দুই দশকের মধ্যে এইচএসসিতে পাসের হার সর্বনিম্ন, প্রায় অর্ধেক অকৃতকার্য: কী বলছে শিক্ষাবোর্ড?
ফাইল ছবি।
দুই দশকের মধ্যে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় সবচেয়ে কম পাসের হার রেকর্ড হয়েছে। ২০০৫ সালের পর এবার প্রথমবারের মতো ফলাফলে বড় ধস নেমেছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ কম। অর্থাৎ এ বছর প্রায় ৪৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ হয়েছেন।
ফলাফল অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অংশ নিয়েছিলেন ১০ লাখ ৪৭ হাজার ২৪২ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছেন ৫ লাখ ৯৮ হাজার ১৬৬ জন। আজ বৃহস্পতিবার এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। একইসঙ্গে মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষার ফলও প্রকাশিত হয়েছে।
জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও এবার ব্যাপকভাবে কমেছে। গত বছর যেখানে ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৭৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন, এবার তা নেমে এসেছে ৬৩ হাজার ২১৯ জনে।
শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) জানায়, ২০০৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৯ শতাংশের কিছু বেশি। পরবর্তী বছরগুলোতে তা বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করে। এমনকি করোনা পরবর্তী দুই বছর পাসের হার ছিল ৮৪ থেকে ৯৫ শতাংশের মধ্যে। কিন্তু এবার তা নেমে এসেছে দুই দশকের সর্বনিম্ন স্তরে।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন, যা সার্বিক ফলাফলের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে।
এবার শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৪৫টিতে, যেখানে গত বছর ছিল ১ হাজার ৩৮৮টি। বিপরীতে, একটিও শিক্ষার্থী পাস না করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০২টিতে, যা গত বছর ছিল মাত্র ৬৫টি।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, “আমরা উত্তরপত্র মূল্যায়নে কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশ দিইনি। পরীক্ষকরা নিয়ম মেনে মূল্যায়ন করেছেন। এবার সময়ও বাড়ানো হয়েছিল যাতে সঠিকভাবে নম্বর দেওয়া যায়।”
তিনি আরও বলেন, “প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী পাস করতে না পারা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। এটি আমাদের জন্য একধরনের সতর্ক সংকেত। কোথায় গলদ আছে তা এখন খুঁজে বের করে সংশোধন করতে হবে।”
শিক্ষা উপদেষ্টা সচিবালয়ে আয়োজিত আরেক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, “এ বছর এসএসসি ও এইচএসসি ফলাফল আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। শেখার ঘাটতি বহু বছর ধরে থেকে যাচ্ছে। আমরা শুধু পাসের হার ও জিপিএ-৫ বাড়ানোকে সাফল্য ভেবেছি, অথচ প্রকৃত শেখার মান কমেছে। এখন সময় এসেছে সেই সংস্কৃতি পরিবর্তনের।”













