শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

স্বল্প টাকার এক কিটেই বদলে যেতে পারে হাম মোকাবিলা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
স্বল্প টাকার এক কিটেই বদলে যেতে পারে হাম মোকাবিলা

ঢাকার একটি বিশেষায়িত পরীক্ষাগারে হাম শনাক্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছেন এক শিশুর বাবা। সকালে নমুনা দিলেও ফল পেতে লাগবে অন্তত একদিন, খরচ প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা। রাজধানীর বাইরে হলে সময় আরও বেশি।

অথচ দেশের বিজ্ঞানীরা বলছেন, একই রোগ মাত্র ২০ মিনিটে শনাক্ত করা সম্ভব, খরচও মাত্র ৭০ থেকে ৮০ টাকা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্ট (বিআরআইসিএম) হাম শনাক্তে দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর একটি আরটি-ল্যাম্প কিট উদ্ভাবন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কিটটি উৎপাদনের সক্ষমতাও তাদের রয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পরিপূর্ণ প্রস্তাবনা পাঠানো হলেও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত না হওয়ায় উদ্যোগটি এখনো মাঠপর্যায়ে পৌঁছায়নি।

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে হাম সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো শনাক্ত ও বিচ্ছিন্ন করা না গেলে এটি দ্রুত বিস্তার লাভ করে। বর্তমানে রোগ শনাক্তে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় আরটি-পিসিআর পরীক্ষা, যা আন্তর্জাতিকভাবে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে স্বীকৃত। তবে এ প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজন ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি, আধুনিক পরীক্ষাগার ও দক্ষ জনবল। ফলে দেশের অধিকাংশ উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে এই সুবিধা নেই। নমুনা সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় ল্যাবে পাঠাতে হয়, যার কারণে রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব এবং ব্যয় দুটোই বাড়ে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এই বাস্তবতায় আরটি-ল্যাম্প প্রযুক্তিকে সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে দেখছেন গবেষকরা। আরটি-ল্যাম্প বা রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন লুপ-মিডিয়েটেড আইসোথার্মাল অ্যাম্পলিফিকেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে ভাইরাসের জেনেটিক উপাদান শনাক্ত করা যায় তুলনামূলক সহজ পদ্ধতিতে। এতে আরটি-পিসিআর এর মতো ব্যয়বহুল থার্মাল সাইক্লারের প্রয়োজন হয় না; সাধারণ তাপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রেই পরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও দ্রুত রোগ নির্ণয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিআরআইসিএমের গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, আরটি-পিসিআর পরীক্ষার ফল পেতে সাধারণত কয়েক ঘণ্টা থেকে একদিন সময় লাগে। বিপরীতে আরটি-ল্যাম্প পরীক্ষায় ২০ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যেই ফল পাওয়া সম্ভব। সংবেদনশীলতার ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিটি ৯০ থেকে ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর, যা প্রাথমিক রোগ শনাক্তের জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সবচেয়ে বড় আকর্ষণ খরচ। বর্তমানে একটি আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় ব্যয় হয় প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ থেকে ৪ হাজার টাকা। বিআরআইসিএমের প্রস্তাবিত দেশীয় আরটি-ল্যাম্প কিট ব্যবহার করলে সেই ব্যয় কমে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ একজন রোগীর ক্ষেত্রে খরচ কমবে প্রায় ৫০ গুণ।

স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদদের মতে, বৃহৎ পরিসরে এ প্রযুক্তি চালু করা গেলে সরকারের স্বাস্থ্যখাতের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং পরীক্ষার আওতায় আরও বেশি মানুষকে আনা সম্ভব হবে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য রোগ নির্ণয়ের খরচ কমানো বড় ধরনের স্বস্তি এনে দেবে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আমদানিনির্ভর ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থার ওপর চাপও কমবে। বর্তমানে বিভিন্ন পরীক্ষার কিট, রিএজেন্ট ও ল্যাব উপকরণের বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা গেলে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। এ বিষয়ে সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও মাইক্রোবাইলোজিস্ট অধ্যাপক ডা. কে এম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারির সময় বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীলতার ঝুঁকি আমরা দেখেছি। তাই দেশীয় সক্ষমতা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।’

তিনি আরও বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। দ্রুত বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন, মাঠপর্যায়ের পরীক্ষামূলক ব্যবহার এবং উৎপাদন পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে দেশের মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।

তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—প্রযুক্তি প্রস্তুত ও উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেন তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না? সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রশাসনিক অনুমোদন, বাজেট বরাদ্দ ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের জটিলতায় প্রস্তাবটি আটকে আছে। কিছু গবেষকের অভিযোগ, অনেক সময় দেশীয় উদ্ভাবনের তুলনায় আমদানিনির্ভর সমাধান বেশি গুরুত্ব পায়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরটি-ল্যাম্প কোনোভাবেই আরটি-পিসিআর এর পূর্ণ বিকল্প নয়; বরং দ্রুত স্ক্রিনিং ও প্রাথমিক রোগ শনাক্তের কার্যকর মাধ্যম। সন্দেহভাজন রোগীকে দ্রুত শনাক্ত করে পরে প্রয়োজন হলে আরটি-পিসিআর এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা যেতে পারে।

ভাইরোলজিস্ট মোহাম্মদ মামুন আলম বলেন, ‘মহামারি বা প্রাদুর্ভাবের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দ্রুত রোগী শনাক্ত করা। আরটি-ল্যাম্প সেই কাজটি অনেক দ্রুত করতে পারে। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এটি বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম।’

একদিকে সাড়ে তিন হাজার টাকার বেশি খরচে একদিন অপেক্ষার পরীক্ষা, অন্যদিকে ৭০ টাকায় ২০ মিনিটে ফলাফল। দেশের বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রযুক্তি তাঁদের হাতে আছে এবং প্রস্তাবনাও জমা দেওয়া হয়েছে। এখন প্রয়োজন দ্রুত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর বাস্তবায়ন। দেশের লাখো শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় কমানোর এই সম্ভাবনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই সামরিক মোতায়েন কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ম্যাক্রোঁ জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমাতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগের অংশ।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুথি মিলিশিয়া সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ পিএম
এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে কার্গো জাহাজ থেকে ভাসমান টার্মিনালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি খালাস আবার শুরু হয়েছে। এতে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে শিগগিরই দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহেশখালীতে এলএনজি খালাসের কাজ পুনরায় চালু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরবরাহে এর প্রভাব দেখা যায়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা নাগাদ এলএনজি থেকে প্রায় ৭৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। একই সময়ে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যায় প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। সব মিলিয়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় প্রায় ২৩৪ কোটি ঘনফুট।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে হঠাৎ বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। ইন্দোনেশিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে আসা ‘প্যাসিফিক সাকসেস’ নামের একটি কার্গো জাহাজ বৃহস্পতিবার মহেশখালীতে পৌঁছালেও উত্তাল সাগরের কারণে সেটি থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ফলে একটি টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছিল। একপর্যায়ে এলএনজি সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুটে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

চাহিদার তুলনায় এখনো ঘাটতি

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার সেই সরবরাহ কমে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়।

দেশের মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসে। মহেশখালীর সমুদ্র এলাকায় থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় পাইপলাইনে পাঠানো হয়। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি সামিট গ্রুপের।

দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সর্বোচ্চ সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হলে কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো ব্যবস্থায় দ্রুত প্রভাব পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি টার্মিনালে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো মহেশখালীতে পৌঁছে গেলেও সাগরের পরিস্থিতির কারণে সেটি থেকে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে যে পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাওয়ার কথা, তার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার উন্নতি হলে আবার কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বাড়তে থাকে।

এর আগে জুলাইয়ে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পরও দেশে বড় ধরনের গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছিল। প্রায় এক মাস পর আগস্টে টার্মিনালটি পুনরায় চালু হয়। এরপর এলএনজি আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিও কিছুটা উন্নত হচ্ছিল।

এর মধ্যেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন করে এলএনজি খালাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে আবার চাপ তৈরি হয়। শুক্রবার সকালে খালাস পুনরায় শুরু হওয়ায় সেই পরিস্থিতি আপাতত কাটতে শুরু করেছে। তবে দেশের মোট চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো কম থাকায় গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে আমদানি ও এলএনজি খালাস নিয়মিতভাবে চালু থাকার ওপর।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৫ পিএম
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, করলা, পটল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা ও ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে কাঁচামরিচ ও টমেটোর দামও ঊর্ধ্বমুখী।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে লম্বা বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও একই ধরনের বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল।

করলা এখন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে উঠেছে। ঝিঙা ও ধুন্দলের ক্ষেত্রেও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা পেপের দাম অবশ্য আগের মতোই প্রায় ৩০ টাকা কেজি রয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাজারে সবজির পাশাপাশি মাছের দামেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। আকারভেদে রুই মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২২০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। ফার্মের ডিম, ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির দাম মোটামুটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি প্রায় ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম সামান্য বাড়লেও বাজারে তা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ডজনের মধ্যে রয়েছে। চালের দামেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বড় কোনো প্রভাব এখনো দেখা যায়নি।

পরিবহন খরচের প্রভাব, নাকি বাড়তি মুনাফা?

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। যশোর থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সবজি পরিবহনের উদাহরণ দিয়ে এক ব্যবসায়ী জানান, আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া প্রায় ১৮ হাজার টাকা থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তা বেড়ে ২১ হাজার টাকার কাছাকাছি হয়েছে। এতে বেগুনসহ অন্যান্য সবজির পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দর কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। এর আগে চলতি বছর এপ্রিল ও জুনেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের যুক্তি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজার পর্যন্ত পণ্য আনতে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। সেই ব্যয়ের একটি অংশ খুচরা মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় যতটা বেড়েছে, তার তুলনায় অনেক পণ্যের দাম খুচরা বাজারে বেশি হারে বাড়ানো হচ্ছে। তাদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব থাকলেও একবারে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর যৌক্তিকতা সব ক্ষেত্রে নেই। বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে দুধ, আটা ও ময়দার দামেও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও একই পরিমাণ দাম বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহকারী কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আটা ও ময়দার দামও বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটারে প্রায় চার টাকা বাড়ার পর দুই লিটারের একটি বোতল এখন ৪০৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের নতুন দরের প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ব্যবসায়ীরা পরিবহন ব্যয়কে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বললেও ক্রেতারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে খুচরা পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক