বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

আরব ভোটারদের জোরালো উপস্থিতি, চাপে নেতানিয়াহুর ক্ষমতা ধরে রাখার সমীকরণ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩০ এম
আরব ভোটারদের জোরালো উপস্থিতি, চাপে নেতানিয়াহুর ক্ষমতা ধরে রাখার সমীকরণ

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য বড় সাফল্য দেশটির সরকার গঠনের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বুথফেরত জরিপের আভাস অনুযায়ী, পার্লামেন্টে রেকর্ডসংখ্যক আসন পেতে পারে দেশটির প্রধান দুই আরব দল। এতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরোধী জোটের সরকার গঠনের সম্ভাবনায় দল দুটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর বুথফেরত জরিপে আরব দলগুলোর ভালো করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দল দুটি হলো সামাজিকভাবে রক্ষণশীল ইউনাইটেড আরব লিস্ট (রাআম) এবং বামপন্থী জয়েন্ট লিস্ট।

আরব দলগুলোর এই অবস্থান নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে সরকার গঠনে তাদের সমর্থন পাওয়া সহজ হবে না। ইসরায়েলের অনেক ইহুদি ভোটার মনে করেন, সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব আইনপ্রণেতাদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

রাআমের নেতা মনসুর আব্বাস বলেছেন, আরব ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ তাঁদের হতাশা ও নিরাশাকে আশায় রূপান্তরের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি নেতানিয়াহুর সরকারের পরিবর্তন চান এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক একটি সরকার গঠনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ আরব। তাঁদের অধিকাংশই ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পরও যাঁরা নিজ ভূখণ্ডে থেকে গিয়েছিলেন, তাঁদের বংশধররাই এখন দেশটির আরব নাগরিকদের বড় অংশ।

দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের মধ্যে ভোটদানে অনীহা দেখা গেছে। দেশটির ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচয়, রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার কারণে অনেকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। তবে এবারের নির্বাচনে পশ্চিম তীর ও গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি নেতানিয়াহু সরকারের নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে বলে অনেকে মনে করছেন।

আরব-ইসরায়েলি ভোটার খুলুদ আল-জেইনাতি বলেন, মানুষ বুঝতে পারছে, এবারের নির্বাচন সাধারণ কোনো নির্বাচন নয়। তাঁরা পরিবর্তন চান। তাঁর মতে, আরব সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য মোকাবিলায় ভোট দেওয়া জরুরি।

নির্বাচনে ভালো ফলের আভাস পাওয়া দুই আরব দলের মধ্যে এর আগে সরকারে যোগ দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে শুধু রাআমের। ২০২১ সালে দলটি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন নেতানিয়াহুবিরোধী জোট সরকারে অংশ নিয়েছিল। তবে প্রায় এক বছর পর সেই সরকারের পতন ঘটে।

পরবর্তী সময়ে নেতানিয়াহু আবার ক্ষমতায় ফিরে ইসরায়েলের ইতিহাসে অন্যতম ডানপন্থী সরকার গঠন করেন। এবার আরব দলগুলোর সম্ভাব্য সাফল্য এবং তাদের সমর্থনের হিসাব-নিকাশ নতুন করে সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ফল ও জোটের অবস্থান স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

 

স্বর্ণের দাম অপরিবর্তিত রেখে বিক্রি চলছে দেশের বাজারে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৭ এম
স্বর্ণের দাম অপরিবর্তিত রেখে বিক্রি চলছে দেশের বাজারে

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে মূল্য সমন্বয়ের কোনো ঘোষণা না দেওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার আগের নির্ধারিত দামেই অলঙ্কার তৈরির এই মূল্যবান ধাতু বিক্রি হচ্ছে।

আগের বাড়তি দামেই চলছে বেচাকেনা।

সর্বশেষ বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাজুস। সংগঠনটির নির্ধারিত মূল্যতালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাজারে বর্তমানে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকায়। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা রয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এদিকে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বহাল রয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকায়।

বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, এই মূল্যতালিকা গত ২৮ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে সারা দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে কার্যকর হয়েছে।

 

মিরপুর থেকে শুরু, পুরো ঢাকায় চলবে দখলবিরোধী অভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৬ এম
মিরপুর থেকে শুরু, পুরো ঢাকায় চলবে দখলবিরোধী অভিযান

মিরপুরসহ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে ধারাবাহিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে ও বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে দুই দফায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় তিনি এ কথা জানান।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু হকার ও দখলদার সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। এতে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন মার্কেট কমিটির নেতারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানিয়ে আসছেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, জনগণের হাঁটার পথ উন্মুক্ত রাখা নৈতিক দায়িত্ব। সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে পুরো ঢাকা শহরেই অভিযান পরিচালনা করা হবে। ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

প্রশাসক আরও বলেন, পরাজিত শক্তি ও ফ্যাসিবাদী কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ার পরও তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কেউ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করলে তা সফল হতে দেওয়া হবে না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পাশ কাটিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অভিযানে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আক্তার নেলীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এ সময় স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা, ডিএনসিসির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সহযোগিতা করেন।

সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ দখল রোধ এবং পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়েছে ডিএনসিসি প্রশাসন।

ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহরে পরিণত করার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৬ এম
ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহরে পরিণত করার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানী ঢাকাকে জাপানের রাজধানী টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও সুশৃঙ্খল শহরে পরিণত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থা, নাগরিক সচেতনতা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমেই একটি দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব, যা জাপানের বাস্তবচিত্র থেকে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে। স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টোকিওর ‘হোটেল নিউ ওতানি’তে জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশ কমিউনিটি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জাপানি ভাষা শিক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল মাধ্যমে শিশুদের বিকাশ, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, বন্ধ শিল্প-কারখানা পুনরায় চালু করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে তাঁর সরকারের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন। টোকিওর পরিবেশের উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বলেন, চারদিকের ময়লা-আবর্জনা থেকে রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে মানুষকে অসুস্থ করে তোলে, তাই সুস্থ পরিবেশের জন্য বর্জ্য সঠিক উপায়ে অপসারণ অপরিহার্য। তিনি নগর পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সরকারের অন্যতম প্রধান ‘সংস্কার’ হিসেবে অভিহিত করে উল্লেখ করেন যে, দেশে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, নারী ও শিশুরা সুস্থ থাকবে—এর চেয়ে বড় সংস্কার আর কিছু হতে পারে না।

প্রান্তিক মানুষের অধিকার ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসি ঘরে বসে যেসব উচ্চমার্গীয় সংস্কারের কথা বলা হয়, তাতে হাতে গোনা কিছু মানুষ উপকৃত হতে পারেন। কিন্তু তিনি কেবল সেই সংস্কারকেই অগ্রাধিকার দেবেন যা সমাজের প্রতিটি স্তরের সাধারণ মানুষের কল্যাণে সরাসরি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বিএনপি যাতে সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষাকারী সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, সে জন্য একটি বিশেষ মহল অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। দলমত নির্বিশেষে দেশের উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায় তিনি দেশবাসী ও প্রবাসীদের সার্বিক সমর্থন ও ঐক্য কামনা করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বক্তব্যে সফরসঙ্গী হিসেবে আসা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের মৌলিক সমস্যাগুলোর দিকে নজর না দিয়ে অনর্থক বিষয় নিয়ে সময় নষ্ট করা হচ্ছে। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারির সঞ্চালনায় আয়োজিত এই সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় শেষে জাপান বিএনপির নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণীর হাতে একটি স্মারক আলোকচিত্র তুলে দেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক