শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলায় কঠোর , মামলা ৩,১৭২ টি ডিএমপি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ২:১৫ পিএম
রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলায় কঠোর , মামলা ৩,১৭২ টি  ডিএমপি

রাজধানী ঢাকার সড়কগুলোতে দীর্ঘদিনের জটলা, বেপরোয়া গতি আর ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা বন্ধে আরও কঠোর অবস্থানে নেমেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিরাপদ করতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মাত্র একদিনেই তিন হাজারের বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ডিএমপির দেওয়া সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার দিনভর ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও সড়কে অভিযান চালিয়ে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মোট ৩,১৭২টি মামলা রুজু করা হয়। ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে এই চিরুনি অভিযানে বিপুল সংখ্যক গণপরিবহন, পণ্যবাহী যান এবং ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মামলা দায়েরের পাশাপাশি আইন ভঙ্গকারী ৭১৫টি গাড়িকে পাঠানো হয়েছে ডাম্পিংয়ে এবং আরও ১৮৬টি যানকে রেকার করা হয়েছে।

ডিএমপির আটটি ট্রাফিক বিভাগের সমন্বিত এই অভিযানে নগরের মূল সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে অবস্থান নেওয়া ট্রাফিক সার্জেন্ট ও পুলিশ সদস্যরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। प्राप्त পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মিরপুর ও ওয়ারী অঞ্চলে ট্রাফিক আইন ভাঙার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে। নিচে বিভিন্ন বিভাগে চালুকৃত মামলা ও আটক যানবাহনের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

অভিযানের সবচেয়ে বড় ধাক্কা দেখা গেছে মিরপুর অঞ্চলে। বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, সিএনজি ও বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেলসহ এই বিভাগে সর্বোচ্চ ৯৪৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে ৪৫০টি। পুরান ঢাকা ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭১৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাস, ট্রাক ও সিএনজি চালকদের নিয়ম ভঙ্গের দায়ে এই বিভাগে বড় অংকের মামলা হয়।

উত্তর ঢাকার অন্যতম প্রবেশদ্বার উত্তরা এলাকায় সিগন্যাল অমান্য, উল্টো পথে গাড়ি চালানো ও হেলমেটহীন মোটরসাইকেল চালানোর দায়ে ৪০১টি মামলা হয়েছে। বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলে গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলা রুখতে ট্রাফিক পুলিশের অভিযানে ৩১৯টি মামলা দায়ের করা হয়। যানজটপ্রবণ তেজগাঁও ও ফার্মগেট এলাকায় ট্রাফিক আইনে মামলা হয়েছে ২৫৬টি। অভিজাত এলাকা গুলশানেও আইনের ব্যতিক্রম ঘটেনি। ট্রাফিক বিধিমালা ভঙ্গের অপরাধে সেখানে ২১৬টি মামলা ঠোকা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকার লালবাগ অঞ্চলে পরিচালিত অভিযানে মোট ১৮০টি মামলা রুজু করা হয়। তুলনামূলকভাবে রমনা এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা সচেতনতা কিছুটা ইতিবাচক হলেও আইন অমান্যের কারণে ১৪০টি মামলা হয়েছে।

আইন অমান্যকারী যানবাহনের ধরণ পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, সড়কে অনিয়মের শীর্ষে রয়েছে দুই চাকার যান মোটরসাইকেল এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করানো বাস।

বিভিন্ন বিভাগের ট্রাফিক মামলাগুলোর বিভাগভিত্তিক এবং যানবাহনভিত্তিক পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো। মিরপুর বিভাগে বাসের বিরুদ্ধে ১২৪টি, ট্রাকের বিরুদ্ধে ৪০টি, কাভার্ডভ্যানের বিরুদ্ধে ৮০টি, সিএনজির বিরুদ্ধে ৭৮টি এবং মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ৪৫০টি মামলাসহ সর্বমোট ৯৪৬টি মামলা হয়েছে। ওয়ারী বিভাগে বাসের বিরুদ্ধে ১০২টি, ট্রাকের বিরুদ্ধে ৭৫টি, কাভার্ডভ্যানের বিরুদ্ধে ৬৭টি, সিএনজির বিরুদ্ধে ১১২টি এবং মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ১৮৩টি মামলাসহ সর্বমোট ৭১৪টি মামলা হয়েছে। উত্তরা বিভাগে বাসের বিরুদ্ধে ৮০টি, ট্রাকের বিরুদ্ধে ২১টি, কাভার্ডভ্যানের বিরুদ্ধে ২১টি, সিএনজির বিরুদ্ধে ৬৬টি এবং মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ১০৬টি মামলাসহ সর্বমোট ৪০১টি মামলা হয়েছে। মতিঝিল বিভাগে বাসের বিরুদ্ধে ৪০টি, ট্রাকের বিরুদ্ধে ১৬টি, কাভার্ডভ্যানের বিরুদ্ধে ৬৫টি, সিএনজির বিরুদ্ধে ১৪৪টি এবং মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ৫৪টি মামলাসহ সর্বমোট ৩১৯টি মামলা হয়েছে। তেজগাঁও বিভাগে বাসের বিরুদ্ধে ২৩টি, ট্রাকের বিরুদ্ধে ৩টি, কাভার্ডভ্যানের বিরুদ্ধে ১৭টি, সিএনজির বিরুদ্ধে ৪৩টি এবং মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ১০৩টি মামলাসহ সর্বমোট ২৫৬টি মামলা হয়েছে। গুলশান বিভাগে বাসের বিরুদ্ধে ১২টি, ট্রাকের বিরুদ্ধে ৫টি, কাভার্ডভ্যানের বিরুদ্ধে ১২টি, সিএনজির বিরুদ্ধে ২৫টি এবং মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ৭৯টি মামলাসহ সর্বমোট ২১৬টি মামলা হয়েছে। লালবাগ বিভাগে বাসের বিরুদ্ধে ১০টি, ট্রাকের বিরুদ্ধে ১২টি, কাভার্ডভ্যানের বিরুদ্ধে ৬টি, সিএনজির বিরুদ্ধে ২৮টি এবং মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ১০৩টি মামলাসহ সর্বমোট ১৮০টি মামলা হয়েছে। রমনা বিভাগে বাসের বিরুদ্ধে ১০টি, ট্রাকের বিরুদ্ধে ১টি, কাভার্ডভ্যানের বিরুদ্ধে ৮টি, সিএনজির বিরুদ্ধে ১৩টি এবং মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ৫৬টি মামলাসহ সর্বমোট ১৪০টি মামলা হয়েছে।

আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং উপযুক্ত কাগজপত্র না থাকায় ৭১৫টি যানবাহন ডাম্পিং করা হয়েছে এবং পথচলতি চলাচলে বাধা সৃষ্টিকারী ১৮৬টি যানকে রেকার দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ডিএমপি সূত্র জানায়, নিয়মিত মামলার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, উল্টো পথে দ্রুতগতিতে যান চালানো, রুট পারমিট ও ফিটনেসবিহীন বাস চালানো এবং চালকদের মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স। বিশেষ করে রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে বাস থামিয়ে অবৈধভাবে যাত্রী তোলার প্রবণতা যানজট বাড়ানোর প্রধান কারণ হওয়ায় গণপরিবহনগুলোর ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, মেগাসিটি ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করতে আইন প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই। আইন অমান্যকারী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। চালক ও মালিকদের ইতিবাচক মানসিকতা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে না উঠলে কেবল জরিমানা করে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

নগরবাসীর একটি বড় অংশ ট্রাফিক পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। দৈনন্দিন যাতায়াতে যারা ট্রাফিক জ্যামের ভোগান্তিতে পড়েন, তাদের মতে, উল্টো পথে গাড়ি চালানো এবং মোড়গুলোতে যত্রতত্র বাস দাঁড়িয়ে থাকার কারণেই মূলত কৃত্রিম যানজট তৈরি হয়। তবে নিয়মিত এই ধরনের অভিযান পরিচালিত হলে চালকদের মধ্যে আইন মানার ভয় ও প্রবণতা বাড়বে।

একইসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল মামলার সংখ্যা বাড়ানোই শেষ কথা নয়, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ডিজিটাল সিগন্যাল ব্যবস্থার সঠিক বাস্তবায়ন এবং পথচারীদের ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করাও সমান জরুরি।

ডিএমপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, রাজধানী জুড়ে এই ট্রাফিক শৃঙ্খলা অভিযান কোনো সাময়িক পদক্ষেপ নয়। ঢাকা মহানগরীর সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। চালক, পথচারী ও পরিবহন মালিক সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলে পুলিশকে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে ডিএমপি।

এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ পিএম
এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে কার্গো জাহাজ থেকে ভাসমান টার্মিনালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি খালাস আবার শুরু হয়েছে। এতে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে শিগগিরই দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহেশখালীতে এলএনজি খালাসের কাজ পুনরায় চালু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরবরাহে এর প্রভাব দেখা যায়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা নাগাদ এলএনজি থেকে প্রায় ৭৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। একই সময়ে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যায় প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। সব মিলিয়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় প্রায় ২৩৪ কোটি ঘনফুট।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে হঠাৎ বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। ইন্দোনেশিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে আসা ‘প্যাসিফিক সাকসেস’ নামের একটি কার্গো জাহাজ বৃহস্পতিবার মহেশখালীতে পৌঁছালেও উত্তাল সাগরের কারণে সেটি থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ফলে একটি টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছিল। একপর্যায়ে এলএনজি সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুটে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

চাহিদার তুলনায় এখনো ঘাটতি

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার সেই সরবরাহ কমে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়।

দেশের মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসে। মহেশখালীর সমুদ্র এলাকায় থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় পাইপলাইনে পাঠানো হয়। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি সামিট গ্রুপের।

দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সর্বোচ্চ সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হলে কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো ব্যবস্থায় দ্রুত প্রভাব পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি টার্মিনালে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো মহেশখালীতে পৌঁছে গেলেও সাগরের পরিস্থিতির কারণে সেটি থেকে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে যে পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাওয়ার কথা, তার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার উন্নতি হলে আবার কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বাড়তে থাকে।

এর আগে জুলাইয়ে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পরও দেশে বড় ধরনের গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছিল। প্রায় এক মাস পর আগস্টে টার্মিনালটি পুনরায় চালু হয়। এরপর এলএনজি আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিও কিছুটা উন্নত হচ্ছিল।

এর মধ্যেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন করে এলএনজি খালাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে আবার চাপ তৈরি হয়। শুক্রবার সকালে খালাস পুনরায় শুরু হওয়ায় সেই পরিস্থিতি আপাতত কাটতে শুরু করেছে। তবে দেশের মোট চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো কম থাকায় গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে আমদানি ও এলএনজি খালাস নিয়মিতভাবে চালু থাকার ওপর।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৫ পিএম
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, করলা, পটল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা ও ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে কাঁচামরিচ ও টমেটোর দামও ঊর্ধ্বমুখী।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে লম্বা বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও একই ধরনের বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল।

করলা এখন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে উঠেছে। ঝিঙা ও ধুন্দলের ক্ষেত্রেও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা পেপের দাম অবশ্য আগের মতোই প্রায় ৩০ টাকা কেজি রয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাজারে সবজির পাশাপাশি মাছের দামেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। আকারভেদে রুই মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২২০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। ফার্মের ডিম, ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির দাম মোটামুটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি প্রায় ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম সামান্য বাড়লেও বাজারে তা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ডজনের মধ্যে রয়েছে। চালের দামেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বড় কোনো প্রভাব এখনো দেখা যায়নি।

পরিবহন খরচের প্রভাব, নাকি বাড়তি মুনাফা?

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। যশোর থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সবজি পরিবহনের উদাহরণ দিয়ে এক ব্যবসায়ী জানান, আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া প্রায় ১৮ হাজার টাকা থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তা বেড়ে ২১ হাজার টাকার কাছাকাছি হয়েছে। এতে বেগুনসহ অন্যান্য সবজির পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দর কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। এর আগে চলতি বছর এপ্রিল ও জুনেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের যুক্তি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজার পর্যন্ত পণ্য আনতে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। সেই ব্যয়ের একটি অংশ খুচরা মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় যতটা বেড়েছে, তার তুলনায় অনেক পণ্যের দাম খুচরা বাজারে বেশি হারে বাড়ানো হচ্ছে। তাদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব থাকলেও একবারে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর যৌক্তিকতা সব ক্ষেত্রে নেই। বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে দুধ, আটা ও ময়দার দামেও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও একই পরিমাণ দাম বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহকারী কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আটা ও ময়দার দামও বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটারে প্রায় চার টাকা বাড়ার পর দুই লিটারের একটি বোতল এখন ৪০৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের নতুন দরের প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ব্যবসায়ীরা পরিবহন ব্যয়কে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বললেও ক্রেতারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে খুচরা পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক