হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ’ যাত্রা শুরু, নাগরিক অংশগ্রহণে স্বাস্থ্যনীতি উন্নয়নের প্রত্যয়
দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে নাগরিক অংশগ্রহণ ও গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণকে এগিয়ে নিতে ‘হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ’ নামে একটি নতুন প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে শনিবার ‘Dialogue on Health Parliament Bangladesh 2026’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়েলবিং কেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের স্বাস্থ্যখাতের নীতিনির্ধারক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, তরুণ নেতৃত্ব এবং ২০টিরও বেশি স্বাস্থ্যবিষয়ক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়েলবিং কেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. রাজিকুল হাসান। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের গভর্নিং বডির সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান রাজিব।
আলোচনায় অংশ নেন জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের সিনিয়র ফ্যাকাল্টি ডা. হালিদা হানুম আখতার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আব্দুল হামিদ ও পরিচালক অধ্যাপক শাফিউন নাহিন শিমুল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আসিফ ইকবাল ও ডা. মোহাম্মদ জাকারিয়া রানা, এসইআরএসি-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস. এম. শাইকাত, ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. আদনান হোসাইন, ক্যানসার অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ডা. মোহাম্মদ মাসুমুল হক এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট ডা. এ.এন.এম. এহতেশাম কবির।
বক্তারা বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক, তরুণ নেতৃত্ব ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। এ লক্ষ্যেই ‘হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ’কে একটি নাগরিকভিত্তিক স্বাস্থ্য সংলাপের জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গোলটেবিলে উপস্থাপিত প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসন থেকে ৩০০ জন ‘হেলথ পার্লামেন্ট মেম্বার’ নিয়ে একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক গঠন করা হবে। তাঁরা নিজ নিজ এলাকার স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব সমস্যা, নাগরিকের মতামত ও স্থানীয় চাহিদা সংগ্রহ করে গবেষণাভিত্তিক সুপারিশ প্রণয়ন করবেন এবং তা সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের কাছে উপস্থাপন করবেন।
হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশের ধারণা, কাঠামো ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়েলবিং কেয়ার ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বডির সদস্য মাহমুদুল হাসান।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ সরকারের স্বাস্থ্য অগ্রাধিকার, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (ইউএইচসি) এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের (এসডিজি-৩) লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি নিয়মিত নীতি সংলাপ, স্বাস্থ্য বাজেট বিশ্লেষণ, গবেষণা, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম, অ্যাডভোকেসি এবং তরুণদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নাগরিকভিত্তিক স্বাস্থ্য আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তাঁরা মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, অসংক্রামক রোগ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্যসমতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানান।
গোলটেবিল আলোচনা শেষে ‘হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ’-এর আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয় এবং সংগঠনটির লোগো উন্মোচন করা হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা এটিকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, গবেষণাভিত্তিক ও নাগরিক-অংশগ্রহণমূলক জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানটি হেল্প দ্য ফিউচারের সহ-আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। ইউকে-ভিত্তিক ফার্মা স্টার্টআপ মাই ফার্মা লিমিটেড ছিল পাওয়ারড বাই পার্টনার। সহযোগী হিসেবে ছিল ইডুড্রাইভ, আয়ুশকান্দি আই হসপিটাল ও বিশ্বনাথ আই হসপিটাল। কমিউনিটি পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল জেসিআই ঢাকা ডিপ্লোমেটস, ডিজিটাল মিডিয়া ফোরাম এবং ইয়ুথ কানেক্ট ফাউন্ডেশন।












