ইনানীতে গ্যাসের আগুন চার দিনেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি, ১৪৪ ধারা জারি
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে সৃষ্ট আগুন টানা চার দিনেও নেভানো সম্ভব হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলের ২০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে পুরো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাটিকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে লাল পতাকা চিহ্নিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে গ্যাস নির্গমনের উৎস ও তার প্রকৃতি অনুসন্ধানে নমুনা সংগ্রহের পর অন্তত ১৫ দিন এর প্রবাহ নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ছোটখাল সেতুর পাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরির কাজ শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। একই দিন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পান্না আক্তার ১৪৪ ধারা জারির আদেশ দিয়ে আগুন জ্বালানো, ধূমপান বা অগ্নিস্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি হতে পারে—এমন সব কর্মকাণ্ডে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পেট্রোবাংলা, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিশেষজ্ঞ দলগুলোর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এখনই আগুন নেভানোর চেষ্টা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জোড়পূর্বক গ্যাসের পথ বন্ধ করা হলে ভূগর্ভে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয়ে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে অথবা অন্য কোনো স্থান দিয়ে গ্যাস ছড়িয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে পুরো এলাকাকে ‘রেড জোন’, ‘নো ফায়ার জোন’ ও ‘অবজারভেশন জোন’—এই তিন স্তরের সুরক্ষাবলয়ে ভাগ করে সজাগ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।
এর আগে গত ২৭ অক্টোবর সকালে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির বসতভিটায় গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য প্রায় এক হাজার ফুট পর্যন্ত খননকালে হঠাৎ প্রচণ্ড বেগে গ্যাস বের হতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ক্রমাগত গ্যাস নির্গমন হতে থাকায় তা নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়নি। বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম জানিয়েছেন, ভূগর্ভের কোনো ফাটল দিয়ে গ্যাস উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এদিকে অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক পর্যায়ে নিরাপত্তার স্বার্থে মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হলেও, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ জোরদার করে বুধবার রাতে তা পুনরায় স্বাভাবিক করা হয়েছে।










