পারিবারিক দ্বন্দ্বে মামা শ্বশুরের কামড়ে গৃহবধূ গুরুতর আহত
মামা শ্বশুরের কামড়ে আহত গৃহবধু। ছবি- সংগৃহীত।
নীলফামারীর ডোমারে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূ তার মামা শ্বশুরের কামড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আহত গৃহবধূর ভাই বাদী হয়ে ডোমার থানায় মামা শ্বশুর নুর হোসেনসহ ছয়জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হরিনচড়া ইউনিয়নের শালমারা গ্রামের শরীফুল ইসলামের সঙ্গে একই ইউনিয়নের পূর্ব হরিনচড়া গ্রামের ওসমান গণির মেয়ে জান্নাতুনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই জান্নাতুনের সঙ্গে শাশুড়ি ফুলবানুর দ্বন্দ্ব শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, শাশুড়ি প্রায়ই তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন।
আহত জান্নাতুন জানান, কয়েকদিন ধরে শাশুড়ি তার নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছিলেন। এ নিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে শাশুড়ি মামা শ্বশুর নুর হোসেনকে খবর দেন। এরপর কয়েকজন আত্মীয় মিলে তাকে আক্রমণ করে, বাড়িঘর ভাঙচুর চালায় এবং নুর হোসেন তার ডান হাতে কামড় দেন। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়লে ভাই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্বামী শরীফুল ইসলাম বলেন, এর আগেও মামা শ্বশুর তার স্ত্রীকে মারধর করেছিলেন। মায়ের বিরুদ্ধে স্ত্রীর অভিযোগ সত্য। একাধিকবার গ্রাম্য শালিস হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি।
অভিযুক্ত শাশুড়ি ফুলবানু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দাবি করেন, “বউ আমার উপর হাত তুলেছিল, তাই হাতাহাতি হয়েছে। তবে কোনো পুরুষ তাকে মারেনি।”
জান্নাতুনের ভাই সুজন ইসলাম বলেন, বোনের ফোন পেয়ে দ্রুত গিয়ে দেখি সে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আমাকে দেখে অভিযুক্তরা হুমকি দেয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং থানায় অভিযোগ করি।
হরিনচড়া ইউপি চেয়ারম্যান রাছেল রানা জানান, শাশুড়ি ও গৃহবধূ উভয়েই বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তারা সুস্থ হলে সমঝোতার চেষ্টা করা হবে। এর আগেও তাদের পারিবারিক সমস্যার সমাধান করা হয়েছিল, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয়নি।
ডোমার থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. কাওছার আলী বলেন, অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।










