বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

আপডেট

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত দুই শতাধিক

স্পেন প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৪ পিএম
স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত দুই শতাধিক

স্পেনের তোলেদো প্রদেশের উর্দা এলাকায় দুটি উচ্চগতির যাত্রীবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৭৯ জনের বেশি। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হতাহতের এ সংখ্যা জানিয়েছে কাস্তিয়া-লা মাঞ্চার নাগরিক সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ থেকে আন্দালুসিয়াগামী উচ্চগতির রেল চলাচল দুই দিকেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজ চললেও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কীভাবে আধুনিক সংকেত ও নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত দুটি ট্রেন একই লাইনে সংঘর্ষে জড়াল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে ভয়াবহ সংঘর্ষ

দুর্ঘটনাটি ঘটে বুধবার সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে। মাদ্রিদের আতচা স্টেশন থেকে সেভিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া রেনফের এভিই ২০৮০ নম্বর ট্রেনটি সামনে থাকা ইরিও ৬০৭৬ নম্বর ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে ইরিওর পেছনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে একাধিক বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

রেনফের ট্রেনটির নির্ধারিত গন্তব্য ছিল সেভিয়া। অন্যদিকে, ইরিওর ট্রেনটির যাত্রাপথে সিউদাদ রিয়াল, পুয়ের্তোয়ানো ও কর্দোবা স্টেশনে থামার কথা ছিল। দুর্ঘটনার সময় দুটি ট্রেনের অবস্থান, চলাচলের নির্দেশনা এবং সংঘর্ষের আগের মুহূর্তগুলো এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ১৭৯-এর বেশি

দুর্ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে ৩১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরবর্তী আপডেটে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৪ হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৭৯ জনের বেশি বলে জানিয়েছে কাস্তিয়া-লা মাঞ্চার নাগরিক সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকাজ চলার কারণে হতাহতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

 

প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রেনফের এভিই ট্রেনে প্রায় ৩৯৭ জন এবং ইরিওর ট্রেনে প্রায় ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। অর্থাৎ দুটি ট্রেনে মোট যাত্রীসংখ্যা ছিল প্রায় ৫৪৪। তবে যাত্রীসংখ্যা, নিহত ও আহতদের চূড়ান্ত হিসাব এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের অবস্থা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

উদ্ধারকাজে জরুরি পরিষেবা, আহতদের সরানো হয়েছে

দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে দমকল বাহিনী, সিভিল গার্ড, নাগরিক সুরক্ষা বাহিনী এবং জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা পৌঁছান। আহতদের ট্রেন থেকে বের করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। কাস্তিয়া-লা মাঞ্চার আঞ্চলিক সরকার জরুরি পরিকল্পনা সক্রিয় করে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম সমন্বয় শুরু করে।

আঞ্চলিক সরকারের মুখপাত্র এস্তের পাদিয়া স্পেনের অ্যানতেনা থ্রেস টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, আহতদের ট্রেন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপর উদ্ধারকর্মীরা নিহতদের মরদেহ বের করার কাজ শুরু করবেন।

উদ্ধারকাজে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত বগিগুলো পরীক্ষা করে আটকে পড়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ও তাঁদের পরিবারের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়াও জরুরি হয়ে উঠেছে।

কীভাবে একই লাইনে সংঘর্ষে জড়াল দুটি ট্রেন?

দুর্ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, সামনে একটি ট্রেন থাকা সত্ত্বেও পেছনের ট্রেনটি কীভাবে সংঘর্ষে জড়াল। আধুনিক উচ্চগতির রেলব্যবস্থায় সংকেতপ্রযুক্তি, ট্রেনের অবস্থান পর্যবেক্ষণ এবং স্বয়ংক্রিয় ব্রেকিংয়ের মতো ব্যবস্থা থাকে। এসব প্রযুক্তির উদ্দেশ্যই হলো, সামনে কোনো ট্রেন থেমে থাকলে পেছনের ট্রেনকে সতর্ক করা এবং প্রয়োজন হলে সংঘর্ষ প্রতিরোধ করা।

স্পেনের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেললাইনে সংকেতব্যবস্থা ও ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম তদন্তের আওতায় রয়েছে। আদিফের আতচা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকেও ট্রেনগুলোর অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফলে সংঘর্ষের আগে কোন ট্রেন কোথায় ছিল, কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল এবং চালকদের কাছে কী ধরনের সংকেত পৌঁছেছিল, তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এখন পর্যন্ত সংকেতব্যবস্থার ত্রুটি, মানবিক ভুল কিংবা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যাকে দুর্ঘটনার নিশ্চিত কারণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো একটি কারণকে দায়ী করা হলে তা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।

সংকেতব্যবস্থা ও স্বয়ংক্রিয় ব্রেকিং নিয়ে প্রশ্ন

উচ্চগতির রেলপথে ট্রেনের মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত সংকেতব্যবস্থা সামনের ট্রেনের অবস্থান সম্পর্কে পেছনের ট্রেনকে সতর্ক করে। পরিস্থিতি অনুযায়ী চালককে গতি কমাতে বলা হয়, অথবা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় ব্রেক প্রয়োগ করা হতে পারে।

এ দুর্ঘটনার তদন্তে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সংঘর্ষের আগে সংকেতব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল কি না, ট্রেন দুটির অবস্থান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে সঠিকভাবে দেখা যাচ্ছিল কি না, কোনো ট্রেনকে থামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না এবং স্বয়ংক্রিয় ব্রেকিং ব্যবস্থা কার্যকর ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর জানা প্রয়োজন।

যদি প্রযুক্তিগত ত্রুটি পাওয়া যায়, তাহলে সেটি কী ধরনের ত্রুটি এবং তা প্রতিরোধ করার মতো বিকল্প নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কি না, সেটিও পরীক্ষা করতে হবে। আর যদি সংকেত ও ব্রেকিং ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে কাজ করে থাকে, তাহলে চালকদের নির্দেশনা এবং ট্রেন পরিচালনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হবে।

মাদ্রিদ–আন্দালুসিয়া রেল যোগাযোগ বন্ধ

দুর্ঘটনার পর আদিফ মাদ্রিদ, সিউদাদ রিয়াল ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে উচ্চগতির রেল চলাচল দুই দিকেই স্থগিত করেছে। এর ফলে এই পথে যাতায়াতের পরিকল্পনা করা যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। ট্রেন চলাচল কখন স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।

রেনফে জানিয়েছে, সংস্থার কর্মীরা আহত ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সহায়তায় কাজ করছেন। যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরিও জানিয়েছে, তারা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চালু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে।

ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ পরীক্ষা, উদ্ধারকাজ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরই ট্রেন চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। ফলে যাত্রীদের যাত্রার আগে রেনফে ও ইরিওর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করা প্রয়োজন।

স্পেনের রেল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

স্পেনের উচ্চগতির রেলব্যবস্থা ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন নেটওয়ার্ক। দ্রুতগতির ট্রেন দেশটির প্রধান শহরগুলোর মধ্যে যাতায়াত সহজ করেছে এবং অভ্যন্তরীণ পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা রেল নিরাপত্তা, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

এ ধরনের দুর্ঘটনার পর শুধু চালকের ভুল বা একটি যন্ত্রের ত্রুটি খোঁজাই যথেষ্ট নয়। পুরো নিরাপত্তাব্যবস্থা কীভাবে কাজ করেছে, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছে কী তথ্য ছিল এবং সম্ভাব্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি শনাক্ত করার পর তা প্রতিরোধের সুযোগ ছিল কি না, সেসব বিষয়ও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

তবে তদন্তের ফল প্রকাশের আগে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাকে দায়ী করা সমীচীন হবে না। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তদন্তের ফলের অপেক্ষা

এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। আদিফ, রেনফে, ইরিও এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের তদন্তে ট্রেনের অবস্থান, সংকেতব্যবস্থা, চলাচলের নির্দেশনা ও সংঘর্ষের সময়কার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হবে।

হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা, নিহতদের পরিচয়, আহতদের অবস্থা এবং রেল চলাচল পুনরায় চালুর সময় সম্পর্কে নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে। ততক্ষণ পর্যন্ত সরকারি ঘোষণা ও নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করাই সবচেয়ে যুক্তিসংগত।

তথ্যসূত্র: কাস্তিয়া-লা মাঞ্চার নাগরিক সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ, আদিফ, রেনফে, ইরিও এবং স্পেনের সংবাদমাধ্যম।

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৫ পিএম
বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন

পাবনার চাটমোহরে বিয়ের দাবিতে কথিত প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন এক তরুণী। গত সোমবার রাত থেকে উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের হোগলবাড়িয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের ওসামার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। অবস্থান নেওয়া তরুণী হালিমা খাতুন একই গ্রামের বাসিন্দা।

হালিমা খাতুনের দাবি, ওসামার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিয়ের আশ্বাসে তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তিনি একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গর্ভপাত করতে বাধ্য হন। প্রেমিকের পরিবার এই সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে এই অবস্থান কর্মসূচি নিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, এর আগেও তিনি তিনবার বিয়ের দাবিতে ওই বাড়িতে গিয়েছেন এবং এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি থেকে নড়বেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

হালিমার ভাবি রেবেকা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। এর আগে হালিমা বাড়িতে গেলে তাঁকে ওমরাহ হজ করানোর একটি শর্ত দেওয়া হয়েছিল, যা পালনও করা হয়। কিন্তু এরপরও দুই পরিবারের মধ্যে কোনো সুরাহা হয়নি।

এদিকে হালিমার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসামার বাবা আরিফ বিল্লাহ বলেন, তাঁর ছেলেকে ফাঁসানোর জন্য এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। কল রেকর্ডের কণ্ঠস্বরও ওসামার নয় বলে দাবি করেন তিনি। ওসামার বড় ভাই নাসিম জানান, এর আগে হালিমা বাড়িতে এসে একটি ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

চাটমোহর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লালবুর রহমান জানান, এ বিষয়ে তাঁর কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই।

 

হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৪১২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫২ পিএম
হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৪১২

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪১২ জন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৫ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৩৭ জন মারা গেছেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।

একই সময়ে নতুন করে ৯০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৬৩১ জনে।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৩২২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ফলে এ বছর মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ১০৬ জন।

 

১৩ দিনের নবজাতক রেখে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫০ পিএম
১৩ দিনের নবজাতক রেখে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা

মাত্র ১৩ দিনের এক নবজাতক ও তিন বছরের অপর এক সন্তানকে রেখে সুইটি আক্তার (২২) নামের এক প্রবাসীর স্ত্রী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার পারিবারিক কলহের জেরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোররাতে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের হর্নি দুর্গাপুর গ্রামের মোস্তফা রাঢ়ীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুইটি আক্তারের স্বামী মোহাম্মদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কাতার প্রবাসী।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতককে নিয়ে সুইটি আক্তার নিজ বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার দিন রাতে প্রবাসী স্বামী মোহাম্মদ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে তাঁর কথা কাটাকাটি হয়। পরিবারের ধারণা, ওই কথাকাটাকাটির জেরে অভিমান ও মানসিক অবসাদ থেকে রাতের কোনো এক সময়ে বসতঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। ভোরে পরিবারের লোকজন তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু হানিফ সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ঘটনার বিষয়ে প্রবাসী স্বামী মোহাম্মদ হোসেনের পরিবার জানায়, সুইটির কোলজুড়ে ছোট সন্তান থাকায় তিনি বাবার বাড়িতে ছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এই পথ বেছে নিলেন, সে বিষয়ে তাঁরা সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে পারছেন না। ঘটনার পর থেকে নিহতের ভাই বিল্লাল হোসেনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা শোকাহত থাকায় এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. এরশাদ উল্লা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ছাড়া আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক