শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশিরা কেন মালয়েশিয়াকে পছন্দ করতে পারে?

সুমাইয়া জাফরিন চৌধুরী প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশিরা কেন মালয়েশিয়াকে পছন্দ করতে পারে?

মালয়েশিয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার একটি ভালো গন্তব্য হতে পারে। কারণ, পশ্চিমা অনেক দেশের তুলনায় এখানে টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার খরচ কম। একই সঙ্গে দেশটির অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানের পড়াশোনা, গবেষণা এবং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য মালয়েশিয়ার স্টুডেন্ট ভিসার প্রক্রিয়াও তুলনামূলকভাবে সহজ। সেজন্য অনেকে মালয়েশিয়াকে উচ্চশিক্ষার জন্য নির্বাচন করেন।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো এখানকার পরিচিত পরিবেশ। মালয়েশিয়া একটি মুসলিমপ্রধান দেশ। তাই প্রায় সব ধরনের হালাল খাবার খুব সহজেই পাওয়া যায়। বাংলাদেশি, ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি, আরবিয়ান, তুর্কি, মালয়, চাইনিজসহ বিভিন্ন দেশের হালাল খাবার এখানে পাওয়া যায়। মসজিদ, নামাজের জায়গা এবং ধর্মীয় পরিবেশ থাকায় মুসলিম শিক্ষার্থীদের মানিয়ে নিতে খুব বেশি সমস্যা হয় না।

 

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তবে মালয়েশিয়া শুধু মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্যই নয়, অমুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি ভালো ও স্বস্তিদায়ক দেশ। এখানে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ একসঙ্গে বসবাস করেন। অমুসলিম শিক্ষার্থীরা নিজেদের ধর্ম পালন, পছন্দের খাবার খাওয়া এবং নিজস্ব সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবনযাপন করার সুযোগ পান। দেশটিতে মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ও রয়েছে।

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় মালয়েশিয়া বেশ নিরাপদ ও পরিবারবান্ধব একটি দেশ। এখানকার জীবনযাপন, আবহাওয়া, খাবার, পোশাক, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অনেক কিছুই বাংলাদেশের সঙ্গে মিলে যায়। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে ভালোবেসে মালয়েশিয়াকে “প্রিমিয়াম বাংলাদেশ” বলি। কারণ, এখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়, আবার একই সঙ্গে দেশের মতো পরিচিত পরিবেশও অনুভব করা যায়।

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার দূরত্বও খুব বেশি নয়। নিয়মিত সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে এবং দুই দেশের সময়ের পার্থক্য মাত্র দুই ঘণ্টা। ফলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সহজ এবং জরুরি প্রয়োজনে তুলনামূলকভাবে দ্রুত দেশে যাওয়া যায়।

মালয়েশিয়া একটি বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক দেশ। এখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা পড়তে আসেন। ফলে পড়াশোনার পাশাপাশি ভিন্ন দেশের মানুষ, সংস্কৃতি ও জীবনযাপন সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়। এর মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও পেশাগত নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারেন।

মাস্টার্স ও পিএইচডির জন্য কী ধরনের সুযোগ রয়েছে?

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা মালয়েশিয়ায় মাস্টার্স ও পিএইচডির জন্য বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ ও গবেষণা সহায়তার সুযোগ খুঁজতে পারেন। যেমন Malaysian International Scholarship বা MIS, Malaysian Technical Cooperation Programme বা MTCP Scholarship এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্কলারশিপ।

অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ভালো একাডেমিক ফলাফল, গবেষণার বিষয় এবং শিক্ষার্থীর যোগ্যতার ভিত্তিতে টিউশন ফি কমানো বা স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডির শিক্ষার্থীরা কোনো কোনো ক্ষেত্রে গবেষণা প্রকল্পের অধীনে মাসিক ভাতা পেতে পারেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রকল্পে Research Assistant বা RA হিসেবে কাজ করার সুযোগও থাকতে পারে। কিছু বিভাগে Teaching Assistant হিসেবে শিক্ষককে ক্লাস, ল্যাব বা শিক্ষার্থীদের কাজ মূল্যায়নে সহায়তা করার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে এসব সুযোগ বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ, সুপারভাইজারের গবেষণা তহবিল এবং প্রকল্পের ওপর নির্ভর করে। তাই ভর্তি হওয়ার আগে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় বা সম্ভাব্য সুপারভাইজারের সঙ্গে যোগাযোগ করা ভালো।

মাস্টার্সের জন্য কোন ধরনের প্রোগ্রাম নির্বাচন করা উচিত?

মালয়েশিয়ায় সাধারণত তিন ধরনের মাস্টার্স প্রোগ্রাম রয়েছেCoursework Master’s: এখানে নিয়মিত ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন ও পরীক্ষা থাকে। যাঁরা চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা বাড়াতে চান, তাঁদের জন্য এটি ভালো হতে পারে।

Research Master’s: এখানে একজন সুপারভাইজারের অধীনে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে গবেষণা করে থিসিস লিখতে হয়। ভবিষ্যতে পিএইচডি করতে চাইলে এই ধরনের মাস্টার্স বেশি উপকারী।

Mixed-mode Master’s: এখানে ক্লাস ও গবেষণা—দুটিই থাকে। যাঁরা পড়াশোনা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা একসঙ্গে নিতে চান, তাঁরা এটি বেছে নিতে পারেন।

প্রোগ্রাম নির্বাচনের আগে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, আগ্রহ, সময়, খরচ এবং গবেষণার ইচ্ছা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সুপারভাইজার নির্বাচন কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

মাস্টার্স বা পিএইচডির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ভালো সুপারভাইজার নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষার্থীর গবেষণার বিষয় এবং সুপারভাইজারের কাজের ক্ষেত্র কাছাকাছি হওয়া প্রয়োজন।

আবেদন করার আগে সম্ভাব্য সুপারভাইজারের গবেষণার বিষয়, প্রকাশিত গবেষণাপত্র, চলমান প্রজেক্ট এবং তিনি আগে কোন ধরনের শিক্ষার্থীকে তত্ত্বাবধান করেছেন—এসব দেখে নেওয়া ভালো।

সুপারভাইজারকে ই-মেইল করার সময় নিজের পরিচয়, পড়াশোনার বিষয়, গবেষণার আগ্রহ এবং কেন তাঁর অধীনে কাজ করতে চান, তা সংক্ষেপে লিখতে হবে। সঙ্গে সিভি ও ছোট একটি গবেষণা প্রস্তাবনা দেওয়া যেতে পারে।

মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে?

বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় নির্বাচন

প্রথমে নিজের পছন্দ, যোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের সঙ্গে মিল রেখে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম নির্বাচন করতে হবে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং দেখলে হবে না। প্রোগ্রামটি স্বীকৃত কি না, পড়াশোনার মান কেমন, মোট খরচ কত এবং ইন্টার্নশিপ বা গবেষণার সুযোগ রয়েছে কি না, তা দেখতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

সাধারণত যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে—পাসপোর্ট, একাডেমিক সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট, সিভি, রিকমেন্ডেশন লেটার, ইংরেজি দক্ষতার সার্টিফিকেট (IELTS Academic,TOEFL iBT, Linguaskill, Duolingo English Test ইত্যাদি) , গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামের জন্য রিসার্চ প্রপোজাল, পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে কাগজপত্র ও যোগ্যতার নিয়ম আলাদা হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখে আবেদন করা উচিত।

 

Education Malaysia Global Services (EMGS) 

EMGS হলো মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় (Ministry of Higher Education Malaysia) কর্তৃক নিযুক্ত একটি সরকারি সংস্থা, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি-পরবর্তী সকল শিক্ষা-সংক্রান্ত ইমিগ্রেশন ও ভিসা প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। EMGS শিক্ষার্থীদের Student Pass (স্টুডেন্ট ভিসা) আবেদন প্রক্রিয়াকরণ, মেডিকেল স্ক্রিনিং, স্বাস্থ্যবীমা, ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত অনুমোদন এবং আবেদন অগ্রগতির অনলাইন ট্র্যাকিংসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করে। এর মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকে সহজ, স্বচ্ছ, দ্রুত এবং কার্যকর করে তোলা, যাতে তারা নির্বিঘ্নে তাদের শিক্ষাজীবন শুরু করতে পারে।

ভিসা প্রসেসিং

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটার পাওয়ার পর স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় পাসপোর্ট, একাডেমিক কাগজপত্র, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়।

ভিসার কাজ সময় নিয়ে করা ভালো। কোনো কাগজে ভুল থাকলে বা পাসপোর্টের মেয়াদ কম থাকলে ভিসা পেতে দেরি হতে পারে।

আবাসন ও খরচের পরিকল্পনা

বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল, স্টুডেন্ট আবাসন অথবা ক্যাম্পাসের কাছাকাছি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকা যায়। কুয়ালালামপুর ও সেলাঙ্গরের কিছু এলাকায় বাসাভাড়া বেশি হতে পারে। অন্য শহরে তুলনামূলক কম খরচে থাকা সম্ভব।

শুধু টিউশন ফি নয়, বাসাভাড়া, খাবার, বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট, যাতায়াত, চিকিৎসা, বিমা এবং ভিসা নবায়নের খরচও আগে থেকে হিসাব করা দরকার।

মালয়েশিয়ায় একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মানিয়ে নেওয়া কতটা সহজ?

মালয়েশিয়ার আবহাওয়া অনেকটাই বাংলাদেশের মতো। সারা বছর গরম থাকে এবং নিয়মিত বৃষ্টি হয়। তাই আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাধারণত বেশি সমস্যা হয় না।

এখানকার মানুষও সাধারণত ভদ্র ও সহযোগিতাপূর্ণ। ইংরেজি ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়, দোকান, হাসপাতাল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় কাজ করা যায়। তবে দৈনন্দিন জীবনে কিছু সাধারণ মালয় শব্দ শিখে নিলে আরও সুবিধা হয়।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি খাবারের রেস্টুরেন্ট, মসলা, মাছ, সবজি ও পরিচিত অনেক পণ্য সহজেই পাওয়া যায়। রমজান, ঈদ ও অন্যান্য ধর্মীয় পরিবেশও বাংলাদেশের মতোই অনুভব করা যায়। এ কারণে নতুন শিক্ষার্থীরা খুব বেশি একাকিত্ব অনুভব না করে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেন।

পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করা যায় কি?

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য মালয়েশিয়ায় কাজ করার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে ইচ্ছামতো নিয়মিত চাকরি করা যায় না। তাই পার্টটাইম কাজ করে সম্পূর্ণ টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার খরচ চালানো যাবে—এমন পরিকল্পনা নিয়ে মালয়েশিয়ায় আসা ঠিক নয়। আসার আগে পড়াশোনা ও থাকার খরচের ব্যবস্থা রাখা উচিত।

পড়াশোনার সময় ক্যারিয়ারের জন্য কী প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?

মালয়েশিয়ায় পড়তে এসে শুধু ক্লাস ও পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। নিজের যোগাযোগ দক্ষতা, ইংরেজিতে কথা বলা ও লেখার ক্ষমতা, প্রেজেন্টেশন, গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার, ওয়ার্কশপ, ক্যারিয়ার ফেয়ার, কনফারেন্স ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা যেতে পারে। এতে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং পেশাগত যোগাযোগ তৈরি করার সুযোগ হয়।

ইন্টার্নশিপের সুযোগ থাকলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। LinkedIn-এ একটি ভালো প্রোফাইল তৈরি করে নিজের শিক্ষা, গবেষণা, প্রজেক্ট, স্বেচ্ছাসেবী কাজ এবং দক্ষতা যোগ করলে চাকরি খোঁজার সময় সুবিধা পাওয়া যায়।

পড়াশোনা শেষে মালয়েশিয়ায় ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ কেমন?

মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা শেষে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিক্ষা, গবেষণা ও ডিজিটাল খাতে দক্ষ মানুষের প্রয়োজন রয়েছে।

তবে বিদেশিদের জন্য চাকরি পাওয়া সব সময় সহজ নয়। অনেক চাকরিতে মালয়েশিয়ার নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। একজন বিদেশিকে নিয়োগ দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানকে তার জন্য প্রয়োজনীয় ওয়ার্ক পারমিট বা Employment Pass-এর ব্যবস্থা করতে হয়।

যারা পড়াশোনার সময় ইন্টার্নশিপ করেন, ভালো যোগাযোগ তৈরি করেন, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করেন এবং ইংরেজিতে ভালোভাবে যোগাযোগ করতে পারেন, তাদের চাকরির সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।

মালয়েশিয়ার কোন কোন এলাকায় বাংলাদেশিরা বেশি থাকেন?

কুয়ালালামপুর, সেলাঙ্গর, জোহর বাহরু, পেনাং এবং মেলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী রয়েছেন। বিশেষ করে কুয়ালালামপুর ও সেলাঙ্গরে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি বেশি।

এসব এলাকায় বড় বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, গণপরিবহন বেশি রয়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটি থাকায় নতুন শিক্ষার্থীদের বাসা, খাবার ও প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে সুবিধা হয়।

তবে শুধু বাংলাদেশিরা বেশি থাকেন বলে কোনো এলাকা বা বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করা উচিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মান, নিরাপত্তা, যাতায়াত, খরচ এবং পড়াশোনার পরিবেশকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

মালয়েশিয়ায় পড়াশোনার ক্ষেত্রে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ হতে পারে?

মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার অনেক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হতে পারে। সব বিশ্ববিদ্যালয় ও একাডেমিক প্রোগ্রামের মান সমান নয়, তাই ভর্তি হওয়ার আগে যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। এছাড়া স্কলারশিপ পাওয়া বেশ প্রতিযোগিতামূলক । কুয়ালালামপুরসহ কিছু শহরে বাসাভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলক বেশি হতে পারে। গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের গবেষণার কাজ শেষ করতে নিয়মিত পরিশ্রম ও সময় ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন । পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা আগে থেকেই করা উচিত। ভিসা, পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য ইন্সুরেন্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মেয়াদ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাই এজেন্ট বা পরিচিত কারও কথার ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য যাচাই করা উচিত।

শেষ কথা

মালয়েশিয়ায় আধুনিক শিক্ষা, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপদ পরিবেশ এবং তুলনামূলক কম খরচে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে এখানে হালাল খাবার, ধর্মীয় পরিবেশ, বাংলাদেশের মতো আবহাওয়া এবং পরিচিত সংস্কৃতি পাওয়া যায়।

এই পরিচিত পরিবেশ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার মিশ্রণের কারণেই আমি ব্যক্তিগতভাবে মালয়েশিয়াকে “প্রিমিয়াম বাংলাদেশ” বলে থাকি। তবে উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়, প্রোগ্রাম, মোট খরচ, স্কলারশিপ, ভিসা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের সুযোগ ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

সঠিক পরিকল্পনা, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা নিয়ে আসতে পারলে মালয়েশিয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গড়ার একটি ভালো জায়গা হতে পারে।

লেখিকা: সহ-প্রতিষ্ঠাতা, ইয়ুথ হাব ফাউন্ডেশন বারহাদ, মালয়েশিয়া ও ইয়ুথ কানেক্ট ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক