শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

অভিবাসী গাছকে স্বাগত, কিন্তু অভিবাসী মানুষকে কেন ভয়?

আহমাদুল কবির মালয়েশিয়া প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৯:২২ পিএম
অভিবাসী গাছকে স্বাগত, কিন্তু অভিবাসী মানুষকে কেন ভয়?

জোহরের বিস্তীর্ণ পাম অয়েল বাগান কিংবা সেলাঙ্গরের রাবার বাগানে হাঁটলে মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক সাফল্যের এক নীরব ইতিহাস চোখে পড়ে। দক্ষিণ আমেরিকার অ্যামাজন থেকে আসা রাবার গাছ এবং পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আসা তেলপামই আজ দেশটির অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ভিত্তি। একসময় এ দুটিই ছিল ‘অভিবাসী’। অথচ সেই মালয়েশিয়াতেই বিদেশি শ্রমিক, বিশেষ করে অভিবাসীদের নিয়ে বিরূপ মনোভাব ক্রমেই বাড়ছে।

তান শ্রী ওমর সেন্টার ফর এসটিআই পলিসি স্টাডিজ, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির গবেষক এবং ইউনিভার্সিটি মালয়ার তুংকু আজিজ সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের অ্যাডজাঙ্ক্ট অধ্যাপক প্রফেসর দাতুক ড. আহমদ ইব্রাহিম সম্প্রতি মালয় মেইল-এ প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে এ বৈপরীত্যের বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা অভিবাসী বীজকে ভালোবাসতে শিখেছি, কিন্তু অভিবাসী মানুষকে ভালোবাসতে ভুলে গেছি।’

প্রফেসর আহমদ ইব্রাহিমের মতে, আজকের বিশ্বে অভিবাসীবিরোধী মনোভাবের পেছনে রয়েছে অন্তত তিনটি প্রধান কারণ। প্রথমত, ‘আদিবাসী’ হওয়ার এক কৃত্রিম ধারণা। প্রায় প্রতিটি দেশই এমন একটি জাতীয় ইতিহাস নির্মাণ করেছে, যেখানে মনে হয় দেশ, মাটি ও মানুষ বরাবরই এক ও অভিন্ন ছিল। যুক্তরাষ্ট্র তার ‘প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের’ স্মরণ করলেও তাঁরা যে একসময় ব্রিটিশ অভিবাসী ছিলেন, তা খুব কমই আলোচিত হয়। অস্ট্রেলিয়া ‘অ্যানজ্যাক’ ঐতিহ্য উদযাপন করলেও উপনিবেশ স্থাপনের ইতিহাসের অন্ধকার দিকগুলো আড়ালে থেকে যায়। ব্রাজিল বৈচিত্র্যের কথা বললেও দেশের ভেতরের অভ্যন্তরীণ অভিবাসীরাও বৈষম্যের শিকার হন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তাঁর মতে, প্রতিটি দেশই একসময় আগন্তুকদের নিজেদের সমাজের অংশ হিসেবে গ্রহণ করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নতুন অভিবাসীদের জন্য দরজা বন্ধ করে দেয়। যেমন, এক শতাব্দীর বেশি আগে মালয়েশিয়ায় আসা তেলপাম আজ ‘দেশীয়’ হিসেবে বিবেচিত হলেও কয়েক বছর আগে আসা একজন শ্রমিক এখনও ‘বিদেশি’।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন অর্থনীতির জায়গা দখল করে নেওয়া পরিচয়-রাজনীতিকে। রাবার বা তেলপাম সীমান্ত পেরিয়ে এলে তা অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাড়ায়। কিন্তু মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে এলে সঙ্গে নিয়ে আসে ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও ভিন্ন পরিচয়। একটি গাছ কখনও ধর্মীয় ছুটি চায় না কিংবা আলাদা খাদ্যব্যবস্থার দাবি তোলে না। কিন্তু একজন অভিবাসী মানুষ দৃশ্যমান, আলাদা এবং সহজেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন।

মজুরি স্থবির হয়ে পড়া, আবাসন সংকট বা অর্থনৈতিক চাপের মতো সমস্যার জন্যও প্রায়ই অভিবাসীদের দায়ী করা হয়। অথচ গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদে অভিবাসন অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে। কিন্তু সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের আশঙ্কা অনেক সময় বাস্তব অর্থনৈতিক তথ্যের চেয়েও বেশি প্রভাব বিস্তার করে।

তৃতীয় কারণ হলো অভিবাসনের গতি ও ব্যাপকতা। অতীতে রাবার বা তেলপাম ধীরে ধীরে নতুন দেশে এসেছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে যুদ্ধ, দারিদ্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মানুষের অভিবাসন ঘটে দ্রুত এবং তাৎক্ষণিকভাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা সীমান্তে মানুষের ভিড় দেখি, কিন্তু তাদের দেশ ছাড়ার পেছনের কারণগুলো খুব কমই দেখি। ফলে একটি পরিবারের আশ্রয়প্রার্থনাও অনেকের কাছে ‘আক্রমণ’ বলে মনে হয়।

প্রফেসর আহমদ ইব্রাহিম মনে করেন, সবচেয়ে বড় সত্য হলো আজ যে দেশগুলো অভিবাসীদের বিরোধিতা করছে, তাদের প্রায় প্রত্যেকটির উন্নয়ন ও রাষ্ট্রগঠন অভিবাসীদের হাত ধরেই হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্সকন্টিনেন্টাল রেলপথ নির্মাণে আইরিশ ও চীনা শ্রমিকদের অবদান, অস্ট্রেলিয়ার যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে গ্রিক, ইতালীয় ও ভিয়েতনামি অভিবাসীদের ভূমিকা কিংবা ব্রাজিলের কফি শিল্পে জাপানি ও লেবানিজ অভিবাসীদের অবদান তারই উদাহরণ।

একইভাবে মালয়েশিয়ার রাবার ও পাম অয়েল শিল্প এখনও ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ ও নেপালের শ্রমিকদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাঁদের ছাড়া বাগান, কারখানা এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো বড় ধরনের সংকটে পড়বে।

তিনি লিখেছেন, অভিবাসীদের প্রতি বিরূপ মনোভাব অর্থনৈতিক প্রয়োজন নয়; বরং এটি একটি নৈতিক ব্যর্থতা। মানুষ গাছকে সহজেই গ্রহণ করতে পারে, কিন্তু মানুষকেই গ্রহণ করতে চায় না। অথচ ইতিহাস বলছে, দুই-তিন প্রজন্ম পর অভিবাসীরাই নতুন সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। মালয়েশিয়ার তেলপাম আজ আর আফ্রিকাকে মনে রাখে না, রাবার গাছও অ্যামাজনের কথা ভাবে না।

প্রবন্ধের শেষাংশে তিনি সতর্ক করে বলেন, অভিবাসীবিরোধী এই মনোভাব একদিন হয়তো কেটে যাবে। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে সমাজ ও রাষ্ট্র কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের মূল্যায়ন করবে কীভাবে মানবসম্পদকে লালনকারী দূরদর্শী সমাজ হিসেবে, নাকি এমন সংকীর্ণ মানসিকতার জাতি হিসেবে, যারা মানুষকে নয়, গাছকেই বেশি ভালোবেসেছিল।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক