প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন: লন্ডনে দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য বইমেলার উদ্বোধন
সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ ইউকের উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘বইমেলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব’। শনিবার দুপুর ১টায় এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। সাহিত্যপ্রেমী, লেখক, গবেষক, কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো মিলনায়তন যেন এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত হয়।
উদ্বোধনী পর্ব ও আলোচনা সভা
বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক রূপা চক্রবর্তী। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অনুবাদক আনিসুজ্জামান এবং বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি শামীম আজাদ।
উদ্বোধনী পর্বে সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ ইউকের সভাপতি কবি মোহাম্মদ ইকবালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কবি উদয় শংকর দুর্জয়ের সঞ্চালনায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক রূপা চক্রবর্তী বলেন,
“প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার স্থান নয়, এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির সেতুবন্ধন তৈরি করে।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অনুবাদক আনিসুজ্জামান বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বপরিসরে পৌঁছে দিতে অনুবাদের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অন্যদিকে, কবি শামীম আজাদ প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে সাহিত্যচর্চার অপরিহার্যতা নিয়ে আলোচনা করেন।
সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান
অনুষ্ঠানে বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ লেখকমাসুক ইবনে আনিসকে ‘সাহিত্য পদক’ প্রদান করা হয়। গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য ‘গুণীজন সম্মাননা’ লাভ করেন গবেষক ফারুক আহমদ। এছাড়া, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদানের জন্য ‘বেস্ট পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ পান হেনা বেগম ও নূরজাহান শিল্পী। ‘ডিস্টিংগুইশড ফ্রেন্ড রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয় শেবুল চৌধুরীকে।
দিনব্যাপী বৈচিত্র্যময় আয়োজন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বইমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। মেলার প্রথম দিনে বই প্রদর্শনী ও বিক্রির পাশাপাশি ছিল স্বাগত বক্তব্য, স্মারক সম্মাননা প্রদান, ‘তৃতীয় বাংলা’র মোড়ক উন্মোচন, ‘শব্দের অনুরণন’ শীর্ষক আবৃত্তি, দশ কবির কবিতা পাঠ, বাংলা সাহিত্যের আন্তর্জাতিকতা নিয়ে সেমিনার, ‘পোয়েট্রি ইন মাল্টি ল্যাঙ্গুয়েজ’ এবং ‘মিট দ্য পাবলিশার্স’সহ নানা আয়োজন।
কবি শামীম আজাদ ও ব্রিটিশ কবি মাইক রেগেটের তত্ত্বাবধানে বিবিপিসি (BBPC)-এর সদস্যরা কবিতা আবৃত্তি, অনুগল্প পাঠ এবং সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিখ্যাত ব্রিটিশ কবি স্টিফেন ওয়াটদ্বিতীয়
দিনের কর্মসূচি ও সাংস্কৃতিক পর্ব
উৎসবের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে রয়েছে নতুন বইয়ের মোড়কউন্মোচন, ‘দুরন্তের প্রতিধ্বনি’, সাহিত্য ও চলচ্চিত্র বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘সাহিত্যে অনুধ্যান’, ‘বিবিপিসি-শামীম আড্ডা’ এবং কবিতা পাঠ। এছাড়া উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে শাহানা বাজপেয়ীর একক সঙ্গীত সন্ধ্যা। প্রথম দিনের সাংস্কৃতিক পর্বেও শাহানা বাজপেয়ী তাঁর চমৎকার সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন।
নেপথ্য কারিগর ও আশাবাদ,
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সংগঠনের সভাপতি কবি মোহাম্মদ ইকবাল এবং সাধারণ সম্পাদক কবি উদয় শংকর দুর্জয়। বিভিন্ন পর্ব পরিচালনায় ছিলেন স্মৃতি আজাদ, হেনা বেগম, ড. আজিজুল আম্বিয়া, রওশনারা মনি, তানজিলা ও লুৎফুন্নাহার। ‘দুরন্ত’-এর কবিদের নিয়ে বিশেষ সাহিত্য পর্ব পরিচালনা করেন কবি আহমদ হোসেন হেলাল ও নোমান আল মনসুর। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মোহাম্মদ মুহিত, আসমা মতিন এবং শামসুল হক শাহ আলম।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই বইমেলা প্রবাসে বাংলা ভাষার বিকাশে এবং নতুন প্রজন্মকে নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।













