শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি

দোহায় পরোক্ষ আলোচনা সমাপ্ত, ‘ইতিবাচক অগ্রগতির’ কথা জানাল কাতার

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩৮ পিএম
দোহায় পরোক্ষ আলোচনা সমাপ্ত, ‘ইতিবাচক অগ্রগতির’ কথা জানাল কাতার

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় দেখা যাচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত পরোক্ষ কারিগরি আলোচনা ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’র মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। কাতার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (MoU) বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষ ফলপ্রসূ আলোচনা করেছে।

অন্যদিকে তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সাথে এই চুক্তির কোনো শর্ত লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে সরাসরি আলোচনা এবং রিপোর্ট করার জন্য একটি বিশেষ ‘যোগাযোগ চ্যানেল’ বা ‘কমিউনিকেশন চ্যানেল’ স্থাপন করা হবে।

একই সাথে মার্কিন রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে, ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বা ‘ডিনিউক্লিয়ারাইজেশন’ প্রক্রিয়া বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে চলছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তবে এই শান্তি প্রক্রিয়ার সমান্তরালে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলে, বিশেষ করে ইরাক এবং ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে চরম উত্তেজনা এবং সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইরাকে মার্কিন ডলার সরবরাহ শুরু

নিউইয়র্ক টাইমসের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘ কয়েক মাস স্থগিত রাখার পর যুক্তরাষ্ট্র অবশেষে ইরাকে বিমানযোগে মার্কিন ডলারের চালান পাঠানো পুনরায় শুরু করেছে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির দুই জন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টার বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

এর আগে, ইরাক সরকারকে ইরানের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখার জন্য চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে ওয়াশিংটন এই ডলার সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে আল জাজিরা স্বাধীনভাবে এই রিপোর্টের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।

উল্লেখ্য, ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইরাকে সক্রিয় ইরান-পন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বারবার উপসাগরীয় দেশগুলো এবং জর্ডানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। শুধু তাই নয়, বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসসহ ইরাকের অভ্যন্তরে বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনা ও স্বার্থকে লক্ষ্য করেও একের পর এক হামলা চালানো হয়েছিল, যা ওই অঞ্চলে ওয়াশিংটনকে চরম বেকায়দায় ফেলে দেয়। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরাকের অর্থনীতি সচল রাখতে এবং বাগদাদের ওপর প্রভাব ধরে রাখতেই যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাড়িঘর ভাঙচুর ও গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যখন কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে বরফ গলার আভাস মিলছে, ঠিক তখনই অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। গতকাল রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক অভিযান, ভাঙচুর ও ফিলিস্তিনি নাগরিকদের গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমগুলো বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণ দিয়েছে।

নাবলুসে মধ্যরাতের অভিযান: ভোররাতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নাবলুস শহরে আকস্মিক প্রবেশ করে। তারা বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনি বাড়িঘরে জোরপূর্বক তল্লাশি চালায় এবং সাধারণ বাসিন্দাদের দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এতে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ডুমা গ্রামে কৃষি ভবন ধ্বংস: নাবলুসের দক্ষিণে অবস্থিত ডুমা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি ভবন বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

সালফিতে দুই ভবন ধ্বংস ও আটক: সালফিতের কাফর আদ-দিক শহরের পশ্চিমে অবস্থিত খাল্লাত আল-হারামিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী দুটি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। এই অভিযানের সময় অন্তত পাঁচজন ফিলিস্তিনি নাগরিককে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটক রেখে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

রামাল্লায় ফিলিস্তিনি বাড়ি দখল: রামাল্লার উত্তরে আতারা শহরে ইসরায়েলি সেটলার বা অবৈধ অভিবাসীদের একটি বড় দল এক ফিলিস্তিনির বাড়ি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সেনাদের মদদেই এই দখলদারিত্বের ঘটনা ঘটেছে।

বেথলেহেমে সামরিক তৎপরতা: বেথলেহেমের দক্ষিণে অবস্থিত আল-খাদের শহরেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রবেশ করেছে এবং সেখানে সামরিক টহল জোরদার করা হয়েছে।

এছাড়াও, গত এপ্রিল মাসে নাবলুসের আল-লুব্বান আশার্কিয়া গ্রামের উপকণ্ঠে ইসরায়েলি সেটলারদের হামলায় ধ্বংস হওয়া একটি যানের ছবি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যা পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর নিয়মতান্ত্রিক সহিংসতারই বহিঃপ্রকাশ।

উত্তর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন

পশ্চিম তীরের আরেকটি সংবেদনশীল ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উত্তর পশ্চিম তীরের ‘মুখমাস’ নামক একটি গ্রামে বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি নাগরিক প্রবেশ করার পর থেকে তাদের সাথে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

এই ঘটনার পর ইসরায়েলি কমান্ডো এবং নিরাপত্তা বাহিনী মুখমাস গ্রামে অত্যন্ত আগ্রাসী অভিযান শুরু করেছে। সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি বা অপহরণের আশঙ্কা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে পুরো এলাকায় ‘ব্যাপক তল্লাশি’ চালানো হচ্ছে এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনী এই বিষয়ে সার্বক্ষণিক আপডেট দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে আসলে কী রয়েছে?

১৭ জুনের সমঝোতা স্মারকের মূল ভিত্তি হলো ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর কঠোর আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ এবং এর বিনিময়ে তেহরানের ওপর থেকে ধাপে ধাপে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।

এবারের দোহা আলোচনায় কারিগরি বিষয়গুলো নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানো, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) পরিদর্শকদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়া এবং ইরানের জব্দকৃত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তহবিল ছাড় করা। ওআইসি এবং কাতার এই চুক্তির মধ্যস্থতায় বড় ভূমিকা পালন করছে।

ইসরায়েল কি এই চুক্তি নস্যাৎ বা সাবোটাজ করতে পারে?

এই চুক্তির সবচেয়ে বড় বিরোধী পক্ষ হলো ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ও সামরিক নেতৃত্ব বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানের সাথে যেকোনো ধরনের শিথিল চুক্তি তারা মেনে নেবে না। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বর্তমান সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং গাজা ও লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা জিইয়ে রাখার পেছনে একটি বড় উদ্দেশ্য হলো এই শান্তি আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করা।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসরায়েল যদি ইরানের অভ্যন্তরে কোনো গোপন পরমাণু কেন্দ্রে বা পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের ওপর গুপ্ত হামলা চালায়, তবে এই পুরো সমঝোতা প্রক্রিয়াটি মুহূর্তের মধ্যে ভেস্তে যেতে পারে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য এমন এক সুতোয় ঝুলছে যেখানে একদিকে চলছে শান্তির জন্য কূটনৈতিক টেবিলের দরকষাকষি, আর অন্যদিকে মাঠে চলছে রক্তক্ষয়ী সামরিক আগ্রাসন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ শান্তিতে রূপ নেয় নাকি ইসরায়েলি বাধায় আবার যুদ্ধের দাবানল জ্বলে ওঠে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ পিএম
এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে কার্গো জাহাজ থেকে ভাসমান টার্মিনালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি খালাস আবার শুরু হয়েছে। এতে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে শিগগিরই দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহেশখালীতে এলএনজি খালাসের কাজ পুনরায় চালু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরবরাহে এর প্রভাব দেখা যায়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা নাগাদ এলএনজি থেকে প্রায় ৭৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। একই সময়ে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যায় প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। সব মিলিয়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় প্রায় ২৩৪ কোটি ঘনফুট।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে হঠাৎ বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। ইন্দোনেশিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে আসা ‘প্যাসিফিক সাকসেস’ নামের একটি কার্গো জাহাজ বৃহস্পতিবার মহেশখালীতে পৌঁছালেও উত্তাল সাগরের কারণে সেটি থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ফলে একটি টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছিল। একপর্যায়ে এলএনজি সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুটে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

চাহিদার তুলনায় এখনো ঘাটতি

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার সেই সরবরাহ কমে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়।

দেশের মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসে। মহেশখালীর সমুদ্র এলাকায় থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় পাইপলাইনে পাঠানো হয়। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি সামিট গ্রুপের।

দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সর্বোচ্চ সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হলে কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো ব্যবস্থায় দ্রুত প্রভাব পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি টার্মিনালে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো মহেশখালীতে পৌঁছে গেলেও সাগরের পরিস্থিতির কারণে সেটি থেকে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে যে পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাওয়ার কথা, তার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার উন্নতি হলে আবার কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বাড়তে থাকে।

এর আগে জুলাইয়ে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পরও দেশে বড় ধরনের গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছিল। প্রায় এক মাস পর আগস্টে টার্মিনালটি পুনরায় চালু হয়। এরপর এলএনজি আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিও কিছুটা উন্নত হচ্ছিল।

এর মধ্যেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন করে এলএনজি খালাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে আবার চাপ তৈরি হয়। শুক্রবার সকালে খালাস পুনরায় শুরু হওয়ায় সেই পরিস্থিতি আপাতত কাটতে শুরু করেছে। তবে দেশের মোট চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো কম থাকায় গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে আমদানি ও এলএনজি খালাস নিয়মিতভাবে চালু থাকার ওপর।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৫ পিএম
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, করলা, পটল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা ও ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে কাঁচামরিচ ও টমেটোর দামও ঊর্ধ্বমুখী।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে লম্বা বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও একই ধরনের বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল।

করলা এখন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে উঠেছে। ঝিঙা ও ধুন্দলের ক্ষেত্রেও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা পেপের দাম অবশ্য আগের মতোই প্রায় ৩০ টাকা কেজি রয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাজারে সবজির পাশাপাশি মাছের দামেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। আকারভেদে রুই মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২২০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। ফার্মের ডিম, ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির দাম মোটামুটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি প্রায় ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম সামান্য বাড়লেও বাজারে তা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ডজনের মধ্যে রয়েছে। চালের দামেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বড় কোনো প্রভাব এখনো দেখা যায়নি।

পরিবহন খরচের প্রভাব, নাকি বাড়তি মুনাফা?

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। যশোর থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সবজি পরিবহনের উদাহরণ দিয়ে এক ব্যবসায়ী জানান, আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া প্রায় ১৮ হাজার টাকা থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তা বেড়ে ২১ হাজার টাকার কাছাকাছি হয়েছে। এতে বেগুনসহ অন্যান্য সবজির পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দর কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। এর আগে চলতি বছর এপ্রিল ও জুনেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের যুক্তি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজার পর্যন্ত পণ্য আনতে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। সেই ব্যয়ের একটি অংশ খুচরা মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় যতটা বেড়েছে, তার তুলনায় অনেক পণ্যের দাম খুচরা বাজারে বেশি হারে বাড়ানো হচ্ছে। তাদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব থাকলেও একবারে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর যৌক্তিকতা সব ক্ষেত্রে নেই। বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে দুধ, আটা ও ময়দার দামেও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও একই পরিমাণ দাম বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহকারী কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আটা ও ময়দার দামও বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটারে প্রায় চার টাকা বাড়ার পর দুই লিটারের একটি বোতল এখন ৪০৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের নতুন দরের প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ব্যবসায়ীরা পরিবহন ব্যয়কে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বললেও ক্রেতারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে খুচরা পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক