শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সীমান্ত বিরোধ তীব্র

ইতালির সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের জবাবে স্পেনের পাল্টা পদক্ষেপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৮ পিএম
ইতালির সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের জবাবে স্পেনের পাল্টা পদক্ষেপ

সেউতায় সাম্প্রতিক অভিবাসন সংকটকে কেন্দ্র করে ইতালি ও স্পেনের মধ্যে চলমান বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। ইতালি স্পেনের সঙ্গে শেনজেনভিত্তিক অবাধ যাতায়াতের ওপর সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আরোপের পর এবার পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে মাদ্রিদ। শনিবার মধ্যরাত থেকে ইতালি থেকে স্পেনে আকাশ ও সমুদ্রপথে আসা যাত্রীদের ওপর সীমান্ত পরীক্ষা শুরু করেছে স্পেন। এই ব্যবস্থা আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকার কথা রয়েছে।

স্পেন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইতালি থেকে আসা যাত্রীদের পাসপোর্ট, জাতীয়তা ও ভিসা পরীক্ষা করা হবে। ইতালির নাগরিকদের পাশাপাশি ইতালি হয়ে স্পেনে প্রবেশকারী অন্যান্য দেশের নাগরিকেরাও এই নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকবেন। মাদ্রিদ বলছে, ইতালির আরোপ করা একই ধরনের নিয়ন্ত্রণের জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ৩১ জুলাই ইতালি স্পেনের সঙ্গে শেনজেনের অবাধ যাতায়াতব্যবস্থা সাময়িকভাবে সীমিত করার ঘোষণা দেয়। রোমের দাবি, মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর প্রবেশের পর ইউরোপের অভ্যন্তরে অনিয়মিত অভিবাসনের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় এ ব্যবস্থা প্রয়োজন। ইতালি অন্তত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ বহাল রাখার অবস্থান জানিয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

সেউতায় কী ঘটেছিল:
গত ৩০ জুলাই মরক্কো থেকে সেউতায় নজিরবিহীনভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রবেশের চেষ্টা করেন। স্পেনের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৭২ হাজার মানুষ এক সপ্তাহের মধ্যে সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন। এর মধ্যে এক দিনে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেন। ঘটনাটিতে অন্তত ৭২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ সাঁতার কেটে ও সীমান্ত বেড়া অতিক্রম করে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পেন সেউতার উপকূলে প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ ভাসমান প্রতিবন্ধক স্থাপন করে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। বেশির ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসী পরে মরক্কোতে ফিরে গেলেও সেউতায় এখনো প্রায় এক হাজার একশত অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসী অবস্থান করছে। তাদের মূল ভূখণ্ড স্পেনে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে মাদ্রিদ।

মরক্কোও এসব অপ্রাপ্তবয়স্ককে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় স্পেনের সঙ্গে সহযোগিতা করার আগ্রহ জানিয়েছে। তবে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও স্প্যানিশ আইনি সুরক্ষা থাকায় তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় জটিল।

ইতালির সিদ্ধান্ত নিয়ে স্পেনের আপত্তি:
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকার মনে করে, ইতালির সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্তের বাস্তব ভিত্তি দুর্বল। মাদ্রিদের যুক্তি, সেউতা শেনজেন এলাকার অংশ নয়। ফলে সেউতায় প্রবেশ করা অনিয়মিত অভিবাসীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেনজেন এলাকার অন্য দেশে, যেমন ইতালিতে, প্রবেশের অধিকার পান না।

স্পেন আরও দাবি করেছে, সেউতায় প্রবেশ করা অধিকাংশ অভিবাসী ইতোমধ্যে মরক্কোতে ফিরে গেছে। ফলে তাদের ইতালিতে যাওয়ার আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে স্পেনের সঙ্গে শেনজেনভিত্তিক যাতায়াত সীমিত করার সিদ্ধান্তকে মাদ্রিদ অযৌক্তিক বলে মনে করছে।

অন্যদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার বলছে, নিরাপত্তা ও অভিবাসনসংক্রান্ত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়েই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতালি স্পেনের দেওয়া সময়সীমার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। রোমের অবস্থান হলো, নিরাপত্তা ও নতুন অভিবাসনপ্রবাহের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত তারা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বেগ:
সেউতার ঘটনা ইতালির সঙ্গে স্পেনের দ্বন্দ্বের বাইরে পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ৪ আগস্ট ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অভিবাসী পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রত্যাবাসন নীতি আরও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েনও স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজকে চিঠি দিয়ে মরক্কোর সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আরও ইউরোপীয় সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন।

এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, গুরুতর জননিরাপত্তা বা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকি দেখা দিলে শেনজেনভুক্ত দেশগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অভ্যন্তরীণ সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে পারে। তবে এ ধরনের ব্যবস্থা অবশ্যই সাময়িক, প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক হতে হবে এবং সাধারণত এটি শেষ অবলম্বন হিসেবে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

শেনজেন নিয়ে নতুন উদ্বেগ:
ইতালি ও স্পেনের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ ইউরোপের সীমান্তমুক্ত চলাচলব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে এর অর্থ স্পেন বা ইতালিকে শেনজেন এলাকা থেকে বহিষ্কার করা হয়নি। এটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ সীমান্তে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা।

বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশও নিরাপত্তা ও অনিয়মিত অভিবাসনের কারণে অভ্যন্তরীণ সীমান্তে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ চালু রেখেছে। ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, এসব নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন ও আনুপাতিকতার ভিত্তিতে সীমিত রাখা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া উচিত।

সেউতার অভিবাসন সংকট তাই এখন শুধু স্পেন ও মরক্কোর সীমান্ত সমস্যা নয়; এটি ইতালি ও স্পেনের রাজনৈতিক বিরোধ, ইউরোপের অভিবাসননীতি এবং শেনজেনের অবাধ চলাচলব্যবস্থা—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে একই সঙ্গে সামনে নিয়ে এসেছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, ইউরোপীয় কমিশন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক দপ্তর।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক