শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সাতচল্লিশ সাল থেকে সব ভুলের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের

প্রবাস বাংলা ডেস্ক, প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫, ২:২৬ পিএম
সাতচল্লিশ সাল থেকে সব ভুলের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, শুধু ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য নয়, বরং ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাজনের সময় থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত যেকোনো ভুল বা অন্যায়ের জন্য দলটি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সপ্তাহব্যাপী সফরের প্রথম দিনে, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে তিনি জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে এটিএম আজহারুল ইসলাম সাহেব জেল থেকে মুক্ত হওয়ার পর আমি বলেছিলাম শুধু একাত্তর নয়, সাতচল্লিশ সাল থেকে শুরু করে যদি জামায়াতে ইসলামী কারো কষ্ট দিয়ে থাকে, কারো ক্ষতি করে থাকে, তাহলে আমি সংগঠনের পক্ষথেকে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাইছি । সবাই আমাদের ক্ষমা করবেন।

শফিকুর রহমান স্বীকার করেন, একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে তৎকালীন জামায়াত নেতৃত্বের ‘সম্মান করা উচিত’ ছিল। কেন তারা তা করেননি, সে বিষয়ে মন্তব্য করা তার পক্ষে সম্ভব নয়, কারণ সে সময় তিনি দলের নেতৃত্বে ছিলেন না। মতবিনিময়ের সময় তাকে হাতজোড় করে কথা বলতে দেখা যায়। হাসিমুখে তিনি বলেন, “আমরা মানুষ, ভুল আমাদের হবেই। আমাদের সংগঠনও মানুষের সংগঠন। শত সিদ্ধান্তের মধ্যে একটাও যদি ভুল হয় এবং তাতে জাতির ক্ষতি হয়, তাহলে সেই ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়ায় সমস্যা কোথায়? এখন আবার অনেকে বলেন, এই ভাষায় নয়, ওই ভাষায় ক্ষমা চাইতে হবে। আমি তো বিনা শর্তেই ক্ষমা চাইলাম, তবুও প্রশ্ন রয়ে যায়,আর কীভাবে চাইব?

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জামায়াতের পক্ষথেকে প্রথম নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা হয় গত ২৭ মে। সেদিন যুদ্ধাপরাধের মামলায় এটিএম আজহারুল ইসলাম খালাস পাওয়ার পর ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে আমির শফিকুর রহমান বলেছিলেন, আমরা কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নই। দল হিসেবে দাবি করি না যে, আমরা ভুলমুক্ত। যেখানেই আমাদের কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা কষ্ট পেয়েছেন, তাদের সবার কাছে আমরা শর্তহীনভাবে ক্ষমা চাই। তবে সে সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে সরাসরি কিছু বলেননি। প্রায় পাঁচ মাস পর নিউ ইয়র্কের অনুষ্ঠানে তিনি বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার অবস্থান জানান।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তার ভাষায়, একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা ছিল, তা অস্বীকার করছি না। তখন দলটি মনে করেছিল, পাকিস্তান ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার। তখনও আওয়ামী লীগের বহু নেতা পাকিস্তান সরকারের অধীনে চাকরি করেছেন, বেতন নিয়েছেন, এমনকি তাদের পরিবারের অনেকে রেশন সুবিধাও পেয়েছেন। এগুলো বাস্তবতা, এতে আপত্তি নেই।

তিনি আরও দাবি করেন, ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের প্রায় ৯০ ভাগ এলাকায় পাকিস্তানের পতাকা উড়েছিল। অফিস-আদালতগুলোতেও পাকিস্তানের নামে কাজ চলত। তবে ১৫ ডিসেম্বর থেকে পরিস্থিতি একেবারে পাল্টে যায়। দুদিনের মধ্যেই পতাকা নামিয়ে নেওয়া হয়, চাকরিও বন্ধ হয়।

শফিকুর রহমান বলেন, জনপ্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশ স্বাধীন হবে। জামায়াত সেটাকে সম্মান করেনি,এটা বৈধ প্রশ্ন। করলে ভালো হতো, করা উচিতও ছিল। তবে আমি সে সময় নেতৃত্বে ছিলাম না, তাই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ বলতে পারব না। আমাদের তৎকালীন নেতারা জীবিত অবস্থায় এসব প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হয়তো ভুল ছিল। যদিও আমরা অপরাধ করিনি, তারপরও তিনবার ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছে,প্রফেসর গোলাম আজম, মাওলানা মতিউর রহমান এবং আমি নিজে।

শফিকুর বলেন, আবারও প্রকাশ্যে বলছি, সাতচল্লিশ সাল থেকে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের আমরা কষ্ট দিয়েছি, সবাইকে বিনা শর্তে ক্ষমা চাইছি-তা ব্যক্তি হোক বা গোটা জাতি। ভুলের ঊর্ধ্বে আমরা কেউই নই। যারা আমাদের ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

কোয়ালিশন অব বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন (কোবা) আয়োজিত এ মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন জামায়াতের যুক্তরাষ্ট্র সমন্বয়কারী নাকিবুর রহমান। কুইন্সের ওয়ার্ল্ড ফেয়ার মেরিনা পার্টি হলে আয়োজিত সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন জামায়াত আমির। ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্যে এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, আমরা যদি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পাই, বাংলাদেশ হবে বাংলাদেশই। আফগানিস্তান, ইরান, ইন্দোনেশিয়া বা পাকিস্তান নয়। আমাদের সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে দল-ধর্মের বিভাজন থাকবে না।

তিনি বলেন, আমরা এখন মেজরিটি-মাইনোরিটি মানসিকতা থেকে বের হতে চাই। যখনই আপনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু বলবেন, তখনই দেশ বিভক্ত হবে। আমরা ৫৪ বছর ধরে এর পরিণতি দেখেছি, এবার ঐক্যের পথে হাঁটতে চাই।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবেশী বদলানো যায় না। আমরা ভারতকে সম্মান করতে চাই, একইভাবে তাদের কাছ থেকেও সম্মান প্রত্যাশা করি। পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতেই সম্পর্ক গড়ে উঠতে হবে। ভারত বাংলাদেশের চেয়ে ২৬ গুণ বড় দেশ, তাই সমতা নয়-বরং পারস্পরিক সম্মানের সম্পর্কই টেকসই হবে।

বিএনপির সঙ্গে বর্তমান টানাপড়েন ১৯৯১ সালে জামায়াতের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করে, পরে ১৯৯৯ সালে জোটবদ্ধ হয় দুটি দল। ২০০১ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় গিয়ে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হন জামায়াতের দুই নেতা-মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ।
দুই দশক টিকে থাকা জোট ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ভেঙে যায়। পরবর্তীতে বিএনপি সরকারবিরোধী বৃহত্তর আন্দোলনে নামে। দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনের পর গত বছর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতন হলে বিএনপি ও জামায়াতের রাজনীতি আবার উন্মুক্ত হয়। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুই দলের সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দুটি স্বতন্ত্র দল। জাতীয় প্রয়োজনে একসাথে ছিলাম, এখন ভিন্ন প্রেক্ষাপট। তারা তাদের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে, আমরা আমাদের নিয়ে। তিনি বলেন, আমরা কোনো দলকে লক্ষ্য করে কথা বলি না, নীতিগত অবস্থান নিয়েই বলি। গত বছরের আগস্টে সরকারের পতনের পর আমরা সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিছু ভুল পদক্ষেপ না নিলে তারা আরও জনপ্রিয় হতো। তবে এখন আমরা স্বাধীনভাবে নিজের পথেই হাঁটছি। তার ভাষায়, আমরা কোনো দলের সঙ্গে দরবারে বসবনা। ভালো কাজের পাশে থাকব, খারাপ কিছু দেখলে আগে পরামর্শ দেব। না শুনলে প্রতিবাদ করব। এটাই আমাদের নীতি। রাজনীতিতে সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা থাকা জরুরি-এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

যুক্তরাষ্ট্র সফরে মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা এখনই প্রকাশ করা যাবে না। তিনি আরও জানান, আগামী ২৬ অক্টোবর নিউ ইয়র্কে প্রবাসীদের এক সমাবেশে তিনি ভাষণ দেবেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত জামায়াত-অনুসারীরাও অংশ নেবেন।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক