শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

‘নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাইবার হামলা’, আরেক স্টার্টআপ হ্যাক করল এআই

প্রযুক্তি ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৮ পিএম
‘নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাইবার হামলা’, আরেক স্টার্টআপ হ্যাক করল এআই

সিকিউরিটি টেস্টের বা নিরাপত্তা পরীক্ষা সময় নিজেদের অত্যন্ত উন্নত কিছু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। এরপর সেই এআই মডেলগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা চালিয়েছে বলে স্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি নিজেই।

স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম এসব এআই ‘এজেন্ট’ বা বটকে একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ বা ‘স্যান্ডবক্স’-এ রেখে পরীক্ষা করা হচ্ছিল। কিন্তু পরীক্ষা চলাকালেই স্যান্ডবক্সের নিরাপত্তাত্রুটি খুঁজে বের করে সেখান থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয় এআই মডেলগুলো।

এরপর এগুলো এআই মডেল শেয়ার করার বৈশ্বিক হাব হিসেবে পরিচিত ‘হাগিং ফেস’-কে লক্ষ্যবস্তু বানায় এবং প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে এক্সেস বা অননুমোদিত প্রবেশাধিকার তৈরি করে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ওপেনএআই এই ঘটনাকে ‘অভূতপূর্ব’ হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছে, কী ঘটেছে তা বিস্তারিত তদন্ত করতে এবং তাদের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে তারা হাগিং ফেসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইন্ডারু সেন্টার ফর টেকনোলজি অ্যান্ড ডেমোক্রেসির প্রধান জিনা নেফ বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘সিকিউরিটি টেস্টের জায়গা বা স্যান্ডবক্স হলো এমন একটি সুরক্ষিত পরিবেশ যেখানে এআই মডেলগুলোর ক্ষমতা কত দূর পৌঁছাতে পারে তা পর্যবেক্ষণ করা হয়।’

‘কিন্তু এই ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে, ওপেনএআই যথেষ্ট সুরক্ষিত স্যান্ডবক্স তৈরি করতে পারেনি,’ যোগ করেন তিনি।

পরীক্ষামূলক পরিবেশের ভেতরেই এআই এজেন্টগুলো স্যান্ডবক্সের দুর্বলতা শনাক্ত করে সেটির ওপর নিজস্ব সাইবার হামলা চালায় এবং বাইরে বেরিয়ে আসে।

বাইরে আসার পর, পরীক্ষায় তাদের দেওয়া নির্দেশনার উত্তর খোঁজার সম্ভাব্য উৎস হিসেবে তারা হাগিং ফেসকে চিহ্নিত করে এবং সিস্টেমটিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে।

গত ১৬ জুলাই প্রথম এই সাইবার হামলার তথ্য প্রকাশ করে হাগিং ফেস। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গ্রাহক বা অংশীদারদের কোনো সংবেদনশীল তথ্য বা ডেটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা তা তারা এখনো খতিয়ে দেখছে। প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

ইতিমধ্যেই আক্রান্ত ব্যবস্থার নিরাপত্তাত্রুটি বন্ধ করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সিস্টেমগুলো নতুন করে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে হাগিং ফেস বলেছে, ‘স্বায়ত্তশাসিত এবং এআই পরিচালিত আক্রমণাত্মক প্রযুক্তি আর কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় নয়।’

‘যেকোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রক্ষা করার অর্থ এখন ডেটা ও মডেল সিস্টেমকে শীর্ষ মাত্রার সাইবার হামলার ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা এবং তা রক্ষায় এআই-ভিত্তিক সুরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করা। আমরা সেখানে বিনিয়োগ এবং নতুন শিক্ষা শেয়ার করা অব্যাহত রাখব।’ বলেছে হাগিং ফেস।

প্রযুক্তি যত শক্তিশালী হচ্ছে, এই ঘটনা উন্নত এআই ব্যবস্থার অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা এবং বিদ্যমান নিরাপত্তাবেষ্টনীর কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘সোনিকেল’-এর নির্বাহী স্পেন্সর স্টার্কি বিবিসিকে বলেন, ‘প্রতিনিধি বা সাইবার অপরাধীরা যখন মেশিনের গতিতে আক্রমণ চালাচ্ছে, তখনো অনেক প্রতিষ্ঠান মানুষের গতিতে প্রতিরক্ষা তৈরি করছে—এটিই অস্বস্তিকর সত্য। প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত তাদের সাইবার প্রতিরক্ষাকে প্রধান পরিচালন অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করা।’

গাইড পয়েন্ট সিকিউরিটির প্রধান নিরাপত্তা প্রকৌশলী ট্র্যাভিস লেলে ঘটনাটিকে সাইবার নিরাপত্তার জন্য একটি ‘সচেতন হওয়ার মতো মুহূর্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এটি একটি পরিচিত ঝুঁকিকে সামনে নিয়ে এসেছে। আক্রমণাত্মক এআই এজেন্টগুলো সম্পূর্ণ বাঁধনহারা, অথচ সেরা প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জামগুলো কঠোর সুরক্ষানীতির পেছনে আটকে থাকে, যা অনেক সময় প্রেক্ষাপট বুঝতে পারে না।’

তবে ইসেট (ESET)-এর বিশ্বব্যাপী সাইবার নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক মুর মনে করেন, এই প্রক্রিয়ার পেছনে বাণিজ্যিক বা প্রতিযোগিতামূলক মাত্রা থাকতে পারে।

তাঁর মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক-এর নতুন ‘ক্লদ মিথোস’ মডেল বেশ সাড়া ফেলার পর ওপেনএআই হয়তো তাদের এআই-এর অবিশ্বাস্য ও অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতার বিষয়টি প্রচার করার কৌশল বেছে নিয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি চীনা এআই স্টার্টআপ ‘মুনশট’ তাদের বিশাল মডেল ‘কিমি কে৩’ (Kimi K3) উন্মোচন করেছে। এই এআই মডেল যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক