তথ্য চাইল দূতাবাস
আমিরাতে ৯৮৫ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল
সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত এবং ছুটিতে দেশে এসে আকস্মিকভাবে ভিসা বাতিল হওয়ায় আটকে পড়া বাংলাদেশিদের সহায়তায় কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। এ পর্যন্ত ভিসা বাতিল হওয়া ৯৮৫ বাংলাদেশি প্রবাসীর তথ্য সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়েছে।
আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, ৩ আগস্ট পর্যন্ত ইমেইলের মাধ্যমে প্রাপ্ত আবেদন যাচাই করে এসব তথ্য কূটনৈতিক নোট (নোট ভার্বাল) আকারে আমিরাত সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। দূতাবাসে মোট প্রায় আড়াই হাজার আবেদন জমা পড়েছে। যাচাই শেষে পর্যায়ক্রমে বাকি আবেদনগুলোর তথ্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
দূতাবাসের পাঠানো নোটে ভিসা বাতিলের কারণ, পুনরায় ভিসা সক্রিয় করার সম্ভাব্য প্রক্রিয়া এবং বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থানরত ক্ষতিগ্রস্তদের আমিরাতে থাকা ব্যবসা, ব্যাংক হিসাব বা অন্যান্য সম্পদ সংক্রান্ত বিষয়ে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে।
তবে দূতাবাস স্পষ্ট করেছে, ইমেইলে তথ্য পাঠানো বা ডেটাবেজে নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া মানেই ভিসা পুনর্বহালের নিশ্চয়তা নয়। ভিসা পুনরায় চালু করার একমাত্র ক্ষমতা সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের। বাংলাদেশ দূতাবাস কেবল ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করছে।
এর আগে দূতাবাস ভিসা বাতিলের অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের নির্ধারিত সরকারি ইমেইলে তথ্য পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিল। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে কেবল দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুসরণ করার অনুরোধও জানানো হয়।
এদিকে ভিসা বাতিলের ঘটনায় দেশে অবস্থানরত অনেক প্রবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিবার নিয়ে ছুটিতে থাকা অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই আমিরাতে ফেরার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিমান টিকিট পরিবর্তন বা নতুন টিকিট কিনছেন।
ভিসা বাতিলের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো আমিরাত সরকার আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, প্রতিষ্ঠানের কোটা অতিক্রম করে কর্মী নিয়োগ, ভিসার পেশা ও প্রকৃত কাজের অমিল, ওয়েজ প্রোটেকশন সিস্টেমের নিয়ম লঙ্ঘন, প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক জটিলতা, বিনিয়োগকারী ভিসার অপব্যবহার, জাল সনদ, সামাজিক মাধ্যমে আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড কিংবা অন্যান্য আইনি জটিলতার কারণে কিছু ভিসা বাতিল হয়ে থাকতে পারে। এসব কারণের কোনোটি যে সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।













