শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

জমি নিয়ে বিরোধে ফজরের নামাজ পড়ে ফেরার পথে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১৭

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৮ পিএম
জমি নিয়ে বিরোধে ফজরের নামাজ পড়ে ফেরার পথে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১৭

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বসতবাড়ির জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মকবুল হোসেন (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নারীসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে লাঠিসোঁটা, ধারালো ছোরা ও সাবল উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার চণ্ডিপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সীচা ছাতিনামারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মকবুল হোসেন ওই গ্রামের মৃত ফেলান উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৬ শতক বসতবাড়ির জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মকবুল হোসেনের সঙ্গে একই গ্রামের শাহাবুদ্দিন মিয়ার বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ধুবনী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে সালিস বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেখানে বিরোধের কোনো সমাধান হয়নি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ফজরের নামাজ আদায় করে বাড়ি ফিরছিলেন মকবুল হোসেন। পথে আগে থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। হামলায় আহত কয়েকজনকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খবর পেয়ে সুন্দরগঞ্জ থানা ও কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় জড়িত সন্দেহে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লাঠিসোঁটা, ধারালো ছোরা ও সাবল জব্দ করেছে পুলিশ।

মামলা ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম রেজা জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তার ১৭ আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

আর্কটিক অঞ্চলে সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার চুক্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
আর্কটিক অঞ্চলে সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার চুক্তি

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। এর অংশ হিসেবে আর্কটিক অঞ্চলে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তিন দেশ একটি সমঝোতা স্মারক (এমওসি) সই করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে অনুষ্ঠিত জি-২০ বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি ও দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন।

বৈঠকে তিন দেশের ত্রিপক্ষীয় অংশীদারত্বের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ‘ত্রিপক্ষীয় আর্কটিক-প্যাসিফিক অংশীদারত্ব’ (টিএপিপি) প্রতিষ্ঠায় একটি সমঝোতা স্মারক সই করেন। এর আওতায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় আর্কটিক অঞ্চলে সামুদ্রিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।

বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তাঁরা।

এ ছাড়া তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিন দেশের প্রতিনিধিরা।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দক্ষিণ চীন সাগরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় চীনের প্রচেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যে বাকি সাতজনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ২১ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৬ ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

এর আগে, গত ৯ আগস্ট রিয়াদের ওই সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর প্রথম দফায় ২৭ আগস্ট নয়জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। বাকি সাতজনের মরদেহ আগুনে মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া সাতজনের মধ্যে পাঁচজন নওগাঁ জেলার এবং দুজন নাটোরের বাসিন্দা। দীর্ঘ সময় পর স্বজনদের মরদেহ গ্রহণ করতে এসে কান্না ও আহাজারিতে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানান, ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদে সরাসরি ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় মরদেহগুলো সড়কপথে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে বিমানে করে মরদেহগুলো ঢাকায় আনা হয়েছে।

নিহত শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন নওগাঁ সদর উপজেলার পার নওগাঁ গ্রামের শাহিন, আত্রাই উপজেলার দুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মাসিদুল সরদার এবং সাহানগর গ্রামের সাগর আলী।

এ ছাড়া নাটোরের লালপুর উপজেলার দীঘিরপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ শামীম ও খাজুরা গ্রামের শরিফ হোসেন রয়েছেন।

 

আরেকটি বিপ্লব আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে: জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৯ এম
আরেকটি বিপ্লব আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে: জামায়াত আমির

অনিবার্য বিপ্লব দেশের দরজায় কড়া নাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর নিয়ে সরকার লুকোচুরি করছে বলে অভিযোগ তুলে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে কী চুক্তি হয়েছে, তা অবিলম্বে জাতির সামনে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়াগামী লংমার্চের সূচনাপর্বে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সরকারের উদ্দেশে এসব কথা বলেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জামায়াতে ইসলামী বা তাদের মিত্ররা কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে মাঠে নামেনি, বরং জনগণের মৌলিক ভোগান্তি ও অধিকারের দাবি নিয়েই এই আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছে। কানেক্টিভিটির নামে বাংলাদেশকে কোনো বিদেশি শক্তির কাছে ইজারা দেওয়া যাবে না উল্লেখ করে তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে দেন যে, অতীতে যারা দেশের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে দাসত্ব স্বীকার করেছিল, তাদের পরিণতি এখন সবাই দেখতে পাচ্ছে। জনগণের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা করে সরকার পার পাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য দেন। তাঁরা অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিতকরণ, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধ করার মতো সাত দফা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। এসব দাবি উপেক্ষা করে স্বৈরাচারী পথে হাঁটলে বর্তমান সরকারকেও অতীতের শাসকদের মতো একই পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে নেতারা সতর্ক করে দেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া রুটে আয়োজিত এই লংমার্চ কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সরকারের প্রতি দ্রুত দাবি আদায়ের বার্তা দিতে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে এই লংমার্চের পথসভা শুরু হয়।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক