শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শেকড়ের টানে এক সন্ধ্যা:

মালয়েশিয়ায় এমবিএফএ-এর কালচারাল নাইট, প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির প্রাণবন্ত আয়োজন

আহমাদুল কবির মালয়েশিয়া প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ১:২৫ পিএম
মালয়েশিয়ায় এমবিএফএ-এর কালচারাল নাইট, প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির প্রাণবন্ত আয়োজন

হাজার মাইল দূরে প্রবাসজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বন্ধন অটুট রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে শেকড়ের পরিচয় পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ফোরাম অ্যাসোসিয়েশন (এমবিএফএ)-এর ফ্যামিলি ঈদ ডিনার ও কালচারাল নাইট। পরিবার-পরিজনের অংশগ্রহণ, শিশু-কিশোরদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানী কুয়ালালামপুরের বুকিত কিয়ারার কুয়েস্ট্রেইন রিসোর্টে বীরজায়া হলে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার (লেবার) সিদ্দিকুর রহমান।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এমবিএফএ-এর সাংগঠনিক সম্পাদক জাফর ফিরোজ ও অপূর্ব মোহনার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি প্রফেসর ডা. আবুল বাশার।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, কূটনীতিক, কমিউনিটি নেতা, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শিক্ষার্থী এবং পরিবার-পরিজনসহ বিপুলসংখ্যক সদস্য ও অতিথি অংশ নেন। ঈদ পুনর্মিলনীর আবহে অনুষ্ঠানটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ঐক্যের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন এমবিএফএ-এর আর্ট, কালচার অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রাম (এসিএলপি)-এর শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাহেব আল আলম। পরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। নতুন সদস্য পরিচিতি, এমবিএফএ-এর বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, অতিথিদের বক্তব্য এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

 

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাংস্কৃতিক পর্ব। বাংলাদেশি ও মালয়েশিয়ান শিল্পী পুয়ান শ্রী আইশা এবং চিক পুয়ান হানিমের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। পাশাপাশি এসিএলপি-এর শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের গান, নৃত্য ও আবৃত্তিতে ফুটে ওঠে বাংলা ভাষা, লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নানা অনুষঙ্গ। র‍্যাফেল ড্র, পারিবারিক আড্ডা এবং নৈশভোজ অনুষ্ঠানে উৎসবের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। র‍্যাফেল ড্র পরিচালনা করেন ইঞ্জিনিয়ার রনি মিনহাজ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিনিস্টার (লেবার) সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বিদেশে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা, শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসে জন্ম নেওয়া শিশুদের মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

তিনি এমবিএফএ-এর উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ভাষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত সময়োপযোগী। একই সঙ্গে তিনি সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি প্রবাসীদের কল্যাণে সংগঠনের ভূমিকা জোরদারের আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই সফল আয়োজন প্রমাণ করেছে যে প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিরা ঐক্য, সহযোগিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী কমিউনিটি গড়ে তুলতে সক্ষম। ভবিষ্যতেও এমবিএফএ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বন্ধুত্ব, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং প্রবাসী কমিউনিটির উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রবাসের মাটিতে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশকে ব্র্যান্ডিং করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে প্রবাসী সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা, সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক চর্চা আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের সফল বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য এমবিএফএ-এর সদস্য, কার্যনির্বাহী কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক, স্পন্সর, অংশীদার, শিল্পী, গণমাধ্যমকর্মী এবং উপস্থিত অতিথিদের প্রতি সংগঠনের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ফোরাম অ্যাসোসিয়েশন (এমবিএফএ) বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত। মালয়েশিয়ার রেজিস্ট্রার অব সোসাইটিজ (আরওএস)-এর অধীনে নিবন্ধিত অরাজনৈতিক ও ধর্মনিরপেক্ষ এই সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে।

সংগঠনের নেতাদের মতে, এক দশকেরও বেশি সময়ের ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডের ফলে এমবিএফএ প্রবাসী বাংলাদেশিদের পারস্পরিক যোগাযোগ, সামাজিক বন্ধন ও সাংস্কৃতিক চর্চার অন্যতম নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

প্রবাসে জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে ২০১৯ সালের নভেম্বরে কুয়ালালামপুরে চালু করা হয় এমবিএফএ-এর আর্ট, কালচার অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রাম (এসিএলপি)। সংগীত, নৃত্য ও বাংলা ভাষা শিক্ষার সমন্বয়ে পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি তাদের মধ্যে বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয় ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে।

বর্তমানে এসিএলপি নিয়মিত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও বিশেষ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব কার্যক্রম শিশুদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা এবং মাতৃভাষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের অভিমত, এমবিএফএ-এর এ ধরনের আয়োজন কেবল বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা গড়ে তোলার একটি কার্যকর উদ্যোগ। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সামাজিক বন্ধন ও ঐক্য আরও সুদৃঢ় করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রবাসীদের প্রত্যাশা, এমবিএফএ-এর ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের শেকড়ের সঙ্গে আরও গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৫ পিএম
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, করলা, পটল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা ও ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে কাঁচামরিচ ও টমেটোর দামও ঊর্ধ্বমুখী।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে লম্বা বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও একই ধরনের বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল।

করলা এখন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে উঠেছে। ঝিঙা ও ধুন্দলের ক্ষেত্রেও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা পেপের দাম অবশ্য আগের মতোই প্রায় ৩০ টাকা কেজি রয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাজারে সবজির পাশাপাশি মাছের দামেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। আকারভেদে রুই মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২২০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। ফার্মের ডিম, ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির দাম মোটামুটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি প্রায় ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম সামান্য বাড়লেও বাজারে তা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ডজনের মধ্যে রয়েছে। চালের দামেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বড় কোনো প্রভাব এখনো দেখা যায়নি।

পরিবহন খরচের প্রভাব, নাকি বাড়তি মুনাফা?

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। যশোর থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সবজি পরিবহনের উদাহরণ দিয়ে এক ব্যবসায়ী জানান, আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া প্রায় ১৮ হাজার টাকা থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তা বেড়ে ২১ হাজার টাকার কাছাকাছি হয়েছে। এতে বেগুনসহ অন্যান্য সবজির পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দর কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। এর আগে চলতি বছর এপ্রিল ও জুনেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের যুক্তি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজার পর্যন্ত পণ্য আনতে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। সেই ব্যয়ের একটি অংশ খুচরা মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় যতটা বেড়েছে, তার তুলনায় অনেক পণ্যের দাম খুচরা বাজারে বেশি হারে বাড়ানো হচ্ছে। তাদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব থাকলেও একবারে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর যৌক্তিকতা সব ক্ষেত্রে নেই। বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে দুধ, আটা ও ময়দার দামেও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও একই পরিমাণ দাম বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহকারী কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আটা ও ময়দার দামও বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটারে প্রায় চার টাকা বাড়ার পর দুই লিটারের একটি বোতল এখন ৪০৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের নতুন দরের প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ব্যবসায়ীরা পরিবহন ব্যয়কে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বললেও ক্রেতারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে খুচরা পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক