রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন প্রবাসী কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসাধারী।
আহত বাংলাদেশিদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালের ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরিত হয়। এতে দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত হন এবং আহত হন ৩০৮ জন।
এর আগে নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় জানিয়েছিল প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তাঁদের একজন বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের শাহেদ আহম্মেদ। তিনি রিয়াদের সাদ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানির জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটিতে দেশে এসে তিনি রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন।
নিহত অপর বাংলাদেশি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের নাসরুল্লাহ বদরপুরি। ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে যাওয়া এই যাত্রী রিয়াদে ট্রানজিটে ছিলেন। সেখান থেকে জেদ্দায় যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত বাংলাদেশিরা
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আহত ২৪ বাংলাদেশি রিয়াদের অন্তত ১১টি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কিং আব্দুল্লাহ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ওমরাহযাত্রী হাফেজ হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের ওমরাহযাত্রী কাজী নুরুল্লাহ এবং প্রবাসী কর্মী মো. ওমর ফারুক। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা তাঁদের সঙ্গে দেখা করে খোঁজখবর নিয়েছেন। বর্তমানে তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল।
ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন নওগাঁর রাণীনগরের সাফফাত রহমান এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের দাউদুল ইসলাম। তাঁরা দুজনই ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়ে ট্রানজিটে ছিলেন।
রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ঢাকার লালবাগের সাইদুল ইসলাম সৌরভ ও মিরপুরের আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন। তাঁরাও ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়ে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।
প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ঢাকার ডেমরার ওমরাহযাত্রী আব্দুল্লাহ।
সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ওমরাহযাত্রী আরমান হোসেন এবং প্রবাসী কর্মী মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ আব্দুল হক।
কিংডম হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন প্রবাসী কর্মী রফিক মিয়া। কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ওমরাহযাত্রী ইসমাইল হোসাইন ও মিসবাহ উদ্দীন হীরক এবং প্রবাসী কর্মী মো. রায়হানুল ইসলাম।
প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন পাঁচ প্রবাসী কর্মী সালমা আক্তার, শাহাদাত হোসেন, মোশাহিদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোবহে সাদেক মো. শাহজাহান সরকার।
এ ছাড়া এস্টার সনদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রবাসী কর্মী আসাদুল ইসলাম ও ওমরাহযাত্রী জামাল। সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ওমরাহযাত্রী নাজমা আক্তার। সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের আলসাহাফা শাখায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওমরাহযাত্রী উমায়ের ও আব্দুল্লাহ কামিল।
আটকে পড়া প্রায় ৫০০ যাত্রীকে সহায়তা
হামলার পর বিমানবন্দর ও অভ্যন্তরীণ রুটে আটকে পড়া প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস।
দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে সৌদিয়া এয়ারলাইন্স, রিয়াদ এয়ার ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের যাত্রী এবং সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ গন্তব্যগামী ১০০ জনের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁদের রিয়াদের ম্যারিয়ট হোটেল, রেডিসন হোটেল ও প্রিন্সেস নূরা ইউনিভার্সিটির আবাসনে রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া এহরাম পরা ৬৭ জন ওমরাহযাত্রীকে বিশেষ বাসে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানো হয়েছে।
সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের বাতিল হওয়া এসভি-৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস। পাশাপাশি বাহরাইনগামী দুই কর্মীকে স্থলবন্দর দিয়ে যেতে সহায়তা করা হয়েছে।
এদিকে রোববার রিয়াদ বিমানবন্দরে চতুর্থবারের মতো হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী। হামলায় বিমানবন্দরে আগুন ধরে যায়।
ইরান-সমর্থিত হুতিরা বিমান সংস্থা ও যাত্রীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলো এড়িয়ে চলার সতর্কবার্তা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এ হামলা হয়।
রোববার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
শনিবারের হামলার আগেও গত এক সপ্তাহে খালিদ বিমানবন্দরে আরও দুইবার হামলা হয়। ওই দুই হামলায় চারজন নিহত ও অনেকে আহত হন। হামলায় সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হামলার পর বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবগামী অন্তত আটটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। রিয়াদ বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ওঠানামা বন্ধ থাকায় বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে হামলা ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাত এড়িয়ে শান্তি ও সংলাপে ফিরে আসার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে ঢাকা।













