মালয়েশিয়ার পার্লামেন্ট, জনতার দুয়ারে গণতন্ত্র
গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানকে জনগণের আরও কাছে আনতে মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছিল সাধারণ মানুষের জন্য। দুই দিনব্যাপী ‘মালয়েশিয়া পার্লামেন্ট উন্মুক্ত দিবস ২০২৬’-এ পার্লামেন্ট ভবন পরিদর্শনে নামে দর্শনার্থীদের ঢল। প্রথম দিনেই প্রায় ১০ হাজার মানুষ পার্লামেন্টে এসেছেন বলে জানিয়েছেন দেওয়ান রাকিয়াতের স্পিকার তান শ্রী ড. জোহারি আবদুল। স্থানীয় দর্শনার্থীদের পাশাপাশি বিদেশিরাও এতে অংশ নেন।
১২ সেপ্টেম্বর শনিবার শুরু হওয়া এ আয়োজন শুধু ঐতিহাসিক পার্লামেন্ট ভবন দেখার সুযোগই দেয়নি; বরং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান কীভাবে কাজ করে, তার ভেতরের কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ করে দিয়েছে সাধারণ মানুষকে।

দেওয়ান রাকিয়াতের স্পিকার তান শ্রী ড. জোহারি আবদুল বলেন, উন্মুক্ত দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পার্লামেন্টকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা। মানুষ যাতে শুধু বাইরে থেকে পার্লামেন্ট ভবন না দেখে, বরং এর ভেতরে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়, সেটিও জানতে পারে এ সুযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
শনিবার পার্লামেন্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করেন। তাদের মধ্যে বিদেশি দর্শনার্থীও ছিলেন।
জোহারি আবদুল বলেন, দুই বছর আগে দুই দিনে প্রায় ১০ হাজার দর্শনার্থী পার্লামেন্টে এসেছিলেন। এবার প্রথম দিনেই প্রায় ১০ হাজার মানুষ পার্লামেন্ট পরিদর্শনে এসেছেন। এতে জনগণের মধ্যে পার্লামেন্ট ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানার আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জাতীয় মাস উপলক্ষে দুই দিনের এ উন্মুক্ত দিবসের আয়োজন করা হয়। এতে দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয় নানা ধরনের প্রদর্শনী, বিক্রয় কার্যক্রম, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সংক্ষিপ্ত আলোচনা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও মঞ্চ পরিবেশনা।
জাতীয় চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন মালয়েশিয়ার উদ্যোগে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক আয়োজনও ছিল। ফলে পার্লামেন্ট পরিদর্শন দর্শনার্থীদের কাছে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক ভবন ভ্রমণ নয়, বরং গণতন্ত্র, সংস্কৃতি ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি সমন্বিত অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে দেওয়ান নেগারার সভাপতি দাতুক আওয়াং বেমি আওয়াং আলী বাসাহ, দেওয়ান নেগারার সচিব মুহাম্মদ সুজাইরি আবদুল্লাহ এবং দেওয়ান রাকিয়াতের সচিব ড. নিজাম মাইদিন বাচা মাইদিন উপস্থিত ছিলেন।
মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের প্রধান প্রশাসক দাতুক ড. আহমাদ হুসাইনি আবদুল রহমান বলেন, ‘পার্লামেন্টকে জনগণের কাছে নিয়ে আসা’ মানে শুধু ঐতিহাসিক ভবনটিতে বেশি মানুষকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া নয়। এর গভীরে রয়েছে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সবসময় জনগণের কাছাকাছি রাখার নীতি।
তিনি বলেন, পার্লামেন্ট কীভাবে পরিচালিত হয়, তা জানার অধিকার জনগণের রয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের শক্তি অনেকাংশে নির্ভর করে জনগণ সেটিকে কতটা বোঝে, বিশ্বাস করে এবং নিজেদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনুভব করে তার ওপর।
আহমাদ হুসাইনি আরও বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার শুধু আইন পরিবর্তন, কাঠামোগত সংস্কার কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থার পরিবর্তনে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। এসব পরিবর্তনের প্রভাব জনগণ যাতে বাস্তবভাবে অনুভব করতে পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
উন্মুক্ত দিবসে অংশ নেওয়া ২৮ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা আথিরাহ আমালিন আহমাদ দাউদ বলেন, এতদিন তিনি পার্লামেন্টের কার্যক্রম শুধু টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছেন। এবার সরাসরি পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশ ও কার্যক্রম কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। তার কাছে অভিজ্ঞতাটি ছিল অত্যন্ত আনন্দের ও রোমাঞ্চকর।
অন্য দর্শনার্থী ২৩ বছর বয়সী আমির হাইকাল মোহাম্মদ ফিরদাউস নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেক মানুষ কখনো পার্লামেন্টে প্রবেশের সুযোগ পাননি। নিজের চোখে এসে দেখলে পার্লামেন্টের কার্যক্রম সম্পর্কে বোঝাপড়া আরও পরিষ্কার হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কও ঘনিষ্ঠ হয়।
উন্মুক্ত দিবসের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার পার্লামেন্ট এবার নিজেকে শুধু আইন প্রণয়নের কেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং জনগণের জন্য উন্মুক্ত একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেও তুলে ধরেছে। আয়োজনটির মধ্য দিয়ে জনগণের অংশগ্রহণ, বোঝাপড়া ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।










