছে। আশা করছি, এর মাধ্যমে সঠিক প্রার্থী নির্ধারণ সম্ভব হবে।”
অন্য এক স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “যারা এবার মনোনয়ন না পেলেও, তাদের জন্য জাতীয়ভাবে দায়িত্ব বা মূল্যায়নের সুযোগ থেকে যাবে।”
দলের চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে বিভাগভিত্তিকভাবে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন তারেক রহমানসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।
দলীয় নেতাদের মতে, প্রার্থী নির্বাচনের এই নতুন পদ্ধতিতে অগ্রাধিকার পাচ্ছেন ত্যাগী, জনপ্রিয় ও যোগ্য নেতারা। বিএনপি আশা করছে, একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারা আবারও জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসবে।













