মিশরে ৪৫ হাজার ডলারসহ বাংলাদেশি ব্যবসায়ী অপহরণ, কৌশলে পালিয়ে দূতাবাসে অভিযোগ
মিশরের রাজধানী কায়রো বিমানবন্দরের বাইরে থেকে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম মো. শরিফুল ইসলাম (পাসপোর্ট নম্বর- A09799701)। তিনি কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার বড়াপাড়া গ্রামের মো. আয়নাল হকের ছেলে। অপহরণকারীরা তার কাছে থাকা প্রায় ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার, পাসপোর্ট ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে তাকে আটকে রাখে। পরে তিনি কৌশলে অপহরণকারীদের কবল থেকে পালিয়ে মিশরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়ে অভিযোগ নেন।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত,
ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম জানান, প্রায় ছয় মাস আগে ঢাকার কাস্টমস অফিসে মিশর প্রবাসী নাসিমা আক্তার নামে এক নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই নারী তাকে মিশর থেকে কমলা, খেজুর, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যবসায় লাভজনক সুযোগের প্রলোভন দেখান। নাসিমা তাকে আশ্বস্ত করেন যে, দূতাবাস থেকে আগাম ভিসার প্রয়োজন নেই, বরং শ্রীলঙ্কা হয়ে ‘ওকে-টু-বোর্ড’ ভিসায় কায়রো আসার সব ব্যবস্থা তিনিই করে দেবেন।
নাসিমা আক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী শরিফুল প্রথমে শ্রীলঙ্কায় যান এবং সেখানে কয়েকদিন অবস্থানের পর গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) কায়রো পৌঁছান। কায়রো বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে আসা অন্য বাংলাদেশিদের প্রবেশের অনুমতি দিলেও শরিফুলকে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রেখে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে। পরে নাসিমা আক্তারের লোকজন ইমিগ্রেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে বিমানবন্দর থেকে বের করে নিয়ে আসেন।
বিমানবন্দর থেকে অপহরণ ও নির্যাতন,
শরিফুল ইসলামের অভিযোগ, বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষমাণ পাঁচ বাংলাদেশি তাকে একটি গাড়িতে তুলে প্রথমে একটি কফি শপে নিয়ে যান। এরপর কায়রো শহর ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলে বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে রাত ১টার দিকে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়। ফ্ল্যাটে ঢোকার পরপরই তার ওপর অতর্কিত হামলা ও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার লাগেজে থাকা নগদ ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার, পাসপোর্ট ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে তাকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।
তিনি আরও জানান, পরদিন রাতে আরও দুই বাংলাদেশি এসে তাকে খাবার ও পানি দেন। এর কিছুক্ষণ পর তাকে আরেকটি গাড়িতে করে অন্য এলাকার একটি ফ্ল্যাটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাকে পুনরায় মারধর করা হয় এবং দেশে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
কৌশলে পলায়ন ও উদ্ধার,
শরিফুল জানান, ঘটনার পরদিন রাত প্রায় ৩টার দিকে অপহরণকারীরা অসতর্ক থাকায় তিনি কক্ষের জানালা দিয়ে পাইপ বেয়ে নিচে নেমে আসেন। এরপর দীর্ঘ চেষ্টার পর কৌশলে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে পৌঁছে আশ্রয় নেন।
বর্তমানে মো. শরিফুল ইসলাম মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে বলে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে।











