শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জিব্রাল্টারের নিচে স্পেন-মরক্কোর স্বপ্নের টানেল: বাস্তবায়িত হলে আধা ঘণ্টায় ইউরোপ থেকে আফ্রিকা

স্পেন প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৫:০৫ এম
জিব্রাল্টারের নিচে স্পেন-মরক্কোর স্বপ্নের টানেল: বাস্তবায়িত হলে আধা ঘণ্টায় ইউরোপ থেকে আফ্রিকা

প্রায় চার দশক ধরে জিব্রাল্টার প্রণালির নিচ দিয়ে একটি টানেল নির্মাণের স্বপ্ন দেখছে স্পেন ও মরক্কো। দীর্ঘদিন আলোচনা ও পরিকল্পনার পর এখন আবারও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এগোতে শুরু করেছে দুই দেশ। তবে প্রকল্পটির সামনে এখনও বড় প্রযুক্তিগত ও ভূতাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই রেল টানেল স্পেনের তারিফা এলাকার পুন্তা পালোমা এবং মরক্কোর তাঞ্জিয়ারের কাছে অবস্থিত কাবো মালাবাতাকে যুক্ত করবে। টানেলটি নির্মিত হলে ইউরোপ থেকে আফ্রিকায় ট্রেনে যেতে সময় লাগবে মাত্র ৩০ মিনিটের মতো।

প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৪২ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ২৭ দশমিক ৭ কিলোমিটার অংশ থাকবে সমুদ্রের নিচে। সবচেয়ে গভীর অংশটি সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ৪৭৫ মিটার নিচ দিয়ে যাবে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের অন্যতম বড় এবং জটিল প্রকৌশল প্রকল্প হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে।

টানেলটির নকশা অনুযায়ী দুটি পৃথক রেলপথ থাকবে, প্রতিটির অভ্যন্তরীণ ব্যাস হবে প্রায় ৮ মিটার। এছাড়া মাঝখানে থাকবে একটি সেবা ও জরুরি ব্যবহারের গ্যালারি, যার মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ ও দুর্ঘটনার সময় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হবে।

এই পথে উচ্চগতির যাত্রীবাহী ট্রেন চলবে। পাশাপাশি পণ্য ও যানবাহন পরিবহনের জন্য বিশেষ ট্রেনও ব্যবহৃত হবে।

স্পেনের পক্ষ থেকে প্রকল্পটি পরিচালনা করছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সেসেগসা। মরক্কোর সরকারও এই সংযোগকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর আওতায় দুই দেশের বিজ্ঞানীরা তিন বছর ধরে জিব্রাল্টার প্রণালির ভূমিকম্প ও ভূ-গঠনগত ঝুঁকি নিয়ে যৌথ গবেষণা করবেন।

এদিকে চলতি বছর স্পেন সরকার প্রকল্প-সংক্রান্ত গবেষণার জন্য অতিরিক্ত ১৭ লাখ ৩০ হাজার ইউরো বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রতলের গঠন, পলি, শিলা ও পরিবেশগত অবস্থা বিশ্লেষণের জন্য আরও একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তবে প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে ‘উমব্রাল দে কামারিনাল’ নামের একটি অঞ্চলকে। এটি জিব্রাল্টার প্রণালির অপেক্ষাকৃত অগভীর অংশ হলেও ভূতাত্ত্বিক দিক থেকে অত্যন্ত জটিল।

এই অঞ্চলের মাটির নিচে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বেলেপাথর ও কাদামাটির স্তর, যা টানেল খননের কাজকে কঠিন করে তুলতে পারে।

আরও বড় উদ্বেগ হলো, জিব্রাল্টার প্রণালি এমন একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত, যা আজোরেস-জিব্রাল্টার-তিউনিস ফল্ট লাইনের অংশ। ১৭৫৫ সালের ভয়াবহ লিসবন ভূমিকম্পও এই ভূ-গঠনগত ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।

এ কারণে প্রকৌশলীরা প্রকল্পটিকে প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব বললেও এটিকে অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল হিসেবে বিবেচনা করছেন।

শুধু ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকিই নয়, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রতি বছর এক লাখের বেশি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করে। এছাড়া এলাকাটি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য বিশেষ সংরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।

এখানে প্রায় ১ হাজার ৯০০ প্রজাতির সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও প্রাণীর উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে ওরকা তিমি সংরক্ষণের জন্য কঠোর পরিবেশগত বিধিনিষেধ মানতে হবে।

প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুধু স্পেনের অংশ নির্মাণেই ৮৫০ কোটি ইউরোর বেশি খরচ হতে পারে। আর পুরো প্রকল্পের ব্যয় ১৫০০ কোটি ইউরোরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই অর্থ স্পেন, মরক্কো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ভাগাভাগি করে বহন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুত সম্ভব নয়। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব গবেষণা ও পরীক্ষার ফল ইতিবাচক হলে ২০২৭ সালে অনুসন্ধানী সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজ শুরু হতে পারে।

সর্বোত্তম পরিস্থিতিতেও টানেলটি ২০৩৫ থেকে ২০৪০ সালের আগে চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, বাস্তবে এটি ২০৪০-এর দশকেই চালু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই টানেল নির্মিত হলে ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যে বাণিজ্য, পরিবহন এবং অর্থনৈতিক যোগাযোগে নতুন যুগের সূচনা হবে। একই সঙ্গে স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তবে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়েও নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইউরোপ ও আফ্রিকাকে রেলপথে যুক্ত করার এই স্বপ্ন এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বাস্তবতার কাছাকাছি হলেও প্রকল্পটির সফলতা নির্ভর করছে আগামী কয়েক বছরের গবেষণা ও প্রযুক্তিগত মূল্যায়নের ওপর।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক