জামায়াত-হেফাজতের দূরত্ব বাড়ছে, একে অপরকে নিয়ে বাড়ছে অস্বস্তি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমেই ঠাণ্ডা হচ্ছে। দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের চেষ্টা থাকলেও হেফাজত আমীর মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর ধারাবাহিক জামায়াতবিরোধী বক্তব্যে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী একাধিক সভা-সমাবেশে জামায়াতকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। সর্বশেষ ৩ অক্টোবর হাটহাজারীতে হেফাজতের এক অনুষ্ঠানে তিনি অনুসারীদের আহ্বান জানান, “যারা পূজা ও রোজাকে এক বলে, তারা যেন ক্ষমতায় গিয়ে কুফরি প্রতিষ্ঠা করতে না পারে—তাদের ভোট দেওয়া যাবে না।” যদিও হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক এই বক্তব্যকে বাবুনগরীর ব্যক্তিগত মতামত বলে উল্লেখ করেছেন, তবু জামায়াতের ভেতরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, এই অবস্থান ইসলামপন্থি ভোটারদের বিভক্ত করে দিতে পারে।
সূত্রমতে, হেফাজতের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে জামায়াতের ওলামা কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই কমিটি হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। তবে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
ওলামা কমিটির সেক্রেটারি ও তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী বলেন, “আমরা আশাবাদী, দেশের আলেম সমাজ অচিরেই ঐক্যবদ্ধ হবেন। হেফাজতের মুরুব্বিদের সঙ্গে জামায়াতের কোনো মূল বিরোধ নেই, কিছু বিষয় ব্যক্তিগত ভুল বোঝাবুঝি মাত্র।”
একই সুরে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচারবিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “ওলামায়ে কেরাম আমাদের শ্রদ্ধার আসনে। আমরা রাজনৈতিকভাবে তাদের সহযোগিতা ও দোয়া চাই।”
তবে হেফাজতের একাংশের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নেতারা—যেমন মাওলানা মামুনুল হক বা তার অনুসারীরা—জামায়াতের সঙ্গে মাঝে মাঝে যৌথ কর্মসূচিতে থাকলেও হেফাজতের মূল নেতৃত্ব এখনো জামায়াত থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে।
জামায়াতের ভেতরকার একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে এই বিরোধ দলীয় কৌশলের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। তাই দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হেফাজতের কোনো বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় ওলামা কমিটির আয়োজিত ‘দাঈ ও ওয়ায়েজ সম্মেলনে’ জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানও অনুসারীদের বিতর্কিত মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানান।
এদিকে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “দূরত্ব কমেনি, বরং আরও বেড়েছে।”
বাংলাদেশের ইসলামপন্থি রাজনীতিতে যেখানে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি প্রভৃতি দল একসঙ্গে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেখানে হেফাজতের এই দূরত্ব রাজনৈতিকভাবে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।













